রবিবার, জানুয়ারী 23, 2022
রবিবার, জানুয়ারী 23, 2022
রবিবার, জানুয়ারী 23, 2022
spot_img
Homeকালীগঞ্জকালীগঞ্জে সোলার ইরিগেশন পাম্পিং সিস্টেম চলছে সূর্যের আলোতে সেচকাজ

কালীগঞ্জে সোলার ইরিগেশন পাম্পিং সিস্টেম চলছে সূর্যের আলোতে সেচকাজ

লোডশেডিং কে না বলে এবার সুর্যের আলোতে সেচকাজ শুরু করেছে। এখন থেকে বিদ্যুৎ বা ডিজেলের উপর নির্ভর না করেই চালাচ্ছে ইরিমাঠের সেচকাজ। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সেচকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে সোলার ইরিগেশন পাম্পিং সিস্টেম। আর সোলার পাম্পের মাধ্যমে চলতি মৌসুমে অতিরিক্ত ব্যয় ছাড়াই প্রায় ৭৫০ বিঘা জমিতে সেচ সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। ফলে মাঠের পর মাঠ দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠেছে সবুজ ধানের ক্ষেত।

 

বাংলাদেশ সরকারের শায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠন ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানী লিমিটেডের সহযোগীতায় জেলার কালীগঞ্জে এই সেচ প্রকল্পের বাস্তবায়ন করছে এইড ফাউন্ডেশন নামের একটি বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা।

 

সোলার ইরিগেশন পাম্পিং সিস্টেম ব্যহারের ফলে স্বল্প খরচে জমিতে সেচ দেওয়া যাচ্ছে। ফলে বিদ্যুত ও ডিজেল খরচ বেচে যাচ্ছে। যে কারনে লোডসেডিং এখন আর সেচকাজে কোন বাধা হচ্ছে না। সেচকাজে বিদ্যুত ব্যবহার না করায় জাতীয় গ্রীডের বিদ্যুত ঘাটতি কমে আসছে। পরিবেশ বিপর্যায়ের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে চারপাশ।

 

উপজেলার ভিটশ্বর গ্রামের কৃষক আলফা দফাদার সোলার ইরিগেশন পাম্পিং সিস্টেমের আওতায় ৬ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন। এতদিন ডিজেল চালিত পাম্প ব্যবহার করে নিজের ক্ষেতে পানি সরবরাহ করে আসছিলেন। প্রতি বছর দু’টি ধানের চাষ করতে প্রায় ৫৫ হাজার টাকা খরচ হত। গত কয়েক বছর হলো সোলার প্যানেল দিয়ে পানি সেচ দেওয়ায় ৩৫হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। ফলে বেচে যাচ্ছে ২০ হাজার টাকা।

 

উপজেলার হরদেবপুর গ্রামের কৃষক সঞ্জয় কুমার জানালেন একই কথা। এবছর তার ৪ বিঘা জমিতে স্বল্প খরচেই ইরি ধানের করছে।

 

বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা এইড এর সহকারী কর্মসূচী সমন্বয়কারী মোঃ শরিফুল ইসলাম জানান, আমাদের গ্রীন কর্মসুচীর আওতায় স্থাপিত একটি পাম্পে ৯৬-১২৭টি পর্যন্ত সৌরকোষ বা প্লেট একত্রে সংযুক্ত করে তৈরি করা হয়েছে সৌর প্যানেল। ওই সৌর প্যানেলের উপর সূর্যের আলো পড়তেই বৈদ্যতিক ভোল্টেজ তৈরি হয় এবং সংযুক্ত তারের মাধ্যমে নিদ্দিষ্ট স্থানে জমা হয়। সেই বিদ্যুৎ দিয়ে চলে একটি পাম্প। একটি সেচযন্ত্র দিয়ে সকালে সূর্য উঠার পর থেকে বিকাল পর্যন্ত জমিতে সেচ দেয়া যায়। সূর্যের তাপ যতই বাড়ে পানি ততই বাড়ে। প্রতিদিন একটি সৌরপাম্প থেকে ৯ লাখ থেকে ১৮ লাখ লিটার পানি উত্তোলন করা হয়। সেকেন্ডে ৪৮ থেকে ৫০ লিটার উঠে। যা দিয়ে ৪৫ থেকে ৫৫ বিঘা জমির সেচকাজ করা যায়।

 

তিনি আরো জানান, একজন কৃষককে ইরি মৌসুমে সেচ কাজের জন্য বিঘা প্রতি ৩৫০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা এবং বোরো মৌসুমে বিঘা প্রতি ৭শ টাকা থেকে ১৫শ টাকা দিতে হয়। এছাড়া সেচ কাজের জন্য ড্রেনের পরিবর্তে পাইর্পিং পদ্ধতি করায় বাড়তি পানি ও জমি অপচয় হয় না।

 

স্থানীয় চাষিরা জানান, বিদ্যুৎ চালিত নলকূপ দিয়ে জমিতে সেচ দিতে অগ্রিম অর্ধেক টাকা পরিশোধ করতে হয়। বাকি টাকা ফসল উঠার পর তিন মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে হয়। অসহনীয় লোডশেডিংয়ের কারণে জমিতে সেচ দিতে না পারা কোন ভয় থাকে না। কম খরচে খুব সহজে আমরা আবাদী জমি চাষ করতে পারছি।

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল করিম জানান, সোলার সিস্টেম বেশ লাভজনক। এতে আবাদী জমি নির্দিষ্ঠ সময় পানি পেয়ে ইরির ফলন প্রত্যাশিত হবে। বিদ্যুতের ঘাটতিতে প্রভাব পড়বে না।

 

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার জাহিদুল করিম জানান, এবছর উপজেলার হরদেবপুর ভিটশ্বর, রায়গ্রাম, গুমমরাইল, হরদেবপুর ও মির্জাপুরে ১৫টি সোলার প্যানেলে আওতায় প্রায় ৭৫০ বিঘা জমিতে ধান চাষ হচ্ছে। সোলার প্যানেলের উৎপাদিত শক্তি নবায়নযোগ্য ফলে বিদ্যুত ও ডিজেল খরচ সাশ্রয় হচ্ছে। এছাড়া এটা পরিবেশ বান্ধব এবং খুব সাশ্রয়ে যে কোন কৃষি ফসল উৎপাদন করা সম্ভব।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments