স্বাধীন ট্রাইব্যুনালে বিচার বিলম্বিত হওয়ার কোনো কারণ নেই: ইনু

ঢাকা, ২৬ ডিসেম্বর (খবর তরঙ্গ ডটকম)- আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে কোনো হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল স্বাধীন। এখানে বিচার বিলম্বিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। বিচার কাজ শুরু হয়েছে, অব্যাহত থাকবে।’তবে তিনি সংশয় প্রকাশ করে বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে যদি বাংলাদেশের জনগণের সরকার আসে তাহলে বিচারকাজ চলতে থাকবে। আর যদি আফগানিস্তান বা পাকিস্তানপন্থী সরকার আসে তাহলে বিচারকাজ বাধাগ্রস্ত হবে।’সাম্প্রতিক সময়ে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার-প্রক্রিয়া নিয়ে ‘বিভ্রান্তিকর প্রচারের’ জবাব দিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইনু এসব কথা বলেন।

ট্রাইব্যুনালকে সম্পূর্ণ স্বাধীন উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা বিচার কাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং তারা স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে স্বাধীনভাবেই বিচারকাজ পরিচালনা করছেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘তারপরও এ বিচার ভণ্ডুল করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আইনের অপব্যাখ্যা, ভুল ব্যাখ্যা ও ঢালাও বক্তব্যের মাধ্যমে গুজব ছড়ানো হচ্ছে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা করে দিয়েছেন বলে যে কথা বিরোধীরা বলেন, তা খণ্ডন করে ইনু বলেন, ৩৭ হাজারের মধ্যে যে ১০ থেকে ১২ হাজার ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল, ট্রাইব্যুনালগুলোতে তাদের বিচার চলছিল। শুধু রাজনৈতিক কারণে যারা পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন, কিন্তু কোনো ধরনের যুদ্ধাপরাধের সাথে জড়িত ছিলেন না, শুধু এমন ২৩ হাজার মানুষকে সাধারণ ক্ষমা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু।

তিনি অভিযোগ করেন, সামরিক শাসন ও সামরিক শাসন সমর্থিত বিএনপি-জামায়াত সরকার বিচার বন্ধ রেখেছিল। বিশেষ করে উল্লেখ করলে জিয়াউর রহমান এই বিচারের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছিল।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর সামরিক শাসন জারি করা হয়। এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কোলাবরাটরস স্পেশাল ট্রাইব্যুনালস অর্ডার বাতিল করে দেয়া হয়। এতে যুদ্ধাপরাধের বিচারের প্রাথমিক উদ্যোগ ব্যাহত হয়।

তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ‘জিয়া বিচারের কাজ সরাসরি বন্ধ করে দেন। আইনটি বাতিল করে দেন। যে ১০ থেকে ১২ হাজার বন্দি যুদ্ধাপরাধের নানা অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে বিচারাধীন অবস্থায় কারাগারে ছিলেন, তাদের মুক্ত করে দেয়া হয়।’

৪০ বছর ধরে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কেন করা হয়নি- বিরোধীদের এমন বক্তব্য খণ্ডন করে হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘যারা বলেন যুদ্ধাপরাধের সাথে জড়িতদের বিচারের উদ্যোগ নেয়া হয়নি, এটি ঠিক নয়। ১৯৭২ সালে কোলাবরাটরস স্পেশাল ট্রাইব্যুনালস অর্ডার জারি করার পর যুদ্ধাপরাধের বিভিন্ন অভিযোগে ৩৭ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে ১০ থেকে ১২ হাজার জনের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠনসহ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠন করা হয়।’

তখন বিচারের জন্য ৭৩টি স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই সব ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষে ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ৬৮ জনকে যাবজ্জীবন ও ৭৫২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেয়া হয়।

স্কাইপ সংলাপের জের ধরে ট্রাইব্যুনালের বিচারকের পদত্যাগ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইনু বলেন, ‘এটা নিয়ে আমরা মাথা ঘামাচ্ছি না। বিচারক পদত্যাগও করতে পারেন সরেও যেতে পারেন। এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবে বিচারকাজ বিলম্বিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নির্যাতন করে সামরিক শাসনের মতো বিচার করতে চায় না। আমরা সভ্য মানুষ, গণতান্ত্রিকভাবে বিচার করতে চাই। এই বিচারের জন্য ৪০ বছর অপেক্ষা করেছি, আইন নিজের হাতে তুলে নেইনি।’

একে একে দেশের সব যুদ্ধাপরাধীর বিচার হবে বলেও জানান তিনি। এজন্য আগামীতে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় না আসলে বিচার ব্যহত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন জাসদ সভাপতি ইনু।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।