আত্মসমর্পণ করলেন সুরতঞ্জিতের এপিএস ফারুক

ঢাকা, ২৭ নভেম্বর (খবর তরঙ্গ ডটকম)- অবৈধ সম্পদ থাকার মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়েছেন সাবেক রেলমন্ত্রী সুরতঞ্জি সেনগুপ্তের একান্ত সহকারী (এপিএস) ওমর ফারুক তালুকদার।মঙ্গলবার সকালে তিনি জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে উপস্থিত হয়ে এই আবেদন করেন।ফারুকের আইনজীবী কাজী নজিবুল্লাহ হিরু বলেন, জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে পরে এ বিষয়ে শুনানি হবে।এরআগে সোমবার সুরঞ্জিতের সাবেক এপিএস ফারুকের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় অভিযোগপত্র দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। বিপুল পরিমাণ অর্থসহ ধরা পড়া ফারুকের বিরুদ্ধে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে এ অভিযোগপত্র দেয়া হয়।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুর রেজা অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে বলা হয়, ফারুক দুর্নীতি দমন কমিশনে সম্পদের প্রকৃত তথ্য দেননি।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ওমর ফারুক অবৈধভাবে ১ কোটি ৪২ লাখ ৭৩ হাজার ১৮০ টাকার সম্পদ উপার্জন করেছেন। এছাড়া তিনি সম্পদ বিবরণীতে ৩ লাখ ৪ হাজার ৯০০ টাকার তথ্য গোপন করেছেন।

আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ থাকার অভিযোগ এনে গত ১৪ আগাস্ট রমনা থানায় রাশেদুর রেজাই মামলাটি করেন।

আদালতের দুদকের প্রসিকিউটিং বিভাগের কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, এ মামলায় সাবেক রেলমন্ত্রীর এপিএস হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের আগাম জামিন নিয়েছিলেন। তার জামিনের মেয়াদ আজ মঙ্গলবার শেষ হয়।

উল্লেখ্য, গত ৯ এপ্রিল রাতে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরের ফটকে রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ব্যক্তিগত সহকারী ওমর ফারুক তালুকদারের গাড়িতে বিপুল অর্থ পাওয়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক শোরগোল ওঠে।

ফারুকের সাথে সেদিন ৭০ লাখ টাকা পাওয়া যায় বলে গণমাধ্যমের খবর প্রকাশিত হয়, যা নিজের বলে দাবি করেন তিনি। তবে অভিযোগ রয়েছে, রেলে নিয়োগে ঘুষ হিসেবে নেয়া হয়েছিল ওই অর্থ।

রেলের বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সাবেক মহা ব্যবস্থাপক ইউসুফ আলী মৃধার এবং কমান্ড্যান্ট এনামুল হকও ওই গাড়িতে ছিলেন। ইউসুফ মৃধা ও এনামুলকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

ওই ঘটনার পর এপিএসকে বরখাস্ত করেন সুরঞ্জিত। এরপরও অব্যাহত সমালোচনার মুখে পদত্যাগ করেন সুরঞ্জিত। পরে তাকে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী হিসেবে রাখা হয়।

তবে এই ঘটনা ফাঁস করে দেয়া গাড়িচালক আজম খান ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ। অজ্ঞাত স্থান থেকে সম্প্রতি বেসরকারি টেলিভিশন আরটিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আজম দাবি করেন, ফারুকের কাছে পাওয়া ওই অর্থ রেলে নিয়োগে ‘ঘুষ’ হিসেবে নেয়া হয়েছিল এবং ওই টাকা সুরঞ্জিতের বাড়িতে নেয়া হচ্ছিল।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।