সাভারের আশুলিয়ায় গার্মেন্টস অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১২৪(ভিডিও)

ঢাকা, ২৫ নভেম্বর (খবর তরঙ্গ ডটকম)-   অগ্নিকাণ্ডে সাভারের আশুলিয়ায় পোশাক কারখানার  এ পর্যন্ত ১১৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ ও ফায়ার ব্রিগেড নিহতের সংখ্যা একশ ছাড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে । এদিকে বিবিসি’র খবরে বলা হয়েছে ওই গার্মেন্টস অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ১২৪ জন মারা গেছে। এপর্যন্ত ১৭ জনের লাশ চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। এখনো অনেকে নিখোঁজ রয়েছে। শনিবার রাতে সাভারের আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় তোবা গ্রুপের তৈরি পোশাক কারখানা তাজরিন ফ্যাশনে এ আগুন লাগে। অগ্নিনির্বাপণ বাহিনীর ১০টি ইউনিট প্রায় পাঁচ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে রাত পৌনে ১২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

রাতেই সাত নারীসহ নয় শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করা হলেও কারখানাটির ভেতরে শতাধিক লাশ আটকে ছিল। সকালের দিকে ফের উদ্ধার অভিযান শুরু হবার পর উদ্ধারকর্মীরা এসব লাশ উদ্ধার করে।

ফায়ার ব্রিগেডের পরিচালক (অপারেশন) মেজর মাহবুব সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ভবনের ভেতরে পোড়া ধ্বংসস্তূপের ভেতরে মৃতদেহগুলো উদ্ধার কাজ চলছে।

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, ফায়ার ব্রিগেডসহ উদ্ধারকারীদের সঙ্গে কথা বলে মনে হচ্ছে , এই অগ্নিকাণ্ডে একশরও বেশি লোকের মৃত্যু হয়েছে।

সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশন নিশ্চিন্তপুরে পৌঁছার পর উদ্ধার কাজ তদারকি শুরু করে। লাশ উদ্ধারের পর নিশ্চিন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে নেওয়া হচ্ছে। সেখানে নিহতদের স্বজনরা লাশের খোঁজে এলে হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

এদিকে কারখানার ভেতরে আটকা পড়া শ্রমিকদের খোঁজে দুর্ঘটনাস্থলে জড়ো হওয়া স্বজনরা উদ্ধারকাজে বিলম্বের অভিযোগে সকালে পুলিশের উপর ঢিল ছুড়তে শুরু করেন।

এ সময় লাঠিপেটা করে এবং কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি সদস্যরা তাজরিন গার্মেন্টস ঘিরে রেখেছেন।

পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, নয়তলা ভবনের ওই কারখানার বিভিন্ন তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে অন্তত নয় জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকিরা আগুনে পুড়েছে।

নরসিংহপুরের নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সহকারী ব্যবস্থাপক হরুণ অর রশিদ বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহত ৪৫ জন শ্রমিক তাদের ক্লিনিকে ভর্তি রয়েছে।

দমকল বাহিনীর মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু নঈম মো. শহীদুল্লাহ বলেন, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এ আগুন লাগে বলে আমরা ধারণা করছি। তবে তদন্তের পর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এতো সময় লাগার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আশপাশে যথেষ্ট পরিমাণ পানি না পাওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে দেরি হয়েছে।

সৌজন্যে বিবিসি

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।