প্রখ্যাত সাংবাদিক, কলামিস্ট, বাম রাজনীতির পুরোধা ব্যক্তিত্ব ও মুক্তিযোদ্ধা নির্মল সেন আর নেই - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

প্রখ্যাত সাংবাদিক, কলামিস্ট, বাম রাজনীতির পুরোধা ব্যক্তিত্ব ও মুক্তিযোদ্ধা নির্মল সেন আর নেই



ঢাকা, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

প্রখ্যাত সাংবাদিক, কলামিস্ট, বাম রাজনীতির পুরোধা ব্যক্তিত্ব ও মুক্তিযোদ্ধা নির্মল সেন আর নেই। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। গত ২২ ডিসেম্বর বিকেল চারটার দিকে নির্মল সেন গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার দীঘিরপাড় গ্রামের বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়েন। উন্নত চিকিত্সার জন্য তাকে ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২৪ ডিসেম্বর তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়। সেখানে তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

নির্মল সেন ২০০৩ সালে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত (ব্রেনস্ট্রোকে) সমস্যায় আক্রান্ত হন। এরপর দেশে ও বিদেশে চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হয়েছিলেন। তবে বেশি দিন সুস্থ থাকেননি। আবার অসুস্থ হয়ে  চার বছর ধরে এই সাংবাদিক গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার দীঘিরপাড় গ্রামে নিজ বাড়িতে বাস করছিলেন।

নির্মল সেন ১৯৩০ সালের ৩ আগস্ট গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার দীঘিরপাড় গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি পঞ্চম। তার পিতার নাম সুরেন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত এবং মায়ের নাম লাবণ্য প্রভা। দেশ বিভাগের সময় মা-বাবা এবং ভাইবোনসহ পরিবারের সব সদস্য বাংলাদেশ ত্যাগ করে কলকাতা চলে গেলেও মাতৃভূমির প্রতি গভীর ভালবাসায় সিক্ত নির্মল সেন এ দেশে থেকে যান। বাবা মা চলে যাওয়ার পর ঝালকাঠিতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বড় হয়েছেন তিনি। ঝালকাঠি জেলার কলসকাঠি বিএম একাডেমী থেকে ১৯৪৪ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে ম্যাট্রিক পাস করেন। বরিশাল বিএম কলেজ থেকে আইএ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়  থেকে বিএ ও এমএ পাস করেন। ১৯৪২ সালে নবম  শ্রেণীর ছাত্র থাকা অবস্থায় মহাত্মা গান্ধীর  ‘ভারত ছাড়’ আন্দোলনে যোগ দিয়ে রাজনীতি শুরু করেন। ‘ভারত ছাড়’ আন্দোলনের ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি ১৬ দিন স্কুলগেটে ধর্মঘট করেন। ’৪৪ সালে তিনি আরএসপিতে যোগ দেন। রাজনৈতিক কারণে ১৬ বার কারাবাস করতে হয়ছে তাকে। শ্রমিক কৃষক সমাজবাদী দল নামের একটি ক্ষুদ্র বামপন্থি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন দীর্ঘদিন।

শৈশব থেকেই নির্মল সেনের লেখালেখির হাত ছিল। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় হাতে লেখা কমরেড পত্রিকায় তিনি লিখতেন। ১৯৫৯ সালে দৈনিক ইত্তেফাকের সহ-সম্পাদক হিসেবে সাংবাদিকতার মাধ্যমে তার কর্মজীবনের শুরু। ১৯৬১ সালে ইত্তেফাক পত্রিকায় সহকারী সম্পাদক হিসেবে সাংবাদিকতায় তার কর্মজীবন শুরু হয়। এরপর তিনি ১৯৬২ সালে দৈনিক জেহাদ পত্রিকায় যোগ দেন। পরে ১৯৬৪ সালে দৈনিক পাকিস্তান, পরে দৈনিক বাংলায় সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। প্রেস ট্রাস্ট্রের এ পত্রিকা ১৯৯৭ সালে বন্ধ হওয়ার আগের দিন পর্যন্ত নির্মল সেন এ পত্রিকায় যুক্ত ছিলেন। ১৯৭২-৭৩ সালে নির্মল সেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও ১৯৭৩-৭৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন। তিনি জাতীয় প্রেস ক্লাবের আজীবন সদস্য।

বেশ কয়েকটি বই লিখেছেন নির্মল সেন। তার বইগুলোর মধ্যে ‘মানুষ, সমাজ ও রাষ্ট্র’, ১বার্লিন থেকে মস্কো’, ‘পূর্ব বঙ্গ পূর্ব পাকিস্তান বাংলাদেশ’, ‘মা জন্মভুমি’, ‘লেনিন থেকে গর্ভাচেভ’, ‘আমার জবানবন্দী’, ‘স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই’, ‘আমার জীবনে ৭১-এর যুদ্ধ’ উল্লেখযোগ্য।

স্বাধীনতা যুদ্ধের পর দৈনিক বাংলা পত্রিকায় লেখা তার এক উপসম্পাকীয় নিবন্ধ ‘স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই’ সে সময়ের রাজনীতিতে আলোড়ন তুলেছিল।


পূর্বের সংবাদ