মঙ্গলবার, জানুয়ারী 25, 2022
মঙ্গলবার, জানুয়ারী 25, 2022
মঙ্গলবার, জানুয়ারী 25, 2022
spot_img
Homeছাতকছাতকে ১২যুদ্ধাপরাধির হুমকিতে বাদি পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায়

ছাতকে ১২যুদ্ধাপরাধির হুমকিতে বাদি পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায়

ছাতকে ১২জনের উপর যুদ্ধাপরাধ মামলা করায় চরম বিপাকে পড়েছেন বাদি। ৫অক্টোবর সুনামগঞ্জের আদালতে ১২জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন নোয়ারাই ইউপির রাজারগাঁও গ্রামের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা উস্তার আলীর পুত্র শহীদুল ইসলাম সরু। ১৯৭১সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাও সাধারন মানুষদের হত্যা, লুটপাট, ধর্ষন জ্বালাও-পোড়াওসহ নানা অপরাধের অভিযোগ এনে এমামলা দায়ের করা হয়। আসামিরা হচ্ছে, নোয়ারাই ইউপির আছদনগর গ্রামের মৃত মফিজ আলীর পুত্র আজিজুর রহমান ও সাদক আলী, মৃত ওয়াজিদ আলীর পুত্র রমজান আলী, মৃত চান্দ আলীর পুত্র সিরাজ আলী, মৃত মন্তাজ আলীর পুত্র এতিম উল্লাহ, বেতুরা গ্রামের মৃত সিদ্দিক আলীর পুত্র খোয়াজ আলী, মৃত মুজেফর আলীর পুত্র মুসলিম আলী, মৃত মাহমদ আলীর পুত্র ইছবর আলী, মির্জাপুর গ্রামের মৃত মছদ্দর আলীর পুত্র ইলিয়াছ আলী, মৃত রোছমত আলীর পুত্র ছুরত মিয়া, মৃত ইছাক আলীর পুত্র ছুরাব আলী ও মৃত হুশিয়ার আলীর পুত্র ওয়ারিছ আলী। এজাহারে বলা হয়, ১৯৭১সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আসামিরা সরাসরি মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে স্বক্রিয়ভাবে সহায়তা করে হত্যাকান্ডসহ এলাকার বহু নিরীহ মানুষের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বসতঘরে লুটপাট, গবাদি পশু লুট ও অগ্নিসংযোগ করেছে।

 

এছাড়াও তারা যুবতীদের সম্ভ্রমহানি, ধর্ষণ ও খুন করে লাশ গুম করেছে। ১৯৭১সালের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি (বাংলা ১০ আশ্বিন) বেতুরা গ্রামের কুখ্যাত রাজাকার শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান মতচ্ছির আলী ওরফে ফকির চেয়ারম্যানের বাড়িতে গোপনে বৈঠক করে আসামিরা সরাসরি স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নোয়ারাই ইউপির বিভিন্ন গ্রামে নৃসংসতা ও হত্যাযজ্ঞ চালায়। এসময় মুক্তিযোদ্ধা সূরোজ আলী, মুক্তিযোদ্ধা আয়াত উল¬াহ, জোড়াপানি গ্রামের নুরুল ইসলাম, গোদাবাড়ি গ্রামের সোনাবান বিবি, মুক্তিযোদ্ধা আজব আলী ও বাদির পক্ষের একাধিক ঘর-বাড়ি ভেঙ্গে মূল্যবান জিনিসপত্র, নগদ অর্থ ও গবাদিপশু লুঠে রাজাকাররা ক্যাম্পে নিয়ে যায়। বাংলা ২২আশ্বিন মুক্তিযোদ্ধা উস্তার আলীর বাড়ি থেকে জোড়াপানি গ্রামের আব্দুস ছামাদকে হাত-পাও চোখ বেঁধে বেতুরা গ্রামের সুরমা নদীর পারে লঞ্চঘাটে নিয়ে এরা নির্মমভাবে হত্যা করে। একই স্থানে রাজারগাঁও গ্রামের হাজি ফুলজান বিবি, গোদাবাড়ি গ্রামের সোনা উদ্দিনসহ অঞ্জাত আরো ৪/৫জনকে হত্যা করে। এসব ঘটনায় অবশেষে আদালতে শহীদুল ইসলাম ২০১০সালের ২২জুলাই সিলেটের ডিআইজি বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। শহীদ হাজী ফুলজান বিবির পুত্র মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস শহিদ ২০১০সালের ২৪ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ আদালতে পৃথক একটি মামলা দায়ের করেন। কিন্তু মামলা দায়েরের পর থেকে আসামিদের মামলা তুলে নেয়ার অব্যাহত হুমকি ও প্রাণ নাশের ভয়ভীতিতে বাদি পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments