ফলমূলের মত রাজনীতিতেও ফরমালিন প্রবেশ করেছে: এবিএম মূসা

ঢাকা, ২৩ নভেম্বর (খবর তরঙ্গ ডটকম)- ফলমূলের মত রাজনীতিতেও ফরমালিন প্রবেশ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম মূসা। রাজনীতিতে ফরমালিন দুর্নীতি আর দলীয়করণ। শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স রুমে এক আলোচনা সভায় প্রবীণ এই সাংবাদিক এমন মন্তব্য করেন। ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পেশাজীবীদের ভাবনা’ শীর্ষক এই আলোচনার সভার আয়োজন করেন সাউথ এশিয়ান ল’ইয়ার্স ফোরাম (এসএএলএফ)।

মূসা বলেন, ‘ফরমালিন একধরনের বিষাক্ত রাসায়নিক দব্য যা ফলমূল, মাছ-মাংস ও শাকসবজি কৃত্রিমভাবে টাটকা রাখে। এটি মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। আর রাজনীতিতে ফরমালিন হলো দুর্নীতি ও দলীয়করণ। এটি দেশের জন্য ক্ষতিকর।’

তিনি বলেন, ‘দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে ফরমালিন প্রবেশ করেছ। তেমনি রাজনীতির কানায় কানায় বিষাক্ত ফরমালিন প্রবেশ করেছে। যার কারণে দেশে নানা অরাজকতা ও অশান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।’

‘ফরমালিন মুক্ত রাজনৈতিক দল চাই। তা আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপি যে দলই হোক না কেন’ যোগ করেন প্রবীণ এই সাংবাদিক।

ড. কামাল ও বি চৌধুরীকে রাজনৈতিক ফরমালিন মন্ধের মোবাইলকোর্ট আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে তাদের দুজনকে রাজনীতি ফরমালিন মুক্ত করার মোবাইলকোর্ট মনে হয়। রাজনৈতিতে নতুন ধারা সৃষ্টি করে তারা দুজন রাজনৈতিকে ফরমালিন মুক্ত করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।’

মূসা বলেন, ‘শেখ হাসিনার বঙ্গবন্ধুর রক্তের চেতনায় বিশ্বাসী। কিন্তু আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের আংশীদার। রক্তের চেতনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করছেন।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘বর্তমান রাজনীতিবিদরা রাজনীতিজীবী হয়ে গেছেন। তারা বাণিজ্যিকভাবে রাজনৈতিকে ব্যবহার করছে। অপরাধ, অপকর্ম, দলীয়করণ ও ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করছে তারা।’

অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নিবার্চন সম্ভব নয়
সংবিধান প্রণেতা ও প্রখ্যাত আইনজীবী ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘জনগণই সকল ক্ষমতার মালিক। আগামী নির্বাচনে জনগণকে সচেতনভাবে যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন এককভাবে সুষ্ঠু নিবার্চন করতে পারে না। যারা স্থানীয়ভাবে নিবার্চন পরিচালনা করে তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে না। তাই অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নিবার্চন আশা করা যায় না।’

বিচার বিভাগের দুবর্লতা প্রসঙ্গে বিশিষ্ট এই আইনজীবী বলেন, ‘দেড়শ’ বছরের পুরনো বিচার বিভাগ এ সরকারের সময় দুর্বল হয়ে পড়েছে। যার কারণে সাধারণ মানুষ প্রকৃত বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’

ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ সালাহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়ীদ, ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না, অধ্যাপক ড. পিয়াস করিম প্রমুখ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।