রাজধানীর বেইলি রোডে অটোরিকশাকে চাপা দিয়ে পালাল র‌্যাবের গাড়ি - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

রাজধানীর বেইলি রোডে অটোরিকশাকে চাপা দিয়ে পালাল র‌্যাবের গাড়ি



(খবর তরঙ্গ ডটকম)

ঢাকা, ১৬ ডিসেম্বর (খবর তরঙ্গ ডটকম)- রাজধানীর বেইলি রোডে র‌্যাবের গাড়ির চাপায় আহত হয়েছেন সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশার তিন যাত্রী ও একজন পথচারী। আজ রোববার বেলা আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গাড়িবহর চলে যাওয়ার পর র‌্যাবের ওই গাড়িটি অটোরিকশাকে চাপা দেয়। তবে ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত সার্জেন্ট মাহবুব হোসেন জানান, ‘মনে হয় না। কারণ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গাড়িবহর চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরে এটি এসেছিল।’ দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা হলেন: অটোরিকশাচালক সবুজ, যাত্রী হালিমা বেগম, তাঁর মেয়ে মরিয়ম, মেয়ের জামাই আবু কালাম ও পথচারী মাহবুব আলম।
অটোরিকশাচালক সবুজ জানান, মহাখালী থেকে যাত্রীদের নিয়ে তিনি গুলিস্তান যাচ্ছিলেন। মগবাজার থেকে বেইলি রোডের মুখে এলে সার্জেন্ট গাড়ি থামান। এরপর প্রচণ্ড গতিতে দুটি র‌্যাবের গাড়ি পেরিয়ে যায়। মিনিট খানেক পর সার্জেন্ট সিগন্যাল ছাড়লে তিনি গাড়ি নিয়ে এগোতে থাকেন। ঠিক এ সময় প্রচণ্ড গতিতে র‌্যাবের লাল রঙের আরেকটি গাড়ি তাঁর গাড়িকে চাপা দিয়ে বেইলি রোডের দিকে চলে যায়। জ্ঞান ফেরার পর তিনি নিজেকেসহ যাত্রীদের হাসপাতালে দেখতে পান।
আহত যাত্রী আবু কালামও ঘটনার একই বর্ণনা দেন। তিনি জানান, তাঁর বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে। দুই বছরের মেয়ে লামিয়াকে নিয়ে তিনি মহাখালীর কলেরা হাসপাতালে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে গুলিস্তানে যাচ্ছিলেন সোনারগাঁয়ের গাড়ি ধরতে।
ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকারী সার্জেন্ট মাহবুব হোসেন সংবাদ মাধ্যমকে জানান, পরপর কয়েকটি র‌্যাবের গাড়ি চলে যাওয়ার পর হঠাৎ করে দ্রুতগামী লাল রঙের একটি র‌্যাবের গাড়ি অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। ওই গাড়িতে পোশাকধারী র‌্যাবের সদস্যরাও ছিলেন। দুর্ঘটনার পর র‌্যাবের গাড়িটি থেমেছিল কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, থামেনি।’
আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে কে নিয়ে গেছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কয়েকজন পথচারীর সহায়তায় তিনি আহত ব্যক্তিদের কাছের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেন।
হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ব্যথায় কাতরাচ্ছেন আহত ব্যক্তিরা। দুই বছরের শিশু লামিয়া কাঁদছে চিৎকার করে।
হাসপাতালের চিকিৎসক আবদুল্লাহ আল ফারাবি জানান, আহত তিনজনের কোমরের হাড় ভেঙে গেছে। তাঁদের পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পথচারী তিতুমীর সরকারি কলেজের ছাত্র মাহবুব আলম বলেন, দ্রুতগামী র‌্যাবের একটি গাড়ি অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেওয়ায় অটোরিকশাটি তাঁর রিকশায় এসে ধাক্কা খায়। এতে তিনি জ্ঞান হারান।
মাহবুবের বড় ভাই মোবারক হোসেন বলেন, ‘ভাই, দুর্ঘটনার পর যদি র‌্যাবের গাড়িটি থামত, আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে আনত, তাহলে আমরা স্বস্তি পেতাম। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছেই যদি আমরা নিরাপদ না হই, তাহলে আমরা কোথায় যাব?’


পূর্বের সংবাদ