মঙ্গলবার, অক্টোবর 26, 2021
মঙ্গলবার, অক্টোবর 26, 2021
মঙ্গলবার, অক্টোবর 26, 2021
spot_img
Homeকুমিল্লালাকসামে সেতু নেই, বাঁশের সাঁকোয় ঝুঁকিপূর্ন পারাপার শিক্ষার্থীদের

লাকসামে সেতু নেই, বাঁশের সাঁকোয় ঝুঁকিপূর্ন পারাপার শিক্ষার্থীদের

কার্জন খালের উপর সেতু নেই, লাকসামে একটি ব্রিজের অভাবে ভাগ্য পাল্টাতে পারছে না ৯টি গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষের। ডাকাতিয়া নদী মোহনা কার্জন খালটির উপর নির্মিত প্রায় ২’শ ফুট দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসার প্রায় ৫ শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ দু’উপজেলার হাজার হাজার মানুষ।

 

ওই এলাকার বাসিন্দা সাবেক বিভাগীয় হিসাব রক্ষক পূর্ত কর্মকর্তা আবুল খায়ের বলেন, নির্বাচন এলেই এলাকার জনপ্রতিনিধিরা এখানে সেতু নির্মাণে প্রতিশ্রুতি দেন। ভোটে পাশ করার পর প্রতিনিধিগণের প্রতিশ্রুতির কথা মনে থাকে না। সেতু নির্মাণ করার জন্য বিভিন্ন দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট মৌখিক-লিখিত ভাবে অবহিত করার পরও ৩২ বছরে কর্তৃপক্ষদের টনক নড়েনি। ঝুঁকিপূর্ন এ সাঁকোর কারনে শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রতিনিয়তই আমাদের দুশ্চিন্তা বয়ে বেড়ায়। অচিরেই একটি ব্রিজ নির্মাণ করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবী জানান তিনি।

 

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, কালিয়াপুর বাজারের কাছে ডাকাতিয়া নদীর সাথে সংযোগ সেই বিখ্যাত কার্জন খালের উপর সেতু নির্মাণের দাবী প্রায় ৩২ বছর ধরে এ অঞ্চলের মানুষের। ১৯৯৬ সাল থেকে বাঁশের সাঁকো দিয়ে এ এলাকার হাজার হাজার মানুষ পারাপার হয়। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে স্থানীয়দের সহায়তায় বাঁশ কিনে এনে সবাই মিলে সাঁকোটি মেরামত করে। এলাকাবাসীর চাঁদায় নির্মিত বাশের সাঁকো দিয়ে ওই খাল পারাপার হয় পথচারীরা। প্রতিদিন এ পথে লাকসাম-মনোহরগঞ্জ দু’উপজেলার শ্রীয়াং, কেশতলা, শমসেরপুর, রাজাপুর, লাল চাঁদপুর, হাজীপুরা, চাটিতলা, ইসলামপুর, হামিরাবাগ, কালিয়াপুর গ্রামের মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। সাঁকোটির পাশেই কালিয়াপুর বাজার। সেখানে সপ্তাহে দু’দিন হাট বসে। এ দু’দিন দূরদূরান্ত থেকে সবজি নিয়ে এসে কৃষকরা সাঁকো পার হতে ভোগান্তির শিকার হন। সঙ্গে গুনতে হয় অতিরিক্ত টাকা।

 

সাঁকোটির পাশে কালিয়াপুর কামিল মাদ্রাসা। শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে কার্জন খালের এপার ওপার যেতে হয়। এ সময় সাজেদা আক্তার, ইয়াছিন আলম, আবুল কাশেমসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান তাদের দূঃখ দূর্দশার কথা। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ন এ সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায় তাদের বই-খাতা ও কলম পানিতে পড়ে যায় এবং অনেকেই দূর্ঘটনার শিকার হতে হয়। যানচলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় অসুস্থ্য মানুষকে জেলা-উপজেলা শহরে নিয়ে আসতে দূর্ভোগের শিকার হতে হয়।

 

স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার সহিদ উল্লাহ চৌধুরী বলেন, এ অঞ্চলের মানুষেল দীর্ঘদিনের দাবী ব্রিজটি নির্মিত হলে একদিকে যেমন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে অন্যদিকে পাল্টে যাবে শ্রীয়াং দক্ষিণ বিলপাড়া, রাজাপুর, নোয়াপাড়া, জগৎপুর, উত্তর বড়কেশতলাসহ কয়েকটি গ্রামের কৃষকদের ভাগ্যে এবং এ অঞ্চলের মানুষের ব্যবসা-বানিজ্যের প্রসার।

 

ইসলামপুর এলাকার মরিয়ম খাতুন (৫০) বলেন, শ্রীয়াং গ্রামে আমার মেয়ের বাড়ীতে যাতায়াত করতে আমি কোন সময় এ সাঁকো দিয়ে হেটে যেতে পারি নাই। ভয়ে সবসময় বসে বসে পার হই। একদিন সাঁকো থেকে পা ফঁসকে নীচে পড়ে গিয়েছিলাম।

 

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম সওকাত বলেন, শুনেছি ওইস্থানে সেতু না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে মানুষ ভোগান্তিতে পোহাচ্ছে। ওই এলাকায় (এলজিইডি) আইডি ভুকÍ রাস্তা না থাকায় ব্রিজটি নির্মাণের বিলম্ব হচ্ছে। তবে রাস্তা-ব্রিজটি নির্মানের পক্রিয়াধীন আছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments