আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আইনজীবী প্যানেলের জন্য আলাদা গবেষক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আইনজীবী প্যানেলের জন্য আলাদা গবেষক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে



(খবর তরঙ্গ ডটকম)

নিউজ ডেস্ক, ২৭ ডিসেম্বর (খবর তরঙ্গ ডটকম)- বাংলাদেশে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও এগুলোর আইনজীবী প্যানেলের জন্য আলাদা গবেষক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বিবিসি বাংলার সান্ধ্য অনুষ্ঠান প্রবাহ-কে বলেছেন, ‘ট্রাইব্যুনাল ও আইনজীবী প্যানেলের জন্য আলাদা আলাদা গবেষক নিয়োগ করা হচ্ছে।’ তিনি জানান, প্রসিকিউসন সেলের জন্য দুজন জ্যেষ্ঠ গবেষক এবং একজন গবেষক নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং তা চূড়ান্তভাবে পাস হয়েছে। ‘ট্রাইবুনালের বিচারকাজে সহায়তা করার জন্য গবেষক দেয়া হচ্ছে। সেখানে তার অগ্রগামী আরো দুইজন গবেষক থাকছেন। এখন যে সিদ্ধান্ত পাস হয়েছে এর মধ্যদিয়ে ট্রাইবুনালকে স্থায়ী কাঠামো দেয়া হচ্ছে।’- যোগ করেন কামরুল ইসলাম।

প্রবাসী আইনজীবী আহমেদ জিয়াউদ্দিনের সাথে সম্প্রতি ট্রাইবুনাল-১- এর সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের স্কাইপি সংলাপ ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর তিনি ওই পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতেই ট্রাইব্যনালে গবেষক নিয়োগের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে আইনজীবীরা ধারণা করছেন। তবে সরকার বলছে, এমন পরিকল্পনা অনেক আগেই নেয়া হয়েছিল কিন্তু বাস্তবায়ন করতে বিলম্ব হয়েছে।

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াত নেতা অধ্যাপক গোলাম আযম, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিচার এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের আড়াই বছরেরও বেশি সময় পর আটক এসব নেতাদের যখন বিচার প্রায় শেষ পর্যায়ে, তখন সরকার গবেষক নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিচারপতির কথোপকথন ফাঁস হওয়ায় গবেষক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুর ইসলাম বলেন, গবেষক নিয়োগ দেয়ার প্রচেষ্টা ও পরিকল্পনা আগে থেকেই ছিল। বিষয়টি চূড়ান্তভাবে পাস হতে কিছুটা সময় লেগেছে।

তবে আইনজীবীদের অনেকে মনে করছেন, গবেষক নিয়োগের প্রচেষ্টা আগে থেকে নেয়া হলেও সম্প্রতি কথোপকথন ফাঁস হওয়ায় এতে গতি পেয়েছে।

ট্রাইবুনালের রেজিস্ট্রার এ কে এম নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, গবেষক নিয়োগ ট্রাইবুনালের কাজে অনেক সহায়ক হবে। কারণ এসব গবেষকদের কাজ হবে ট্রাইবুনালের বিচার সংক্রান্ত বিষয়ে গবেষণা করা এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ট্রাইবুনালের বিচার নিয়ে গবেষণা করা। যাতে এই ট্রাইবুনালের বিচার আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন হয়।

তবে এ গবেষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আরো কিছু সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন সরকারি কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে ২০১০ সালের ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, আইনজীবী প্যানেল ও তদন্ত সংস্থার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।

বিচারক প্যানেলের প্রধান হিসেবে হাইকোর্টের বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম এবং অন্য দুই সদস্য অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ এ কে এম জহির আহমেদ ও হাইকোর্টের বিচারপতি এ টি এম ফজলে করিমকে নিয়োগ দেয়া হয়।

এরপর ২০১২ সালের ২২ মার্চ বিচারকাজ দ্রুত করতে আরো একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করে সরকার। দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হন প্রথম ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীর।

তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই বিচারক হলেন- বিচারপতি ওবায়দুল হাসান এবং প্রথম ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার মো. শাহীনুর ইসলাম।

প্রথম ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে অপর সদস্যরা ছিলেন- বিচারপতি আনোয়ারুল হক ও বিচারপতি এ কে এম জহির আহমেদ।

এরপর ২০১২ সালের ২৮ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচাররক এ কে এম জহির আহমেদ শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরদিন তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়। তার স্থলাভিষিক্ত হন হাইকোর্টের বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন।


পূর্বের সংবাদ