দাবি পূরণ না হওয়ায় বিমানে লাগাতার ধর্মঘটের ডাক - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

দাবি পূরণ না হওয়ায় বিমানে লাগাতার ধর্মঘটের ডাক



ঢাকা, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কর্মচারীদের একটি সংগঠন দাবি পূরণ না হওয়ায় মঙ্গলবার ভোর থেকে লাগাতার ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার বিমানের প্রধান কার্যালয় বলাকার সামনে দিনভর অবস্থান কর্মসূচির পর বিকালে বিমান শ্রমিক লীগের সভাপতি মশিকুর রহমান এই ঘোষণা দেন।

সভাপতির বিরুদ্ধে বিমান কর্তৃপক্ষের আনা অভিযোগ প্রত্যাহার, আহার ভাতা ও ইউনিফর্ম, ভারত থেকে আনা বিমানের সেটআপ বাস্তবায়ন, কর্মচারীদের ব্যক্তিগত টিপি বাস্তবায়ন, একশ ভাগ চিকিৎসা ভাতা দেয়া এবং ৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করা কর্মচারীদের স্থায়ী করার দাবিতে এই আন্দোলন চালিয়ে আসছে সরকারসমর্থক সংগঠনটি।

মশিকুর রহমান বলেন, “আমরা আন্দোলনে যেতে চাইনি। প্রধানমন্ত্রী ছাড়া সম্ভাব্য সব জায়গায় আমাদের দাবির কথা জানিয়েছি। বিমানমন্ত্রীর নির্দেশনা সত্বেও আমাদের দাবি মানা হয়নি। আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে।”

মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে এই লাগাতার ধর্মঘট শুরু হবে বলে মশিকুর রহমান জানান।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শ্রমিকরা ধর্মঘটে গেলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রম দারুণভাবে ব্যাহত হবে। আর সেক্ষেত্রে দেশের প্রধান বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ ওঠানামাও বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দাবি পূরণের জন্য শ্রমিক লীগের কর্মীরা রোববার বলাকায় বিমানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ক্যাপ্টেন মোসাদ্দেক আহমেদকে প্রায় ১১ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে রাত ২টার দিকে পুলিশের হস্তক্ষেপে মুক্ত হন এমডি মোসাদ্দেক।

মশিকুর রহমান বলেন, দাবিগুলো নিয়ে তারা রোববার এমডির সঙ্গে আলোচনায় বসেন। কিন্তু এক পর্যায়ে মোসাদ্দেক আহমেদ জানিয়ে দেন, এসব দাবি মানতে তিনি অপারগ।

এরপর সোমবার সকাল থেকে বলাকা ভবনে শুরু হয় কর্মচারীদের অবস্থান ধর্মঘট। তখনই বলা হয়, বিকাল ৫টার মধ্যে দাবি পূরণের ঘোষণা না পেলে মঙ্গলবার থেকে লাগাতার কর্মসূচিতে যাবেন তারা।

সকালে বিমানের কর্মকর্তারা কার্যালয়ে ঢুকতে গিয়ে আন্দোলনরতদের বাধার মুখে প্রধান ফটক থেকেই ফিরে যান। পরে বিকাল ৪টার দিকে বিমানের পরিচালক (প্রশাসন) রাজপতি সরকারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বলাকায় প্রবেশ করেন।

বিমানের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আতিক সোবহান ও উপ-প্রধান (প্রশিক্ষণ) ক্যাপ্টেন শামীম নজরুল এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন।

এই তিন কর্মকর্তার উপস্থিতিতেও সমঝোতার কোনো উদ্যোগ না আসায় লাগাতার ধর্মঘটের ঘোষণা দেন বিমান শ্রমিক লীগের সভাপতি।

মশিকুর রহমান  বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে ছয় দফা দাবিতে আমরা আন্দোলন করে আসছিলাম। তার পরিপ্রেক্ষিতে বিমানমন্ত্রী গত মার্চে আমাদের চারটি দাবি মেনে নেয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু তারা কোনো দাবি পূরণ না করে উল্টো আমার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। তাই দাবি পূরণে আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হচ্ছি।”

গত বছর মার্চে বিমান কর্মীদের একটি সংগঠন চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। মানববন্ধন, সমাবেশ, অবস্থান কর্মসূচির পর এক পর্যায়ে তারা সর্বাত্মক ধর্মঘটের ডাক দেয়। পরে বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে ধর্মঘট স্থগিত করা হয়।


তথ্য-প্রযুক্তি এর অন্যান্য খবরসমূহ
বাংলাদেশ এর অন্যান্য খবরসমূহ
পূর্বের সংবাদ