সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও

২০ জানুয়ারি মহাসমাবেশের আগে যদি সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের মুখোমুখি করা না হয়, তাহলে আরও কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছে ঐক্যবদ্ধ সাংবাদিক সমাজ। এতে কার গদি থাকবে, কার থাকবে না, তা সাংবাদিকদের দেখার বিষয় নয় বলে মন্তব্য করেছেন সাংবাদিক নেতারা। সাগর-রুনির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে আজ মঙ্গলবার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সাংবাদিকেরা। সেখান থেকে এ হুমকি দেওয়া হয়।
অবস্থান কর্মসূচিতে সাংবাদিক নেতারা বলেন, সৌদি কূটনীতিক খালাফ হত্যার বিচার হয়েছে। এতে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। চিকিত্সক নিমাই চন্দ্রের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অথচ সাংবাদিক হত্যার বিচার হয়নি। সব সরকারের আমলে কোনো না কোনো সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। এসব বিচার সাংবাদিক সমাজ চেয়েছে। কিন্তু কোনো সরকারই সাংবাদিক হত্যার বিচার করেনি।
নেতারা আরও বলেন, সাংবাদিকদের এ আন্দোলন রাষ্ট্র বা সরকারের বিরুদ্ধে নয়। তবে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য সাংবাদিক হত্যার বিচার প্রয়োজন।
কর্মসূচিতে সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, রুহুল আমিন গাজী, আবদুল জলিল ভূঁইয়া, মনজুরুল আহসান বুলবুল, আবদুস শহীদ, ওমর ফারুক, শাহেদ চৌধুরী, শাহ আলমগীর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে ইকবাল সোবহান বলেন, ‘আপনি যখন নির্যাতিত হয়েছিলেন, তখন সাংবাদিক সমাজ আপনার পাশে দাঁড়িয়েছিল। এখন আপনি ক্ষমতায় বসে বলছেন, আন্দোলন করে বা চাপ দিয়ে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচার ত্বরান্বিত করা যাবে না। কিন্তু ঐক্যবদ্ধ সাংবাদিক সমাজ যদি চাপ দেয়, তাহলে আপনি ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না।’
জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে গণমাধ্যমকর্মীরা মিছিল নিয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সচিবালয়ের প্রধান ফটকের সামনে রাস্তায় বসে অবস্থান নেন। দুপুর দেড়টা পর্যন্ত সেখানে তাঁরা অবস্থান করেন। তখন ওই সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ ছিল।
সাংবাদিকদের চারটি সংগঠন—জাতীয় প্রেসক্লাব, বাংলাদেশের ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ও রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতারাসহ ইলেকট্রনিক ও মুদ্রণ গণমাধ্যমের কর্মীরা এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
গত ২৩ ডিসেম্বর একই দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রতীকী গণ-অনশন করা হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।