ট্রাইব্যুনাল থেকে বিচারপতি নিজামুলের পদত্যাগ

ঢাকা, ১১ নভেম্বর(খবর তরঙ্গ ডটকম)- আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে পদত্যাগ করেছেন এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম। স্কাইপি কেলেঙ্কারির মুখে তিনি পদত্যাগ করলেন। দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন বরাবর পদত্যাগপত্র পাঠান তিনি। এদিকে, ট্রাইব্যুনাল-১ এর কার্যক্রমে যোগ না দেয়ায় সকাল থেকে বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের পদত্যাগের গুঞ্জন উঠে। সাধারণতঃ বিরোধী দলের হরতাল ও অবরোধের মতো কর্মসূচিতেও ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ট্রাইব্যুনালে বিচারের নানা দিক নিয়ে বেলজিয়ামে অবস্থানরত ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের সাথে বিচারপতি নিজামুল স্কাইপিতে যে আলাপ করেন গত রোববার তার বিস্তারিত প্রকাশ করে প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান সম্পাদিত দৈনিক ‘আমার দেশ’ পত্রিকা।

এর আগে আঁড়ি পেতে এই স্কাইপি কথোপকথন উদ্ধার করায় লন্ডন থেকে প্রকাশিত ‘দ্য ইকোনোমিস্ট’- কে ট্রাইব্যুনাল-১ কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়।

আর রোববার কথোপকথনের বিস্তারিত আমার দেশ প্রকাশ করলে দেশে-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। দেশের প্রখ্যাত আইনজীবীরাসহ ট্রাইব্যুনালে ডিফেন্স পক্ষের প্রধান আইনজীবী তার পদত্যাগ দাবি করেন।

উল্লেখ্য, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে ২০১০ সালের ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, আইনজীবী প্যানেল ও তদন্ত সংস্থার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।

বিচারক প্যানেলের প্রধান হিসাবে হাইকোর্টের বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম এবং অন্য দুই সদস্য অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ একেএম জহির আহমেদ ও হাইকোর্টের বিচারপতি এটিএম ফজলে করিমকে নিয়োগ দেয়া হয়।

এরপর ২০১২ সালের ২২ মার্চ বিচারকাজ দ্রুত করতে আরো একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করে সরকার। দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হন প্রথম ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীর।

তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই বিচারক হলেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান এবং প্রথম ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার মো. শাহীনুর ইসলাম।

প্রথম ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে অপর সদস্যরা ছিলেন বিচারপতি আনোয়ারুল হক ও বিচারপতি একেএম জহির আহমেদ।

এরপর ২০১২ সালের ২৮ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচাররক একেএম জহির আহমেদ শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরদিন তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়। তার স্থলাভিষিক্ত হন হাইকোর্টের বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।