একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক কাদের মোল্লার পুনর্বিচারের আবেদনও খারিজ

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার মামলা পুনরায় শুরুর আবেদন খারিজ করে দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল-২।
সোমবার চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আবেদন খারিজের আদেশ দেয়।  ট্রাইব্যুনাল-২ সোমবার শুনানি শেষে পুনর্বিচারের এই আবেদন খারিজ করে আসামিপক্ষকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরুর নির্দেশ দেয়। এর আগে গত ২৭ ডিসেম্বর এ মামলায় প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলেই মামলার বিচার প্রক্রিয়া রায়ের পর্যায়ে পৌঁছে যাবে।

স্কাইপে এক প্রবাসী আইন গবেষকের সঙ্গে কথিত কথোপকথন নিয়ে বিতর্কের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানের পদ থেকে বিচারপতি নিজামুল হকের পদত্যাগের পর ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন নেতা মামলার কার্যক্রম নতুন করে শুরুর আবেদন করেন।

কাদের মোল্লার পক্ষে গত ৩ জানুয়ারি এই আবেদন করেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার তানভীর আহমেদ আল আমীন।

ওইদিনিই জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক আমির গোলাম আযম ও নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পুনর্বিচারের আবেদন খারিজ করে দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

আদেশে বলা হয়, ‘হ্যাক হওয়া’ তথ্যের ভিত্তিতে এ ধরনের আবেদন বিবেচনা করা সম্ভব নয়।

তবে ট্রাইব্যুনালের আগের চেয়ারম্যানের পদত্যাগের পর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠিত হওয়ায় সাঈদীর মামলায় দুই পক্ষের সমাপনী বক্তব্য আবার শুনবে আদালত। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এ মামলাটি রায়ের অপেক্ষায় ছিল।

প্রসিকিউশনকে তাদের যুক্তি উপস্থাপনের জন্য ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি এবং আসামি পক্ষকে ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি সময় দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। তাদের সমাপনী বক্বব্যের পর ল’ পয়েন্টে বিতর্কের জন্যও কিছু সমায় দেয়া হবে।

একাত্তরে হত্যা, অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ৬টি ঘটনায় গত ২৮ মে কাদের মোল্লার বিরদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ (আইও) প্রসিকিউশনের পক্ষে মোট ১২ জন এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন। আর আসামিপক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছেন মোট ছয়জন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।