নতুন তৈরি করা এসব ফ্ল্যাটে বিদ্যুত্ ও গ্যাসের সংযোগ দেওয়ার দাবি রিহ্যাবের

ঢাকা,১ ডিসেম্বর (খবর তরঙ্গ ডটকম)- বিদ্যুত্ ও গ্যাস-সংযোগের অভাবে ২০ থেকে ২২ হাজার ফ্ল্যাট বর্তমানে খালি পড়ে আছে। এসব ফ্ল্যাটে ১২ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা আটকে রয়েছে। ফলে দেশি-বিদেশি ক্রেতা, জমির মালিক ও ডেভেলপাররা চরম অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তায় আছেন। নতুন তৈরি করা এসব ফ্ল্যাটে বিদ্যুত্ ও গ্যাসের সংযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)।আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেলে ‘আবাসনশিল্পের বিদ্যমান সমস্যাসমূহ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পড়েন রিহ্যাবের সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান ভূঁইয়া।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিদ্যুত্-সংযোগের অভাবে প্রায় আট হাজার অ্যাপার্টমেন্টের কাজ একেবারে বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া পাঁচ হাজারের বেশি ক্রেতা বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্তত এক হাজার ২০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ফ্ল্যাট কিনে ওই সব ফ্ল্যাটে উঠতে পারছেন না। এর ফলে তাঁদের অতিরিক্ত বাড়িভাড়া দিয়ে থাকতে হচ্ছে, আবার ব্যাংকঋণের সুদ গুনতে হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বিদ্যুত্-সমস্যা সমাধানে সোলার-পদ্ধতি প্রবর্তনে গত ৭ নভেম্বর সরকারের বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুত্ বিভাগের সমন্বয়-২ শাখা থেকে একটি আদেশ জারি করা হয়। ওই আদেশের কোথাও আবাসিক ভবনের নতুন বিদ্যুত্-সংযোগের ক্ষেত্রে সোলার প্যানেল স্থাপন ‘বাধ্যতামূলক’ করা হয়নি। কিন্তু বাস্তবে কোনো প্রতিষ্ঠান ডিমান্ড নোটের টাকা জমা দেওয়ার পরও তাঁকে সোলার প্যানেল স্থাপনে বাধ্য করা হচ্ছে।
রিহ্যাবের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশের যেসব প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনো বিদ্যুত্ পৌঁছায়নি, কিংবা বিদ্যুত্ পৌঁছানো অনেক ব্যয়সাধ্য ব্যাপার, ওই সব এলাকায় সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এ ব্যাপারে সরকারকে সহযোগিতা করতে রাজি আছে রিহ্যাব।
সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাবের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, আগের সরকারের পক্ষ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, গ্যাসের দৈনিক উত্পাদন দুই হাজার ২০০ এমএমসিএফডি না হওয়া পর্যন্ত নতুন এলাকায় নতুনভাবে গ্যাসের সংযোগ বন্ধ রাখা হবে। সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাসের উত্পাদন প্রায় দুই হাজার ৭০০ এমএসসিএফডিতে দাঁড়িয়েছে। তাই এ অবস্থায় সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন গ্যাসের নতুন সংযোগ দিতে আর বাধা নেই।
আবাসনশিল্পের উন্নয়নে পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠন এবং সাত শতাংশ সুদে আবাসন খাতে ঋণ প্রদানের কর্মসূচি গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। এ ছাড়া অপ্রদর্শিত অর্থ এই খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো প্রশ্ন না করারও দাবি জানানো হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআরের) এ-সংক্রান্ত ধারা বাতিলেরও দাবি জানানো হয়।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন রিহ্যাবের প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, কার্যকরী পরিষদের সদস্য সহিদুল ইসলাম, মোস্তফা শহীদ, কামরুজ্জামান, আবু বাক্কার সিদ্দিক, শাহ মোমরেজ চৌধুরী ও শোয়েব উদ্দিন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।