নতুন করে বিচারকাজ শুরু করতে হবে বললেন ব্যারিস্টার মওদুদ

ঢাকা, ১২ ডিসেম্বর (খবর তরঙ্গ ডটকম)-আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের পদত্যাগের মধ্যদিয়ে স্কাইপি কেলেঙ্কারির সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।তিনি বলেন, এ বিচার যে একটি সাজানো নাটক এবং প্রহসনের বিচার ছিল তা প্রমাণিত হয়েছে।বুধবার বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে বলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য এসব কথা বলেন।এ সময় সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি এবং ১৮ দলীয় জোট সমর্থক আইনজীবী নেতারা বলেন, বিচার কার্যক্রম নতুন করে শুরু না করে মাঝখান থেকে মামলা পরিচালনা করা হলে তা হবে বেআইনি, নৈতিকতা বিরোধী এবং সংবিধান পরিপন্থী।এছাড়া আইনজীবী নেতারা আপিল বিভাগের আলোচিত বিচারপতি এস কে সিনহা ও বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের অপসারণের দাবিতে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেন সংবাদ সম্মেলনে।

তারা বলেন, কেলেঙ্কারির দায় মাথায় নিয়ে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে বিচারপতি নিজামুল পদত্যাগ করলেও বিচারপতি এস কে সিনহা এবং শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক এখন বিচারপতির আসনে বসে রাজনীতি করছেন।

ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের পদত্যাগের মাধ্যমে ইকনোমিস্ট এবং দৈনিক আমার দেশে প্রকাশিত স্কাইপি সংলাপের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে। এ বিচার যে একটি সাজানো নাটক এবং প্রহসনের ছিল তা প্রমাণিত হয়েছে।

‘এ ঘটনার পর এই ট্রাইব্যুনালে শুরু থেকে তার পদত্যাগের আগ পর্যন্ত যতো কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে তার সব কিছু তামাদি হয়ে গেছে। বাতিল হয়ে গেছে। এখন সবকিছু আবার নতুন করে শুরু করতে হবে’ যোগ করেন তিনি।

সাবেক এই আইনমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন করে বিচারকাজ শুরু না করে মাঝখান দিয়ে আবার বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়া হলে তা হবে সংবিধান পরিপন্থী, আইন বিরোধী এবং ন্যায়বিচার পরিপন্থী।’

তিনি বলেন, ‘অনেকে বলতে চাইবেন এবং বলছেন যেখান থেকে বিচার থেমে গেছে আবার সেখান থেকে শুরু করা যাবে। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে স্বাভাবিক অবস্থায় যখন একজন বিচারপতি কোনো বিচারের মাঝখানে বদলি হন তখন ওই বিচার কার্যক্রম চলমান থাকে। নতুন বিচারপতি নিয়োগ হলেও মাঝখান থেকেই বিচার চলে। এটা আইনে আছে।’

‘কিন্তু এখানে তো কোন স্বাভাবিক অবস্থায় বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম পদত্যাগ করেননি। তিনি চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি এমন কিছু করেছিলেন যাতে তিনি আর জাতির সামনে মুখ দেখাতে পারিছলেন না। তাই এখানে এই অস্বাভাবিক অবস্থায় এবং তার যে অসদাচরণ এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য বের হয়ে আসছে তাতে এ বিচার মাঝখান থেকে শুরু হতে পারে না’ যোগ করেন মওদুদ।

তিনি বলেন, নতুন করে সব কিছু শুরু করতে হবে। কারণ বিচারপতি নিজামুল বিচারকে রাজনীতিকরণ করেছেন। বিচার প্রক্রিয়াকে কলুষিত করেছেন। কাজেই শুরু থেকে আবার শুরু করাটাই হবে ন্যায়বিচারের দাবি।

সাবেক এই আইনমন্ত্রী বলেন, ‘যদি নতুন করে বিচার শুরু না করে মাঝখান থেকে আবার বিচার এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়, তাহলে আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। আমার এ বক্তব্য আমাদের সকল আইনজীবীদের বক্তব্য।’

তিনি বলেন, বিচারপতি নিজামুল হককে শুধু পদত্যাগ করলেই চলবে না। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি যে শপথ ভঙ্গ করে অনৈতিক এবং অসদাচরণ করেছেন সেজন্য তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

মওদুদ অভিযোগ করে বলেন, ‘বাইরে থেকে রায় লিখিয়ে আনাসহ নানা বিষয় নিয়ে তিনি আলোচনা করেছেন যা কোন বিচারপতি করতে পারেন না।’

সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচারপতি নিজামুল হকের বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুড়িশিয়াল গঠন করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাষ্ট্রপতি বরাবর দাবি জানান তিনি।

আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আমরা আইনজীবী সমিতির মাধ্যমে ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক, সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি এস কে সিনহা এবং শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের অপসারণ দাবি করেছিলাম।

তিনি বলেন, বিচারপতি নিজামুল হক চলে গেছেন। এখনো একজন বিচারপতি আছেন যিনি বিচারপতির আসনে বসে রাজনীতি করছেন। শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের বিষয়ে জাতীয় সংসদেও অপসারণের দাবি উঠেছিল।

বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘স্কাইপি কেলেঙ্কারি ফাঁসের পর এই ট্রাইব্যুনালের বিচারের আর কোনো গ্রহণযোগ্যতা থাকতে পারে না। নতুন করে আবার বিচার শুরু করতে হবে এটাই ন্যায়বিচারের দাবি।’

ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘বিচার বিভাগের ইতিহাসে এমন কলঙ্কজনক ঘটনার নজির আর নেই। বিচার বিভাগীয় তদন্ত আমরা দাবি করতে পারি, কিন্তু তার ফল আপনারা জানেন।’

‘তাই আমরা আন্তর্জাতিক বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করছি স্কাইপ সংলাপ বিষয়ে প্রকৃত বিষয় উৎঘাটনের জন্য। এ জন্য একটি আন্তর্জাতিক কমিশন গঠন করতে হবে’ যোগ করেন তিনি।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ব্যারিস্টার খন্দকার মাহবুব হোসেন খোকন এমপি, অ্যাডভোকেট খসরুজ্জামান, অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা, অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামসহ হাইকোর্টের সিনিয়র আইনজীবীরা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।