মাহমুদুর রহমানের জামিন আবেদন ফেরত

দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও প্রকাশক হাশমত আলীকে জামিন দেয়নি হাইকোর্ট। তবে তাদের জামিন আবেদন ফেরত দিয়ে আদালত বলেছেন, আবেদনকারীদের অন্য কোনো বেঞ্চে যাওয়ার স্বাধীনতা থাকবে।মঙ্গলবার বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী ও বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেনের বেঞ্চে এ ঘটনা ঘটে। ফলে আগামীকাল বুধবার হাইকোর্টের অন্য কোনো বেঞ্চে মাহমুদুর রহমান ও হাশমত আলীর জামিন আবেদন করা হতে পারে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশি ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের স্কাইপি কথোপকথনের অংশবিশেষ প্রকাশ করে আমার দেশ পত্রিকা।

এ ঘটনার পর বিচারপতি নিজামুল হক গত ১১ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল থেকে পদত্যাগ করেন। কিন্তু ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর সাহিদুর রহমান গত ১৩ ডিসেম্বর মাহমুদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রযুক্তি আইন লঙ্ঘন করার অভিযোগে ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। পরদিন ১৪ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানা এ মামলা গ্রহণ করে।

এ মামলায় গত ২ জানুয়ারি হাইকোর্টে মাহমুদুর রহমান ও হাশমত আলীর আগাম জামিনের আবেদন সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে দাখিল করা হয়। বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে এ আবেদনের ওপর মঙ্গলবার শুনানি হয়।

জামিন আবেদনের পক্ষে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী এবং বিপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানি করেন।

এ সময় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনসহ বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

শুনানি শেষে আদালত আবেদনকারীদের সপক্ষে কোনো আদেশ দিতে রাজি হননি। এ অবস্থায় মাহমুদুর রহমান পুনরায় আদালতে আসা-যাওয়ার সময় যাতে হয়রানির শিকার না হন সেজন্য আদালতের নির্দেশনা চান তার আইনজীবী। কিন্তু আদালত সে বিষয়েও আদেশ দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।

আদালত এ সময় আবেদনটি ফেরত নেয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘আপনারা জ্যেষ্ঠ কোনো বেঞ্চে যেতে চাইলে আবেদন ফেরত নিতে পারেন।’

এরপর আইনজীবীরা বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন অন্য একটি বেঞ্চে যান। সেখানে আবেদনটি উপস্থাপন করতে চাইলে আদালত বলেন, ‘আগের আদালতে এটি কার্যতালিকাভুক্ত রয়েছে। তাই শুনতে পারব না। ওই আদালত যদি এমন কোনো আদেশ দেন যে অন্য কোনো বেঞ্চে শুনানি করা যাবে, তবেই আমরা শুনতে পারি। এ বিষয়ে আদালতের লিখিত আদেশ লাগবে।’

এ সময় আইনজীবীরা আবার বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকীর বেঞ্চে ছুঁটে যান। সেখানে যেয়ে জ্যেষ্ঠ বেঞ্চের অভিমত জানানোর পর আদালত লিখিত আদেশ দেয়। এরপর মাহমুদুর রহমানের আইনজীবীরা আবার বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে যান। কিন্তু ততক্ষণে এ আদালতের বিচারকরা এজলাস থেকে নেমে গেছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।