মঙ্গলবার, অক্টোবর 26, 2021
মঙ্গলবার, অক্টোবর 26, 2021
মঙ্গলবার, অক্টোবর 26, 2021
spot_img
Homeগুরুত্বপূর্ণ সংবাদবসুন্ধরার এমডি আনভীর কি গ্রেফতার হচ্ছেন?

বসুন্ধরার এমডি আনভীর কি গ্রেফতার হচ্ছেন?

চাঞ্চল্যকর কলেজ শিক্ষার্থী মুনিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় বসুন্ধরার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীর কি গ্রেফতার হচ্ছেন? আনভীরের ভাড়া করা বাড়ির (ঘটনাস্থল) মালিক ইব্রাহিম আহমেদ রিপনকে পাসপোর্ট জমা রাখার শর্তে ছয় সপ্তাহের জামিন মঞ্জুর করলেও আনভীরকে আগাম জামিন দেননি আদালত।

অপরদিকে গত রোববার এই মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগ্রেশন (পিবিআই) এর প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেছেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বসুন্ধরার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরকে তদন্ত কর্মকর্তা যখন মনে করবেন তখনই জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন। বিষয়টি একমাত্র তদন্ত কর্মকর্তার ওপর নির্ভর করছে।

এদিকে চাঞ্চল্যকর এই মামলার বাদী নুসরাত জাহান সকালের সময়কে বুধবার সন্ধ্যায় জানান, এমন একটি মামলার আসামি প্রকাশ্যে বের হয়ে আদালতে হাজির হল। অথচ পিবিআই এর তদন্ত কর্মকর্তা তাকে গ্রেফতার করলো না। এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেছেন বলেও জানিয়েছেন। তদন্ত কর্মকর্তা তাকে বলেছেন, আমাদের মত মামলাটি তদন্ত করতে দেন। আরো কিছু বিষয় তদন্তে বাকি আছে। আর আসামি আদালতে হাজির হওয়ার বিষয়টিও তদন্ত কর্মকর্তা জানতেন না বলে তাকে জানিয়েছে। মামলার বাদি মুনিয়া হত্যা মামলার অন্যতম আসামি বসুন্ধরার এমডি সায়েম সোবহান আনভীরকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি করেছেন।

আদালত সূত্র জানায়, আলোচিত মামলার অন্য আসামি বসুন্ধরার এমডি সায়েম সোবহানের স্ত্রী সাবরিনা (৪০), ছয় সপ্তাহের জামিন দিয়ে আনভীরের জামিন আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন আদালত। বুধবার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব আদেশ দেন। আর আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন। এর আগে মুনিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে করা মামলায় বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীর আগাম জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন জানান। গত ২৩ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আবেদনটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় ওঠে। সেখানে আবেদনটি কার্যতালিকায় ১৪২৪ নম্বর ক্রমিকে থাকায় এ বিষয়ে শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য করা হয়।

এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর রোববার মুনিয়া হত্যা মামলার অপর আসামি ও ভাড়া বাড়ির মালিক ইব্রাহিম আহমেদ রিপনকে পাসপোর্ট জমা রাখার শর্তে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ওই আদেশে আদালত বলেছেন, এ সময়ের মধ্যে তিনি বিদেশ যেতে পারবেন না এবং মামলার তদন্তকাজে সহযোগিতা করতে হবে। মুনিয়াকে ‘ধর্ষণের পর হত্যা’র অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আসামির জামিন আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ভার্চুয়াল দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদেশের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কোর্টের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মিজানুর রহমান মিজান গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন। আর ওই দিন আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথি। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মিজানুর রহমান।

চলতি বছরের গত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় গুলশানের ১২০ নম্বর সড়কের ১৯ নম্বর বাসার একটি ফ্ল্যাট থেকে কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। কলেজ শিক্ষার্থী মুনিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় আদালতের নির্দেশে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে গুলশান থানায় গত ৭ সেপ্টেম্বর মামলা (নম্বর-৫) দায়ের করা হয়। পরে মামলার তদন্তভার দেয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (২) (ধর্ষণ) ও দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় (হত্যা) এ মামলার প্রধান আসামি নিহত মুনিয়ার প্রেমিক বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীর। এছাড়া তার বাবা, মা ও স্ত্রীসহ মোট আটজনের নাম আসামির তালিকায় রয়েছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮ এর বিচারক মামলাটি গ্রহণ করেন। কুমিল্লার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতা প্রয়াত মো. সফিকুর রহমানের ছোট মেয়ে মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান তানিয়ার করা এ নালিশি মামলার এজাহারে চাঞ্চল্যকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

