ব্যর্থদের ফর্মুলা দিয়ে গণতন্ত্র সুরক্ষিত হতে পারে না,‘আওয়ামী লীগের নিজস্ব গতিধারা আছে, তা দিয়েই কেবল গণতন্ত্র সুরক্ষিত হতে পারে:শেখ হাসিনা - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

ব্যর্থদের ফর্মুলা দিয়ে গণতন্ত্র সুরক্ষিত হতে পারে না,‘আওয়ামী লীগের নিজস্ব গতিধারা আছে, তা দিয়েই কেবল গণতন্ত্র সুরক্ষিত হতে পারে:শেখ হাসিনা



(খবর তরঙ্গ ডটকম)

ঢাকা, ৩০ ডিসেম্বর (খবর তরঙ্গ ডটকম)- ব্যর্থদের ফর্মুলা দিয়ে গণতন্ত্র সুরক্ষিত হতে পারে না মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের নিজস্ব গতিধারা আছে, তা দিয়েই কেবল গণতন্ত্র সুরক্ষিত হতে পারে।’তিনি রোববার গণভবনে কাউন্সিলর এবং দেশের বিভিন্ন জেলার দলীয় প্রতিনিধিদের সাথে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন।গতকাল শনিবার গণতন্ত্র রক্ষায় সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান চারটি প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। এই প্রস্তাবনাকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ কেউ আজকাল ফর্মুলা দেন। ব্যর্থ লোকদের ফর্মুলা দিয়ে তো আর গণতন্ত্র সুরক্ষিত হতে পারে না। আওয়ামী লীগের নিজস্ব গতিধারা আছে, আওয়ামী লীগ তা দিয়েই চলবে।’

তিনি বলেন, ‘যিনি (আকবর আলি খান) একটি নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকার বিষয়ে তার কোনো ফর্মুলা দেয়ার অধিকার নেই।’

শেখ হাসিনা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ফর্মুলা নিয়ে এখন অনেকেই অনেক রকম মন্তব্য করছেন। তাদের কেউ কেউ আবার ফর্মুলা দিচ্ছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক একজন উপদেষ্টাও এ রকম ফর্মুলা দিয়েছেন। অথচ এই ব্যক্তি সাবেক রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের সময়ে উপদেষ্টা ছিলেন। তখন তিনি নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরে শনিবার এক অনুষ্ঠানে আকবর আলি খান অন্তর্বর্তী সরকারের বিষয়ে চারটি প্রস্তাব দেন। এগুলো হলো-

১. ১৯৯৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নির্বাচনের মতো রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের কাছে আরেকটি নির্বাচন করতে প্রস্তাব করবে। অথবা

২. ১০ জন মন্ত্রী দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করবে। এতে ৫ জন সরকারি দলের এবং ৫ জন বিরোধী দলের সদস্য থাকবেন। সরকারি দলের সদস্য নির্বাচন করবে বিরোধী দল এবং বিরোধী দলের সদস্য নিবার্চন করবে সরকারি দল। অথবা

৩. নিবার্চনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে দুটি বিভাগে ভাগ করা যেতে পারে। যথা- সরকারি দলকে ‘ক’ ধরে যেখানে তাদের সদস্য থাকবে ১০ জন। একইভাবে বিরোধী দলকে ‘খ’ ধরে সেখানেও তাদের সদস্য থাকবে ১০ জন। উভয় গ্রুপ থেকে ৫ জন করে নির্বাচিত হয়ে ১০ জনের একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা গঠন করবে এবং ১০ জন মিলে একজনকে এর প্রধান নির্বাচন করবেন। অথবা

৪. বিরোধী দল কি চায় সে বিষয়ে একটি প্রস্তাব পাস করে গণভোটের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তাহলে জনগণই নির্বাচন করবে কোন সরকারের অধীনে দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের নেতা-কর্মীদের নিজ নিজ এলাকায় উন্নয়ন তৎপরতা আরো বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে দলকে আরো শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

এ সময় আওয়ামী লীগের সংগ্রহশালা করার জন্য তৃণমূল নেতাদেরও উদ্যোগী হওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, সারা দেশে আওয়ামী লীগের অনেক প্রবীণ লোক আছে, তাদের কাছ থেকে আওয়ামী লীগের ৬৪ বছরের ইতিহাস ও নিদর্শন সংগ্রহ করতে হবে।

পরে জেলা থেকে আসা দলের প্রতিনিধি ও কাউন্সিলররা সপ্তমবারের মতো আওয়ামী লীগের সভানেত্রী নির্বাচিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীও তাদের মিষ্টি ও হালকা নাস্তা দিয়ে আপ্যায়ন করেন।


পূর্বের সংবাদ