ট্রাইব্যুনালে গোলাম আযম নিজামী ও সাঈদীর মামলা পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

ট্রাইব্যুনালে গোলাম আযম নিজামী ও সাঈদীর মামলা পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ



ঢাকা, (খবর তরঙ্গ ডটকম)
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াত নেতা অধ্যাপক গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামী ও দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলা পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে । বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল আসামিপক্ষের করা আবেদন খারিজের আদেশ দেন।
তবে সাঈদীর মামলার যুক্তিতর্ক থেকে শুরু করার নির্দেশ  দিয়েছেন। আগামী ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি প্রসিকিউশন এবং ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি আসামিপক্ষ তাদের যুক্তি উপস্থাপন করতে পারবেন বলে আদেশে বলা হয়।
এর আগে গত মঙ্গলবার আসামিপক্ষের করা আবেদনের ওপর ষষ্ঠ দিনের মতো শুনানি শেষে আদালত আদেশের জন্য আজ দিন ধার্য করে দিয়েছিলেন।
এ পর্যন্ত আবেদনের পক্ষে শুনানি করেছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ও এডভোকেট মিজানুল ইসলাম।
অপরদিকে আবেদনের বিরোধিতা করে শুনানি করেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী।
গোলাম আযম, সাঈদী ও নিজামীর বিরুদ্ধে মামলা পুনবির্চারের জন্য গত ১৯ ও ২৩ ডিসেম্বর তিনটি আবেদন করে আসামিপক্ষ।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন বিশেষজ্ঞ প্রবাসী বাংলাদেশী আহমেদ জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর পদত্যাগী চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের স্কাইপে সংলাপকে কেন্দ্র করে মামলা তিনটির বিচার কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে আবেদনগুলো করেছেন তারা।
ট্রাইব্যুনাল-১এ গোলাম আযম, নিজামী ও সাঈদী ছাড়াও বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার চলছে। এর মধ্যে গত ৬ ডিসেম্বর সাঈদীর মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। তার বিরুদ্ধে রায় যে কোনো দিন দেয়া হবে  উল্লেখ করে মামলাটির রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়েছে। নিজামীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দ্বিতীয় সাক্ষীর জবানবন্দি পেশের পর আসামিপক্ষ জেরা শুরু করে। আসামিপক্ষের করা পুনর্বিচারের আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মামলার বিচার কার্যক্রম মুলতবি থাকবে বলে ট্রাইব্যুনাল ইতোমধ্যে আদেশ দিয়েছে।
গোলাম আযমের মামলায় প্রসিকিউশনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিপক্ষে সাফাই সাক্ষ্য শুরু হয়েছিল। গোলাম আযমের ছেলে বরখাস্তকৃত সেনা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহিল আমান আযমী বাবার পক্ষে প্রথম সাফাই সাক্ষী হিসেবে সাফাই সাক্ষ্য দিচ্ছিলেন। কিন্তু পর পর কয়েকটি ধার্য তারিখে সাফাই সাক্ষী ও তার আইনজীবী উপস্থিত না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করে যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপনের দিন ধার্য করে দিয়েছিল।
এছাড়া সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের সাক্ষ্যগ্রহণ চলছিল। তিনিও বেশক’টি আবেদন করেছেন। এ কারণে ওই মামলার বিচারিক কার্যক্রমও বর্তমানে মুলতবি রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ৮ ডিসেম্বর বিচারপতি নিজামুল হকের স্কাইপে সংলাপ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিদেশি পত্রিকা দ্য ইকোমিস্ট। পরে ওই স্কাইপে সংলাপ নিয়ে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এরপর গত ১১ ডিসেম্বর বিচারপতি নিজামুল হক পদত্যাগ করায় ট্রাইব্যুনাল পুনগঠন করা হয়।

এ সম্পর্কিত আরো খবর

পূর্বের সংবাদ