বিশ্বজিৎ হত্যা ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্তর্ভুক্ত করতে আবেদন

পুরান ঢাকায় বিশ্বজিৎ দাস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটিকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে এ মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের আবেদন করা হয়েছে।মঙ্গলবার অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম নামে এক আইনজীবী ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর এ আবেদন করেন।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু তার আবেদন গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছেন আবেদনকারী আইনজীবী।বিশ্বজিৎ দাস হত্যার এ ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে আইসিটি এ্যাক্ট ৩ (২) এ’ ধারা অনুযায়ী আবেদন করা হয়েছে।

আইনজীবী রেজাউল করিম বলেন, ‘বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা মানবতাবিরোধী অপরাধের মধ্যে একটি জঘন্যতম অপরাধ। প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ অপরাধটি মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে আবেদন করেছি।’

প্রসঙ্গত, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে রোববার সারাদেশে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। অবরোধ চলাকালে পুরান ঢাকার শাঁখারি বাজার এলাকায় অবরোধ সমর্থকরা মিছিল বের করলে তাতে হামলা চালায় ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ কর্মীরা।

এ সময় তারা পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ী বিশ্বজিতকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে। আক্রান্ত বিশ্বজিৎ নৃশংস ও বর্বর এই হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে নিজেকে হিন্দু পরিচয় দিয়েও শেষ রক্ষা করতে পারেননি।

পথচারীদের কেউ কেউ বিশ্বজিৎকে পাশের ন্যাশনাল হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করলে এতেও বাধা দেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। এরপর প্রাণ বাঁচাতে আবার দৌড়ে বিশ্বজিৎ শাঁখারীবাজারের একটি গলিতে গিয়েই ঢলে পড়ে যান। পরে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কিছুক্ষণ পর মারা যান বিশ্বজিৎ।

এরপর গত ১১ ডিসেম্বর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ বিশ্বজিৎ হত্যার ঘটনায় জড়িতদেরকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়। এ ঘটনায় জড়িত বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।