পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ:বিচারককে মিডিয়ায় আনা - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ:বিচারককে মিডিয়ায় আনা



(খবর তরঙ্গ ডটকম)

ঢাকা,০৬ ডিসেম্বর (খবর তরঙ্গ ডটকম)-ভোলার জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ জাবেদ ইমামকে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করে স্বীকারোক্তি নেওয়ার বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি পুলিশের পাঁচজন কর্মকর্তা।আদালতের তলবে আজ বৃহস্পতিবার ওই পাঁচজন কর্মকর্তা ঢাকার মহানগর হাকিম এম এ সালামের আদালতে হাজির হন। এরপর বিচারক তাঁদের প্রশ্ন করলেও তাঁদের জবাবে আদালত সন্তুষ্ট হতে পারেননি।পরে আদালত ক্ষমতার অপব্যবহার ও জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়ের অভিযোগে ওই পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তাঁদের পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ থেকে প্রত্যাহার করে অন্য কোনো বিভাগে বদলির আদেশ দেন। পুলিশের মহাপরিদর্শককে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।
পুলিশের এই পাঁচ কর্মকর্তা হলেন: পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) নুরুল ইসলাম, নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম, উপপরিদর্শক নূর হোসেন (জব্দ তালিকা প্রস্তুতকারী) ও রেকর্ডিং কর্মকর্তা উপপরিদর্শক শাফিয়ার রহমান।
আদালত শুনানির শুরুতেই বলেন, উভয় পক্ষের আইনজীবীদের কোনো বক্তব্য নেওয়া হবে না। আদালত পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন। এরপর বিচারক (ডিসি) নুরুল ইসলামকে সাক্ষীর কাঠগড়ায় উঠতে বলেন।
আদালত বলেন, বিচার বা তদন্ত হওয়ার আগে গণমাধ্যমকে ডেকে সাংবাদিকদের সামনে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে। এটি কোন আইনে করা হয়েছে—আদালতের এমন প্রশ্নের জবাবে ডিসি বলেন, তিনি এ সময় উপস্থিত ছিলেন না। গণমাধ্যমের সামনে তাঁরা তথ্য দিয়ে আসছেন, এর আগেও দিয়েছেন।
এ পর্যায়ে আদালত বলেন, এর আগে এ ধরনের ঘটনা অনেক ঘটেছে। কিন্তু আদালতের নজরে আনা হয়নি। তথ্য জানার বিষয়ে তথ্য অধিকার আইন আছে। আপনি তথ্য দিতে পারেন। কিন্তু গণমাধ্যমের সামনে আসামিকে কোন আইনে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করেছেন?
সন্তোষজনক জবাব দিতে পারলে আদালত প্রয়োজনে আদেশ দেবেন বলে বিচারক জানান।
একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে, নাম লিখে তাঁর গলায় নামফলক ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা কে করেছে—আদালত জানতে চাইলে ডিসি বলেন, ‘আমি জানি না।’
এ সময় আদালতে উপস্থিত অন্য কর্মকর্তারা জানেন না বলে জানান। বিচারক এ পর্যায়ে প্রশ্ন রাখেন, ‘আসামি কি নিজেই তাঁর গলায় নাম ঝুলিয়েছে?’
আদালত পুলিশের পাঁচ কর্মকর্তার জবাবে সন্তুষ্ট হতে না পারায় বিচারক এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আদালত জাবেদ ইমামের জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।
গত ১ ডিসেম্বর ইডেন কলেজের সামনে একটি মাইক্রোবাস থেকে পুলিশ ৩৪২ বোতল ফেনসিডিল ও একটি রিভলবার উদ্ধার করে। ওই গাড়ি থেকে জাবেদ ইমামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় নিউমার্কেট থানার পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করে। রোববার জামিনের আবেদন নাকচ করে আদালত জাবেদ ইমামকে কারাগারে পাঠান। তাঁকে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করে স্বীকারোক্তি নেওয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে পুলিশের পাঁচ কর্মকর্তাকে আদালতে হাজির হতে ৩ ডিসেম্বর নির্দেশ দেওয়া হয়।


পূর্বের সংবাদ