গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে মামলার কাজ পুনরায় শুরু করা উচিত:মওদুদ - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে মামলার কাজ পুনরায় শুরু করা উচিত:মওদুদ



(খবর তরঙ্গ ডটকম)

ঢাকা, ২৩ ডিসেম্বর (খবর তরঙ্গ ডটকম)-  বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদএকাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে  বলেছেন, ‘এই রায় নিয়ে আগামী ১০/২০ বছর পর গবেষণা হবে। তা-ই এই রায়ের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে মামলার কাজ পুনরায় শুরু করা উচিত।’ রোববার ট্রাইব্যুনাল-১- এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাঈন সাঈদীর মামলা পুনরায় শুরু করতে আসামিপক্ষের আবেদনের পক্ষে ল’পয়েন্টে কথা বলার পর মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের একথা বলেন।

গত ১৯ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াত আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মামলা পুনরায় শুরু করতে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করে আসামিপক্ষ।

ট্রাইব্যুনাল আবেদন আমলে নিয়ে তা শুনানির জন্য সোমবার দিন ধার্য করেন। তবে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ওমরা করতে সৌদি আরব যাবেন এজন্য রোববার তিনি ল’পয়েন্টে আবেদনের পক্ষে তার বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার আইনি পেশার জীবনে আমি শুনিনি কোন আদালত বাইরে থেকে চার্জ ফ্রেম করে এনে আদেশ দিয়েছেন। পৃথিবীর কোন আদালতে এমনটি ঘটেছে বলে আমি শুনিনি।’

সকালে তিনি ট্রাইব্যুনালে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ৬ (৬) ধারায় বলা আছে ‘শুধুমাত্র ট্রাইব্যুনালের কোন সদস্যের পরিবর্তন হলে বা কোন সদস্য অনুপস্থিত থাকলে  ইতিপূর্বে সাক্ষ্য দিয়ে গেছেন এমন কোন সাক্ষীকে পুনরায় সাক্ষ্য দেয়ার জন্য তলব করতে বা পুনরায় শুনানি গ্রহণে ট্রাইব্যুনাল বাধ্য থাকবে না।’

কিন্তু ২(এ) ধারায় বলা আছে, ট্রাইব্যুনাল স্বাধীনভাবে বিচার কাজ পরিচালনা করবেন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন।

তিনি বলেন, ‘বিচারপতি নিজামুল হক পুরো বিচার কার্যক্রমকে কলুষিত করে রেখে গেছেন। তিনি পদত্যাগ করেছেন এবং তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। এছাড়া তার আর কিছু করার ছিল না। কেন তিনি পদত্যাগ করেছেন? একটা অস্বাভাবিক অবস্থায় পড়ে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।’

মওদুদ বলেন, ‘আপনাদের দেখতে হবে তিনি যা রেখে গেছেন, তার সবকিছু যদি আপনারা গ্রহণ করেন তাহলে তা ন্যায়বিচারের মধ্যে পড়ে কিনা?’

‘সংবিধানে বলা আছে- প্রধান বিচারপতি স্বাধীনভাবে বিচার কাজ পরিচালনা করবেন। আপনারাও সংবিধান অনুযায়ী স্বাধীনভাবে বিচার কাজ করবেন। ৬ (৬) ধারা এখানে প্রয়োগ করতে আপনারা বাধ্য নন। আপনারা এখানে ন্যায়বিচারের জন্য বসেছেন এবং আইন ও সংবিধানে আপনাদের ন্যায় বিচারের জন্য ক্ষমতা দেয়া হয়েছে এবং ন্যায়বিচার করার আদেশ দেয়া হয়েছে’- যোগ করেন তিনি।

ব্যারিস্টার মওদুদ আরো বলেন, ‘এই বিচারে চার্জ গঠনের আদেশ বাইরে থেকে এসেছে। এটা চিন্তারও অতীত। দুনিয়ার ইতিহাসে এটা ঘটেনি। তাকে অপসারণের যে আবেদন করা হয়েছিল সে আদেশও বাইরে থেকে এসেছে। রায়ের কাঠামো কি হবে তাও বাইরে থেকে এসেছে। এরপর ট্রাইব্যুনালের স্বাধীনতা থাকল কোথায়?’

তিনি আদালতকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনারা যদি সিদ্ধান্ত নেন, বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম যা রেখে গেছেন, সেখান থেকে তার ওপর ভিত্তি করে রায় দেবেন তা দিতে পারেন। কিন্তু তার গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু হবে তা আপনাদের ভাবতে হবে।’

মওদুদ বলেন, ‘আপনারা এমন একটা রায় দিন যাতে মানুষ মনে করে এবং বিশ্বাস করে যে, আপনারা ন্যায়বিচার করেছেন। তা না হলে এ বিচার আজ এখানে শেষ হয়ে যাবে না। পাঁচ, দশ বছর পরও মানুষ এ নিয়ে গবেষণা করবে। তাই রায়ের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি মাথায় রেখে মামলার কার্যক্রম পরিচালনার আবেদন করছি।’

এই বলে বিএনপির এই অন্যতম নীতিনির্ধারক তার সাবমিশন শেষ করেন।

অন্যদিকে প্রসিকিউটর রানা দাস গুপ্ত বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্ত করতে বিবাদীপক্ষ শুরু থেকে একের পর এক অহেতুক আবেদন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় রোববারও তারা দুটি আবেদন করেছে। একটি আবেদনের পক্ষে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বক্তব্য দিয়েছেন।

তিনি বলেন, বিচারকে বানচাল করতে তাদের মাঠের স্লোগান যা ট্রাইব্যুনালেও তাই দিয়ে আসছেন।

তিনি আরো বলেন, কারো ব্যক্তিগত একাউন্ট হ্যাকিং করা একটি অপরাধ। আবার হ্যাকিং করা বিষয় নিয়ে এখন তারা মাঠে নেমেছেন বিচারকে নষ্ট করতে।

প্রসঙ্গত, গত ৮ ডিসেম্বর বিচারপতি নিজামুল হকের স্কাইপি সংলাপ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিদেশি পত্রিকা দ্য ইকোমিস্ট। পরে ওই স্কাইপি সংলাপ নিয়ে দৈনিক ‘আমার দেশ’ পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এরপর গত ১১ ডিসেম্বর বিচারপতি নিজামুল হক পদত্যাগ করায় ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়।

আর এই কারণ দেখিয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ট্রাইব্যুনাল-১- এ বিচারাধীন প্রত্যেকটি মামলা পুনরায় শুরু করাসহ বিভিন্ন আবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেছেন।


পূর্বের সংবাদ