বর্তমান নির্বাচন কমিশন আগামী সংসদ নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে পারবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন:শামসুল হুদা - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

বর্তমান নির্বাচন কমিশন আগামী সংসদ নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে পারবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন:শামসুল হুদা



ঢাকা, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এটিএম শামসুল হুদা বর্তমান নির্বাচন কমিশন আগামী সংসদ নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে পারবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন । সুজনের (সুশাসনের জন্য নাগরিক)  সেমিনারে অংশ নিয়ে তিনি এ সংশয় প্রকাশ করেন। সোমবার দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে  ‘নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম ও নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক এ সেমিনার সঞ্চালনা করেন সুজনের নির্বাহী পরিচালক বদিউল আলম মজুমদার।

শামসুল হুদা  বলেন, “নির্বাচন কমিশনকে  আর স্বাধীন করার প্রয়োজন নেই। সবার মধ্যে আইন পালনের মনোবৃত্তি তৈরি হলেই বর্তমান আইনে কমিশন অনেক স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে।” বর্তমান কমিশন আরপিও তে সংশোধনী আনতে যাচ্ছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ প্রসঙ্গে সাবেক এই সিইসি জানান, তাদের সময়ে সীমানার বিষয়ে যে আলোচনা হয়ছে, সেসব আলোচনার কার্যবিবরণী বর্তমান কমিশনের প্রকাশ করা উচিত। কমিশন এখন এ বিষয়ে যে আলোচনা করছেন তা তৃতীয় পর্যায়। এগুলো সবার জানার অধিকার রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

শামসুল হুদা বলেন, “প্রত্যেকটি নির্বাচনের পর একটি রিপোর্ট হওয়া উচিত যা তারা করতে পারেননি।” শুধু তাই নয়, নির্বাচন কমিশনের কাজের একটি বাৎসরিক রিপোর্টও থাকা উচিত বলে মত দেন তিনি।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সিদ্ধান্তহীনতা। তারা নিজেদের মধ্যে টিম তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছেন।” তিনি নির্বাচন কমিশনের আর্থিক স্বাধীনতার বিষয়টি নিয়েও কথা বলেন। ইসিকে সরাসরি অর্থ বরাদ্দের সুপারিশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “নির্বাচনে ইসি প্রার্থিতা বাতিল করার পর যখন আদালত থেকে এসব প্রার্থী ছাড় পেয়ে যান, তখন আর কিছুই করার থাকে না। এক্ষেত্রে বিচার বিভাগেরও বড় ভূমিকা রয়েছে।”

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, “শুধু নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করলেই চলবে না, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রয়োজন মাঠ প্রশাসন ও পুলিশের নিরপেক্ষতা দরকার। হাজার হাজার লোক এ কাজের সঙ্গে জড়িত। দলীয়করণের প্রভাব থেকে তাদের মুক্ত করতে না পারলে কোনোকিছুই সম্ভব নয়।

পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান ড. সাদাত হোসাইন বলেন, “নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সরকার, নির্বাচন কমিশন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিচার বিভাগ, রাজনৈতিক দল ও ভোটার এই সাতটি গ্রুপের প্রয়োজন।” স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশে সরকার ছাড়া আর কেউই স্বাধীন নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনের কাজের কোনো ধারাবাহিকতা নেই উল্লেখ করে রাজনীতিবিদ সরদার আমজাদ হোসেন বলেন, “আরপিওর মর্যাদা কোন রাজনৈতিক দলই রাখেনি এবং মেনে চলেনি।”

বর্তমানকে কমিশনকে সবার সঙ্গে পরামর্শ করে আরপিও সংশোধন করার ব্যাপারে মত দেন তিনি।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, “সাধারণ মানুষ এই দুই রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডে বিরক্ত। তারা বিকল্প চায়। ” বর্তমান নির্বাচন কমিশনের কার্যকলাপও নিরপেক্ষ নয় বলে মনে করেন তিনি।


পূর্বের সংবাদ