বিচারপতি নিজামুল হকের স্কাইপি কথপোকথন ফাঁসের তদন্ত দাবি নিমূল কমিটির - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

বিচারপতি নিজামুল হকের স্কাইপি কথপোকথন ফাঁসের তদন্ত দাবি নিমূল কমিটির



(খবর তরঙ্গ ডটকম)

ঢাকা, ২৪ ডিসেম্বর (খবর তরঙ্গ ডটকম)-বিচারপতি নিজামুল হকের সাথে বেলজিয়াম প্রবাসী ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের স্কাইপি কথোপকথন ফাঁসে সরকারের দুর্বলতার কড়া সমালোচনা করেছে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। একই সাথে সংগঠনটি এই তথ্য চুরি ও তা প্রকাশের ঘটনার তদন্ত দাবি করেছে। সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির এ দাবি জানান।

তিনি একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের জন্য সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়াসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে।

অন্য দাবিগুলো হলো- ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনে আরো দক্ষ আইনজীবী নিয়োগ এবং একটি উপদেষ্টামণ্ডলি গঠন, সংসদে আইন পাস করে ট্রাইব্যুনালকে স্থায়ী ও প্রশাসনিকভাবে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান করা এবং যুদ্ধাপরাধের জন্য ব্যক্তির পাশাপাশি সংগঠন ও বাহিনী হিসাবে জামায়াতে ইসলামী, তথ্য চুরি পাচার ও প্রকাশের জন্য আরো কঠোর আইনি বিধি-নিষেধ আরোপ, শান্তি কমিটি, রাজাকার, আলবদর ও আল-শামসেরও বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা। লিখিত বক্তব্যে শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের নিজের ঘরে নিরাপত্তা লাভ এবং চিঠিপত্র ও যোগাযোগের অন্যান্য উপায়ে গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার রয়েছে। এ অধিকার লঙ্ঘনের জন্য ফৌজদারি আইনে শাস্তির বিধানও রয়েছে।’ তিনি বলেন, দৈনিক ‘আমার দেশ’ নাগরিকের মৌলিক অধিকার এবং ফৌজদারি আইন লঙ্ঘন করে চুরির মাধ্যমে পাওয়া তথ্য প্রকাশ করে সংবাদপত্রের নীতিমালা, বাংলাদেশের সংবিধান ও প্রচলিত আইনের প্রতি চরম অবজ্ঞা দেখিয়েছে, যা নিন্দনীয় অপরাধ।

উল্লেখ্য, বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অবস্থানরত বাংলাদেশি আইন বিশেষজ্ঞ ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের সাথে স্কাইপির কথপোকথন প্রকাশের পর আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক গত ১১ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে সরকারের সমন্বয়হীনতা ও নমনীয়তায় যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে শাহরিয়ার কবির।

সরকারকে আহমেদ জিয়াউদ্দিন সম্পর্কে অবস্থান পরিষ্কারের আহ্বান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘আমরা জানতে চাই, সরকার তাকে ট্রাইব্যুনালের উপদেষ্টা বা পরামর্শদাতা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে কিনা। যদি তিনি সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হন তাহলে সরকারের পাশাপাশি জিয়াউদ্দিনকেও তার পেশাগত অবস্থান স্বচ্ছ করতে হবে।’

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল বলেও মন্তব্য করেন নির্মূল কমিটির এই নেতা। বলেন, ‘নিরাপত্তার অভাবেই টাইব্যুনালের সাবেক চেয়াম্যানের স্কাইপি কথপোকথন হ্যাকিং করা সম্ভব হয়েছে।’

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী সংগঠন জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ না করা হলে এবং তাদের অস্ত্র ও অর্থের উৎস বন্ধ না হলে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সকল অর্জন নাস্যৎ হয়ে যাবে।’

সংবাদ সম্মেলনে নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘তথ্য-প্রযুক্তি আইন ২০০৬-এর ৫৬/২ ধারায় হ্যাক করা সম্পর্কে বলা হয়েছে। আর ৫৮/২ ধারায় বলা হয়েছে, হ্যাক করে তথ্য চুরির জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড এবং এক কোটি টাকা জরিমানা হতে পারে। দেশি-বিদেশি সবাই এর আওতায় থাকবে।’ তিনি এ শাস্তিও পর্যাপ্ত নয় উল্লেখ করে বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় তথ্য পাচারের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং ব্যক্তিগত তথ্য পাচারের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান চালু করা উচিত।’ নির্মূল কমিটির সহ-সভাপতি অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের দুটি দল জামায়াত ও বিএনপি প্রথম থেকেই বিচার বানচালের ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। এ বিচার করার ক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়হীনতা এবং সরকারের নমনীয়তার কারণে বিচার বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের প্রতিটা মন্ত্রী প্রতিদিন রায়ের একেকটা ঘোষণা দিচ্ছেন। এই অতিকথন ট্রাইব্যুনালের ওপর প্রভাব ফেলছে। তাদের বুঝতে হবে এটা একটা বিচার, রাজনীতির ইস্যু না। এটা সাধারণ কোনো বিচার না। পুরো জাতি এ বিচারের রায় শোনার অপেক্ষায় রয়েছে। এটা নিয়ে কোন রাজনীতি করে লাভ হবে না।’

সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার তুরীন আফরোজ, শহীদ পরিবারের পক্ষে শ্যামলী নাসরীন চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য দেন। এছাড়া ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী, মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সন্তান গাজী সালাহউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।


পূর্বের সংবাদ