৫ পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

৫ পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত



(খবর তরঙ্গ ডটকম)

ঢাকা, ১২ ডিসেম্বর (খবর তরঙ্গ ডটকম)- রমনা জোনের ডিসি নুরুল ইসলামসহ পুলিশের পাঁচ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার ও তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা বিষয়ে বিচারিক আদালতের দেয়া আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেছে হাইকোর্ট।বুধবার ওই পুলিশের করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি ফরিদ আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।গত ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতার অপব্যবহার ও জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়ের অভিযোগে ওই পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন ঢাকার মহানগর হাকিম এম এ সালাম।

তাদের পুলিশের অপরাধ বিভাগ থেকে প্রত্যাহার করে অন্য কোন বিভাগে বদলির নির্দেশও দেয় আদালত। একই সাথে পুলিশের মহাপরিদর্শককে সাত কার্যদিবসের মধ্যে ব্যবস্থা নিয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

এদিকে, গতকাল মঙ্গলবার হাইকোর্টের একই বেঞ্চ শিক্ষানবিশ আইনজীবী আকিল-উজ-জামানের এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আসামি ধরে মিডিয়ার সামনে হাজির করা নিয়ে রুল জারির পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

রুলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। একই সাথে গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের গণমাধ্যমের সামনে হাজির করে বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রাখার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়। এ রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়।

নির্দেশ কতটুকু বাস্তবায়নের প্রতিবেদন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাখিল করার কথাও বলা হয়।

আদালতের এ নির্দেশই পুলিশের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়। একই সাথে ওই পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের আদেশ স্থগিতের জন্য আবেদন জানানো হয়।

আদালতে আকিল-উজ-জামানের পক্ষে ছিলেন- এ কে এম শফিউদ্দিন, পুলিশের কর্মকর্তাদের পক্ষে শ ম রেজাউল করিম ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার শুনানি করেন।

আদালতের আদেশের বিষয়ে শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘গ্রেপ্তার বা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহে কোন বাধা নেই। তবে বিচারের আগে দোষী গণ্য করে কাউকে গণমাধ্যমে উপস্থাপন করা যাবে না।’

পুলিশের ওই পাঁচ কর্মকর্তা হলেন- রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) নুরুল ইসলাম, নিউ মার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম, উপপরিদর্শক নূর হোসেন (জব্দ তালিকা প্রস্তুতকারী) ও রেকর্ডিং কর্মকর্তা উপপরিদর্শক শাফিয়ার রহমান।

উল্লেখ্য, গত ১ ডিসেম্বর ইডেন কলেজের সামনে একটি মাইক্রোবাস থেকে পুলিশ ৩৪২ বোতল ফেন্সিডিল ও একটি রিভলবার উদ্ধার করে। ওই গাড়ি থেকে ভোলার জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ জাবেদ ইমামকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওইদিনই তাকে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়।


পূর্বের সংবাদ