মঙ্গলবার, অক্টোবর 26, 2021
মঙ্গলবার, অক্টোবর 26, 2021
মঙ্গলবার, অক্টোবর 26, 2021
spot_img
Homeকুমিল্লাকুমিল্লায় প্রবাসীর স্ত্রী নির্যাতনে তদন্ত কমিটি গঠন উদ্ধারকারীদের মামলায় জড়ানোর অভিযোগ

কুমিল্লায় প্রবাসীর স্ত্রী নির্যাতনে তদন্ত কমিটি গঠন উদ্ধারকারীদের মামলায় জড়ানোর অভিযোগ

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে পরকীয়ার অপবাদে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে সালিশ ডেকে প্রকাশ্যে নির্যাতনের নির্দেশদাতা ইউপি চেয়ারম্যান মনির হোসেন ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। এদিকে ঘটনা ভিডিওকারী ও নির্যাতিতদের উদ্ধারকারীকে মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দাউদকান্দির বেকি সাতপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা মতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 

পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে গত ৩১ জুলাই রাতভর এবং ১ আগস্ট সালিশ ডেকে বারপাড়া ইউনিয়নের বেকি সাত পাড়া গ্রামের সামছু ব্যাপারীর ছেলে প্রবাসী কবির হোসেনের স্ত্রী চার সন্তানের জননীকে প্রকাশ্যে নির্যাতন চালায় তার ভাসুর সাইফুল ইসলাম স্বপনসহ অন্যরা।

 

এরই মধ্যে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। নির্যাতিত প্রবাসীর স্ত্রীর পক্ষে দায়েরকৃত মামলায় সালিশ বৈঠকে উপস্থিত স্থানীয় বারপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনির হোসেনের নাম এজাহারভুক্ত না থাকায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

 

মামলা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কবির হোসেন মালেয়শিয়া প্রবাসী। তার স্ত্রী চার ছেলে নিয়ে গ্রামে থাকেন। তার বড় ভাই সাইফুল ইসলাম স্বপন বিভিন্ন সময় তার স্ত্রীকে তাকে কুপ্রস্তাব দিতো। সে রাজি না হওয়ায় তাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। কবির হোসেনের একটি ছেলে মাদ্রাসায় পড়ে। ৩১জুলাই ছেলের জন্য ভাত নিয়ে মাদ্রাসায় পাঠানো হয় পাশের জায়গীর গ্রামের নুরে আলমকে।

 

নুরে আলম সন্ধ্যায় ভাতের টিফিন ক্যারিয়ার ফেরত নিয়ে আসলে স্বপন তাকে আটক করে। পরে নুরে আলম ও কবিরের স্ত্রীকে পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে গাছের সাথে বেঁধে রাতভর নির্যাতন করা হয়। সকালে ইউপি চেয়ারম্যান ডেকে তার সামনে পুনরায় বাঁশ,কাঠ এবং লোহার রড দিয়ে দুইজনকে পেটানো হয়। সেই সময় মারধরে লাগানো হয় প্রতিবেশী বাবুল মিয়া ও মিন্টু মিয়াকে।

 

মামলার বাদী গৃহবধূর বোন নার্গিস আক্তার জানান, মামলার চার নম্বর আসামি আলমগীর হোসেন এই ঘটনার ভিডিও করে। তিনি ভিডিও করায় এখন বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।

 

অন্যদিকে নির্যাতনের পর গাছ থেকে তাদের ছেড়ে দেয় পাঁচ নম্বর আসামি ওমর ফারুক। মামলা করার সময় আমরা তাদের নাম বলিনি। তারা নির্দোষ। তারা কিভাবে আসামি হলো তা বলতে পারবো না।

 

দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি আলমগীর হোসেন বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান মনির হোসেন তালুকদার ওই সালিশে উপস্থিত ছিলেন। তিনি এর দায় এড়াতে পারেন না। ইউপি চেয়ারম্যান ও অভিযুক্ত মিন্টু মিয়াকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় এরই মধ্যে গৃহবধূর ভাসুর সাইফুল ইসলাম স্বপন, তার সহযোগী বাবুল মিয়া ও এক ইউপি সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদিকে নির্দোষদের তদন্ত করে মামলা থেকে বাদ দেয়া হবে বলেও তিনি জানান।

 

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজর মীর বলেন, সালিশ বৈঠকে প্রবাসীর স্ত্রী নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দাউদকান্দি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কানিজ আফরোজকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments