ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল টিআইবি’র রিপোর্টকে প্রত্যাখ্যান

ঢাকা, ১৯ নভেম্বর (খবর তরঙ্গ ডটকম)- সংসদ সদস্যদের নেতিবাচক কার্যক্রম নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল টিআইবি’র রিপোর্টকে প্রত্যাখ্যান করে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহি পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানকে বিশেষ সংসদীয় কমিটিতে তলবের আহ্বান জানানো হয়েছে। সম্প্রতি টিআইবি সংসদ সদস্যদের নৈতিকতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয় ৯৭ ভাগ সংসদ সদস্যই অনিয়মের জড়িত। সোমবার নবম জাতীয় সংসদের পনেরতম অধিবেশনে সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম ওই প্রতিবেদনকে রাষ্ট্রদোহীতার সাথে তুলনা করেন।

স্পিকার আব্দুল হামিদ এডভোকেট টিআইবির রিপোর্টকে খুবই দু:খজনক হিসেবে মন্তব্য করে বলেন,  এভাবে সংসদ সদস্যদের ঢালাওভাবে চরিত্র হনন সঠিক কাজ নয়।

স্পিকার একই সাথে কোনো কোনো মিডিয়ার ব্যাপারে অভিযোগ তুলে বলেন, সংসদ সদস্যদের চরিত্র  হননের জন্যে তারা উঠে পড়ে লেগেছে। তিনি বলেন, আমরা মানুষ, আমাদের ত্রুটি থাকতে পারে। সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ আনুন।

স্পিকার বলেন, ৯৭ ভাগ সংসদ সদস্য খারাপ হলে ভালটা কারা। মাত্র ৬শ’ লোক টিআইবির জরিপ করেছে। তারা কারা? সাধারণ মানুষ, দলীয় লোক নাকি টিআইবির বেতনভুক্ত কর্মচারি।

স্পিকার বলেন, টিআইবি নির্বাচনে আসুক। জনগণ যদি তাদের ভোট দেয়, তাহলে তারা সরকার গঠন করতে পারে।

টিআইবির ওই প্রতিবেদন নিয়ে সংসদে শেখ সেলিম প্রশ্ন রাখেন, তাদেরকে (টিআইবি) এই অধিকার কে দিয়েছে?

 

বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য শেখ সেলিম সংসদের অধিবেশনে প্রথম বক্তব্য রাখতে শুরু করেন। তার বক্তব্যের পর আরো বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য এ নিয়ে বক্তব্য রাখতে চাইলে স্পিকার কয়েকজনকে ফ্লোর দিয়ে দুই মিনিট করে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেন।

শেখ সেলিম বলেন, শতকরা ৯৭ শতাংশ সংসদ সদস্য যদি অনৈতিক কাজে জড়িত থাকে তবে বাকি জন বাদে আমরা সবাই কী তবে হত্যা, খুন, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির সাথে জড়িত।

শেখ সেলিম বলেন, ষোল কোটি মানুষের দেশে মাত্র ছয়শ’ মানুষকে জিজ্ঞেস করে একটি কথা বলে দেয়াটা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না, আমরা এটা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।

তিনি এও বলেন, ‘তথ্য প্রমাণ ভিত্তিক কোন অভিযোগ টিআইবি দিতে পারেনি।’

শেখ সেলিম সংসদে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘কে ভালো কে মন্দ সংসদ সদস্যদেরকে এই সার্টিফিকেট দেয়ার অধিকার তাদের কে দিল। সংসদ সদস্যরা কি এনজিওর কাছ থেকে সার্টিফিকেট নিয়ে রাজনীতি করবে নাকি জনগণের সার্টিফিকেট নিয়ে রাজনীতি করবে’ বলে মন্তব্য করেন, শেখ সেলিম।

সংসদ সদস্যদের নিয়ে যারা ঢালাও এ ধরনের অপপ্রচার করছে, তারা গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা ব্যাহত করতে ষড়যন্ত্র চেষ্টা করছে। ওয়ান-ইলেভেনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শেখ সেলিম আরো বলেন, এই গোষ্ঠী অগণতান্ত্রিক শক্তিকে উৎসাহিত করতে গভীর ষড়যন্ত্রে নেমেছে।

সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, সংসদ সদস্যদের নিয়ে ঢালাওভাবে টিআইবির এধরনের প্রতিবেদন করার নৈতিক অধিকার নেই। এ প্রতিবেদন সমস্ত দেশবাসীর বিরুদ্ধে গিয়েছে।

তোফায়েল বলেন, যেখানে নির্বাচনের মাত্র এক বছর বাকি তখন এধরনের রিপোর্ট অনৈতিক। তিনি স্পিকারকে টিআইবির কর্মকর্তাদের সংসদে তলব করার আহবান জানান।

সংসদ সদস্য জিকরুল আহমেদ বলেন, জনগণের ভোট নিয়ে আমরা সংসদে অপমাণিত হবার জন্যে আসিনি। টিআইবির প্রতিবেদনে যে সমস্ত অপবাদ দেয়া হয়েছে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

জিকরুল বলেন, তাদের আয়কর নথিগুলো আমাদের দেয়া হোক। খরচ হল আয়ের পূর্বশর্ত। নিজের আয়কর নথিগুলো প্রকাশের ইচ্ছা করে এই সংসদ সদস্য বলেন, আমরা সংসদে এসেছি রাতের অন্ধকারে টকশো করার জন্যে নয়।

সংসদ সদস্য তারানা হালিম বলেন, টিআইবির রিপোর্ট খণ্ডিত। এর দায়ভার তাদের। যে ৬শ’ লোক জরিপে অংশ নিয়েছে তারা কারা। ওই প্রতিবেদনে কোনো তথ্যসূত্র ছিল না।

সংসদ সদস্য মুজিবুল হক বলেন, টিআইবির টার্গেট একটাই। এমপিদের বিরুদ্ধে কথা বলা। তিনি টিআইবিকে চ্যালেঞ্জ করে ওই প্রতিবেদনের সত্যতা প্রমাণের আহবান জানান।

 

সংসদে এ নিয়ে সংসদ সদস্যদের বক্তব্য শেষে স্পিকার আব্দুল হামিদ এডভোকেট বিষয়টি নিয়ে সিনিয়র সংসদ সদস্যদের সাথে আলোচনা করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবেন বলে জানান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।