যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুন্যালের আন্তর্জাতিক মান নিয়ে বিএইচআরসি’র প্রশ্ন

ঢাকা, ২০ নভেম্বর (খবর তরঙ্গ ডটকম)- বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালের সার্বিক কাজে আন্তর্জাতিক মান বজায় থাকছে না বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বার হিউম্যান রাইটস কমিটি অফ ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস (বিএইচআরসি)। বিশেষ করে গত ৫ নভেম্বর ট্রাইবুন্যালে সুখরঞ্জন বালী নামের আসামিপক্ষের এক প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যদানকে ঘিরে সৃষ্ট ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
বিএইচআরসি ইংল্যান্ড ও ওয়েলস বারের একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, যারা বিশ্বব্যাপী আইনজীবী ও বিচারকদের অধিকার নিশ্চিত করতে স্বাধীনভাবে কাজ করে।
বার হিউম্যান রাইটস কমিটির চেয়ারম্যান ম্যাক্স মুলার কিউসি স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আদালতের বিবরণী থেকে বিএইচআরসি জানতে পারে, ৫ নভেম্বর সকালে বিবাদী পক্ষের দুইজন আইনজীবীর সঙ্গে ঢাকায় আসেন বালী। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আদালত ভবনে পৌঁছানোর পর দুইজন সাদা পোশাকের ব্যক্তি নিজেদের পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের সদস্য বলে পরিচয় দিয়ে বালীকে জোর করে ‘পুলিশ’ লেখা একটি ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, এ ঘটনার অন্তত ১০ থেকে ১২ জন প্রত্যক্ষদর্শী রয়েছেন। ৫ নভেম্বরের পর থেকে বালীর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

গুরুতর এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন থাকলেও আদালত তাৎক্ষণিকভাবে কোন তদন্তের আদেশ দেয়নি বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএইচআরসি।

এটি বাদী পক্ষের প্রতি আদালতের পক্ষপাতিত্বই নির্দেশ করে বলে সংস্থাটি মনে করে।

এসব অভিযোগের ফলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে মনে করে সংস্থাটি। ট্রাইব্যুন্যাল বিচারের ক্ষেত্রে ন্যূনতম আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখছে কিনা, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছে তারা।

বিএইচআরসি ছাড়াও আরও কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থা বিবাদী পক্ষকে হয়রানি করা ও হুমকি প্রদর্শনের ব্যাপারে অবগত আছে বলে বিএইচআরসি জানিয়েছে। তারওপর ২০১১ সালের আগস্ট মাসে বিবাদী পক্ষের আইনিজীবী দলের অন্তত দুইজন সদস্যকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে বাধা দেয়া হয়েছে। এরপর থেকে আইনজীবীদের দেশে প্রবেশ ভিসার উপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যদিও আন্তর্জাতিক আইনানুযায়ী সব আইনজীবীদের কোনরকম ভয়ভীতি ছাড়া কাজ করার অধিকার রয়েছে, তারপরও বিবাদী পক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাককে নানারকম অপরাধে অভিযুক্ত করা হচ্ছে।

এসব ঘটনায় সংবিধানে সংরক্ষিত অধিকারও ক্ষুন্ন হয়েছে বলে মনে করছে বিএইচআরসি। ট্রাইবুন্যালের কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ না থাকাকেও সঠিক নয় বলে মনে করে তারা।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যাল-১ এর বর্তমান চেয়ারম্যান মো. নিজামুল হক নাসিমের ব্যাপারে প্রশ্ন তুলে সংস্থাটি জানায়, ১৯৯০ সালে তিনি এধরনের একটি প্রতীকি বিচারকার্যে জড়িত ছিলেন বলে তাদের কাছে তথ্য আছে।

এছাড়া বিচার শেষ হওয়ার আগেই অভিযুক্তদের ব্যাপারে আইনমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট অনেকের স্পর্শকাতর মন্তব্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএইচআরসি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।