(ইবি) প্রক্টর ড. আকতারুল ইসলাম জিল্লু প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

(ইবি) প্রক্টর ড. আকতারুল ইসলাম জিল্লু প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ



(খবর তরঙ্গ ডটকম)

ইবি (কুষ্টিয়া) ২৪ ডিসেম্বর (খবর তরঙ্গ ডটকম)- ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ক্লাস ও পরীক্ষার দাবিতে বিক্ষুব্ধ সাধারণ শিক্ষার্থীরা সোমবার সকাল ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. আকতারুল ইসলাম জিল্লুকে প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। এদিকে, প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা খুলনা-কুষ্টিয়া-মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি চরম উত্তেজনাকর। অপরদিকে, পুলিশের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে অবরোধ তুলে নেওয়ার অভিযোগে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি রকিকে মারধর করেছেন ছাত্রলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর গ্রুপের কর্মীরা।

এর পর ছাত্রলীগের মিজু-সাইফুল গ্রুপের সাহায্যে রকি আবার মহাসড়কে ফিরে এসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক থেকে ক্যাম্পাসে ফেরত আনার চেষ্টা করেন। এসময় ছাত্রলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর গ্রুপের সঙ্গে মিজু-সাইফুল গ্রুপের বাগবিতণ্ডা হয়। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর পর পরই আশেপাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।

বতর্মানে ছাত্রলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর গ্রুপের সমর্থকরা মহাসড়কে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, মিজু-সাইফুল গ্রুপ ক্যাম্পাসের ভেতরে অবস্থান করছেন। যে কোনো সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যেতে পারে বলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বাংলানিউজকে জানিয়েছেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অনেক রাজনৈতিক সংগঠন ফায়দা লুটতে চাইছে। এ কারণে ছাত্র সংগঠনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এবিষয়ে জানতে প্রক্টর আকতারুল ইসলাম জিল্লুকে ফোন করা হলে তিনি বাংলানিউজকে বলেন, “যেহেতু সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আন্দোলন চলছে। সে জন্য আমি কঠোর অবস্থানে যেতে পারছি না। আমি চাই, সাধারণ শিক্ষার্থীরাই তালা খুলে আমাকে উদ্ধার করুক।”

অপরদিকে, ভিসি অধ্যাপক ড. এম. আলাউদ্দিনের ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন।

ক্লাস-পরীক্ষার দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে আসছেন। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপউপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষকরা।

পুলিশ ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করছে। এবিষয়ে ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিয়ার রহমান বাংলানিউজকে বলেন, “ওপরের নির্দেশ না পেলে আমাদের করার কিছু নেই।”

উল্লেখ্য, সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষার দাবিতে ক্যাম্পাসে আন্দোলন করছেন। অপরদিকে, রোববার ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষকরা। এ সময় সোমবার সকাল ১১টা থেকে অনশন ধর্মঘটে যাবেন বলে জানান শিক্ষক নেতারা।


পূর্বের সংবাদ