মাহমুদুর রহমানকে নোবেল পুরস্কার দেয়া উচিত : কাদের সিদ্দিকী - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

মাহমুদুর রহমানকে নোবেল পুরস্কার দেয়া উচিত : কাদের সিদ্দিকী



(খবর তরঙ্গ ডটকম)

ঢাকা, ২১ ডিসেম্বর (খবর তরঙ্গ ডটকম)- যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের পদত্যাগী বিচারক নিজামুল হক নাসিমের সাথে প্রবাসী এক আইনজীবীর বহুল আলোচিত স্কাইপে সংলাপ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার প্রশংসা করে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, ‘যুদ্ধাপরাধ বিচার প্রক্রিয়ায় আমার দেশ পত্রিকা একটি অসাধারণ কর্মকাণ্ড করেছে। সে জন্য ওই পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে নোবেল পুরস্কার দেয়া উচিত। অথচ সরকার তাকে জেলে ঢোকানোর পাঁয়তারা করছে।’
আজ শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. পিয়াস করীম।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘মাহমুদুর রহমানকে আগেও একবার ১০ মাসের জন্য জেলে পাঠানো হয়েছিল। এবারো হয়ত হবে, কিন্তু ১০ মাস পরে যখন গণেশ উল্টে যাবে তখন কী হবে? সরকারকে এ বিষয়ে ভাবতে হবে।’
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘তোমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ভালো করে করো, তবে তার আগে নিজের পরিবারে যারা আছে তাদের বিচারও করো।’
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধনে আমি কেন দাঁড়ালাম না এ নিয়ে কথা হয়। কিন্তু মানববন্ধন করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা যাবে? ভদ্রলোকের দেশে মানববন্ধন করে লাভ হয়, এখানে তা সম্ভব নয়। আর সরকার তো বলেই দিয়েছে, ‘আমি নাকি যুদ্ধাপরাধী।’
পুরান ঢাকার বিশ্বজিত দাস হত্যাকাণ্ডের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরের পদত্যাগও দাবি করে করে মুক্তিযুদ্ধে বীরউত্তম খেতাব পাওয়া এই বীর বলেন, ‘তিনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) পুলিশ ও র‌্যাবের মন্ত্রী, যুবলীগ বা ছাত্রলীগের নয়। কিন্তু তিনি পুলিশকে নির্দেশ না দিয়ে ছাত্রলীগ ও যুবলীগকে নির্দেশ দিয়েছেন জামায়াত ও শিবিরকে প্রতিহত করতে। সে জন্যই ছাত্রলীগ এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।’
জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধের দাবিতে সিপিবি ও বাসদের হরতাল নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি আরো বলেন, ‘এমন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একজন হয়েছেন, যিনি আবার যারা হরতাল করেছেন তাদের ধন্যবাদ দেন। তাদের কাছ থেকে হরতাল শিখতে বলেন। এটা হাস্যকর ও দৃষ্টিকটু ব্যাপার।’
পদ্মা সেতু দুর্নীতির ঘটনায় সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন এবং সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী ‘নির্দোষ’ মন্তব্য করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘পদ্মা সেতু নির্মাণে কোনো সমস্যাই হত না, যদি বিশ্ব ব্যাংকের নির্দেশনা মতো কাজ করা হতো। কিন্তু এখানে কাশিমবাজার কুঠির মতো একটি ষড়যন্ত্র হয়েছে।’
ড. পিয়াস করীম ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো নিষিদ্ধে বামপন্থী দলগুলোর দাবির বিরোধতিা করে বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপির মতো ব্যক্তিনির্ভর রাজনৈতিক দল নয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় এই দলের ভূমিকা বিতর্কিত ছিল- এতে সন্দেহ নেই। তবে এই দলের শতকরা ৮০ ভাগ কর্মীই মুক্তিযুদ্ধের পরের প্রজন্ম। সে সময়ের কোনো স্মৃতি তাদের মধ্যে নেই।’
তিনি বলেন, সমগ্র বিশ্বে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের প্রোপট রয়েছে। এ অবস্থায় আমাদের দেশে এটি নিষিদ্ধ করাতে কিছু টেকনিক্যাল সমস্যা রয়েছে। যারা ইদানীং গলাবাজি করছেন, তারা এই সত্যটুকু বুঝতে পারছেন না।
সুত্র: নয়াদিগান্ত


পূর্বের সংবাদ