গত এক বছরে যতটুকু করেছি, তাতে সন্তুষ্ট নই:যোগাযোগমন্ত্রী - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

গত এক বছরে যতটুকু করেছি, তাতে সন্তুষ্ট নই:যোগাযোগমন্ত্রী



(খবর তরঙ্গ ডটকম)

ঢাকা, ৫ ডিসেম্বর (খবর তরঙ্গ ডটকম)-যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, গত এক বছরে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সড়ক বিভাগের সফলতার সবটা দৃশ্যমান হয়নি। ব্যর্থতাও রয়েছে। আজ বুধবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সড়ক বিভাগের গত এক বছরের কার্যক্রম নিয়ে মন্ত্রী এ কথা বলেন।গত বছরের আজকের দিনে (৫ ডিসেম্বর) যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন ওবায়দুল কাদের। সংবাদ সম্মেলনে গত এক বছরে এ বিভাগের সফলতার কথা তুলে ধরা হয়।
দায়িত্ব নিয়ে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরুর ঘোষণা দিয়েছিলেন মন্ত্রী। পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরুর বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন ‘আগামীকাল সেতু বিভাগের গত এক বছরের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হবে; আজ এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেওয়া হবে না।’
সড়ক বিভাগের কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক উল্লেখ করে যোগাযোগমন্ত্রী বলেন, ‘গত এক বছরে যতটুকু করেছি, তাতে সন্তুষ্ট নই। তবে যতটুকু করেছি, তাতে জনগণের ভোগান্তি লাঘব হয়েছে।’
‘মানুষকে শান্তি দিতে না পারি, স্বস্তি দেওয়াই মূল লক্ষ্য ছিল’ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘হাতে সময় বেশি নেই। সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে। তবে যে সময় রয়েছে, এতে কাজ করার অনেক কিছু রয়েছে।’ সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে সমস্যার ধরন ও গভীরতা জেনে তা সমাধানে তাত্ক্ষণিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

ব্যর্থতার চিত্র নেই
প্রায় এক ঘণ্টার সংবাদ সম্মেলনে এই বিভাগের ব্যর্থতা সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানাননি যোগযোগমন্ত্রী। তবে দুর্ঘটনা ও যানজটকে বড় দুর্ভাবনা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এ সমস্যা সমাধানে সমন্বিত প্রয়াস দরকার; এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

মেট্রোরেল ও বিআরটি
মেট্রোরেল ও বিআরটি প্রকল্পের কাজ এ অর্থবছরের শেষ দিকে শুরু করা যাবে বলে জানান যোগাযোগমন্ত্রী। প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্পে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন চূড়ান্ত করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রকল্পে জাপান সরকার দিচ্ছে ১৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এ মাসেই জাইকার সঙ্গে ঋণচুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে।’
মন্ত্রী জানান, বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার বাসের বিশেষ লেন (বিআরটি) চালু করা হবে। দুই হাজার ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের কাজ শুরু করতে এ মাসে এডিবি ও ফ্রান্সের সরকারের সঙ্গে ঋণ বিষয়ে আলোচনা শুরু হবে। এ ছাড়া সদরঘাট থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত বিআরটি চালু করতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় সমীক্ষার কাজ শেষ হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান।

কাঁচপুর, মেঘনা ও মেঘনা-গোমতীতে তিনটি সেতু
দ্বিতীয় কাঁচপুর, দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘জাইকা তিনটি সেতু নির্মাণে অর্থায়নে প্রাথমিক সম্মতি দিয়েছে। এ প্রকল্পে ব্যয় হবে প্রায় নয় হাজার ৫৫ কোটি টাকা। এ মাসের মাঝামাঝি জাইকার সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনা হবে।’

মিরপুর-বিমানবন্দর সড়ক ফ্লাইওভার ও ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন
বাস্তবায়নাধীন মিরপুর-বিমানবন্দর সড়ক ফ্লাইওভার ও সংযোগ সেতুর কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আগামী মার্চে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের অগ্রগতি ৩১ শতাংশ হয়েছে এবং আগামী এপ্রিলের মধ্যে ৭৩ কিলোমিটার দৃশ্যমান হবে বলে তিনি জানান।


পূর্বের সংবাদ