সূত্র জানায়, ডাক্তারি পরীক্ষার বরাত দিয়ে ওই এজাহারের অভিযোগে বলা হয়েছে, মুনিয়ার মৃত্যুর আগেও ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন, বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ভোরে যশোরে পালিয়ে বাঁচতে চেয়েছিলেন, মুনিয়া দু-তিন সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন, তার পরনের জামা-কাপড় ছেঁড়া ছিল ও পুরুষের ডিএনএ মিলেছে। আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে এ কলেজছাত্রীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ওই অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, ছয় নম্বর আসামি সাইফা রহমান মিম এক নম্বর আসামি সায়েম সোবহান আনভীরের গার্লফ্রেন্ড ও সাত নম্বর আসামি কথিত মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসার (মাদকসহ গ্রেফতারের পর বর্তমানে কারাবন্দি) সঙ্গেও উক্ত আসামির বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। পিয়াসা প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে ভিকটিম মুনিয়াকে বিভিন্ন সময় ফোন করে আনভীরের সঙ্গ ত্যাগ করতে বলে এবং তার মাধ্যমেই দুই নম্বর আসামি আনভীরের মা আফরোজার কাছে মুনিয়ার সম্পর্কে কুৎসা রটিয়ে হত্যার প্ররোচণা দেয়া হয়েছে। আর পিয়াসার মাধ্যমেই মুনিয়াকে বসুন্ধরা এলাকার বাসায় ডেকে নিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে গ্রামের বাড়িতে যেতে বাধ্য করে প্রধান আসামি সায়েম সোবহানের পরিবার।

ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮ আদালতে মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান তানিয়া বাদী হয়ে এ মামলা করেন। ওই আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ বেগম মাফরোজা পারভীন মামলাটি গ্রহণ করে পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। আর ওই দিন দুপুরে মামলার বাদি নুসরাতের জবানবন্দি রেকর্ড করেন আদালত। ধর্ষণের পর হত্যার এ চাঞ্চল্যকর মামলায় প্রধান আসামি বসুন্ধরার এমডি সায়েম সোবহান আনভীর (৪২)। পাশাপাশি তার বাবা বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান ৭০, মা আফরোজা সোবহান ৬০, আনভীরের স্ত্রী সাবরিনা ৪০, হুইপপুত্র শারুনের সাবেক স্ত্রী সাইফা রহমান মিম (৩৫), কথিত মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা, পিয়াসার বান্ধবী ও ঘটনাস্থল গুলশানের ফ্ল্যাট মালিকের স্ত্রী শারমিন (৪০) ও তার স্বামী ইব্রাহিম আহমেদ রিপনকে (৪৭) আসামি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় গুলশানের ১২০ নম্বর সড়কের ১৯ নম্বর বাসার একটি ফ্লাট থেকে গত ২৬ এপ্রিল রাতে কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় প্রথমে আত্মহত্যায় প্ররোচণার মামলা করেন মোসারাতের বড় বোন নুসরাত জাহান। এ মামলায় গত জুলাই মাসে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত গত ১৮ আগস্ট পুলিশের দেয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন। ফলে মামলা থেকে অব্যাহতি পান বসুন্ধরার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীর। এরপর মুনিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমদ আকবর সোবহান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরসহ আট জনের বিরুদ্ধে গত ৬ সেপ্টেম্বর মামলা করা হয়। ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮ আদালতে মুনিয়ার বোন নুসরাত জাহান বাদী হয়ে ওই মামলা করেন। আদালত মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন। ওই মামলায় আগাম জামিন চেয়ে আনভীর হাইকোর্টে আবেদন জানান।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments