প্রধান বিচারপতি বিচারকদের সতর্ক করলেন - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

প্রধান বিচারপতি বিচারকদের সতর্ক করলেন



(খবর তরঙ্গ ডটকম)

ঢাকা, ডিসেম্বর ১৯ (খবর তরঙ্গ ডটকম)- প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন বিচারকদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছে  কোনো কোনো জেলা জজের ‘সচেতনতা ও দায়িত্ববোধের অভাবে’ কিছু ‘অপ্রত্যাশিত’ ঘটনা ঘটেছে তা আমাকে ব্যাথিত করে । বুধবার জেলা জজ ও জেলা জজ সমপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মত বিনিময় সভায় তিনি বলেন, “এ সব ঘটনায় বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হিসাবে আমি ব্যথিত ও মর্মাহত হয়েছি। এটা বিচার বিভাগের সবার মর্মবেদনার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। এ ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনা যাতে না ঘটে সে বিষয়ে আপনারা সচেতন থাকবেন।”

কোনো ঘটনার উল্লেখ না করে বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘এ সব ঘটনায়’ বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হিসাবে তিনি ‘ব্যথিত ও মর্মাহত’।

“এটা বিচার বিভাগের সবার মর্মবেদনার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। এ ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনা যাতে না ঘটে সে বিষয়ে আপনারা সচেতন থাকবেন।”

বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের যে আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে ‘কিছু ব্যক্তির’ ভুলের কারণে তা ভূলুণ্ঠিত হতে দেওয়া যায় না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, “আমি বিচারকদেরকে সৎ ও মানবিক মূলবোধসম্পন্ন দেখতে চাই। বিচারে আপনারা হবেন দৃঢ় এ নির্ভীক। জনগণও এটা প্রত্যাশা করে।…যে যে অবস্থানেই থাকুন, যে অবস্থানেই থাকুন, আমি বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের নিকট থেকে সংযত আচরণ প্রত্যাশা করি।”

সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠার আশ্বাস মিলেছে জানিয়ে মত বিনিময় সভায় তিনি বলেন, সাংবিধানিক বিধান ও মাজদার হোসেন মামলার নির্দেশনা অনুসারে অধস্তন সব আদালত ও ট্রাইব্যুনালের ওপর সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধায়ন ও নিয়ন্ত্রণ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য এ সচিবালয় প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি।

“এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আমাদের আলোচনার প্রেক্ষিতে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। অত্যন্ত উচ্চমহল থেকেই দিয়েছেন। আশা করি, শিগগিরই বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করে আমরা সুপ্রিম কোর্ট থেকে আইন ও সংবিধান অনুসারে আমাদের যথাযথ দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হব।”

বিচার বিভাগীয় সব কর্মকর্তা নিজ নিজ অবস্থানে থেকে এ বিষয়ে কাজ করে যাবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি।

নিম্ন আদালতের কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট থেকে অধস্তন আদালতে যখন কোনো নোটিশ জারির জন্য পাঠানো হয়, সেগুলো যথাসময়ে জারি হয়ে প্রতিবেদনসহ ফেরত আসে না। সুপ্রিম কোর্ট থেকে যখন কোনো নথি তলব করা হয়, সেগুলো সময়মতো নিম্ন আদালত থেকে পাঠানো হয় না।

“এটা নৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। এটা চলতে দেওয়া যায় না। এতে উচ্চ আদালতে মামলা পরিচালনায় সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এ বিষয়ে জেলা ও দায়রা জজদের ব্যক্তিগত তদারকি বাড়াতে হবে। যে সব কর্মচারী দায়িত্বের অবহেলা করবেন, তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এর যেন কোনো অন্যথা না হয়।”

সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার একেএম শামসুল ইসলাম এই মত বিনিময় অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।


পূর্বের সংবাদ