ঢাবি শিক্ষকের স্ত্রী হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ২

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহবুব-ই-সাত্তারের স্ত্রী রওশন আক্তার হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।  মাহবুব-ই-সাত্তার ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক। গত ৩১ ডিসেম্বর রাজধানীর মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনের এ-ব্লকের ৩ নম্বর সড়কের একটি ছয়তলা বাড়ি শেলটেক টিউলিপের তৃতীয় তলায় নিজ ফ্ল্যাটে খুন হন রওশন আক্তার।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—নিরাপত্তাকর্মী সোলায়মান (১৯) ও রাসেল ওরফে সাকিব (১৯)। তাঁদের রাজধানীর ডিবি পুলিশ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর সোলায়মানের কাছ থেকে রওশন আক্তারকে হত্যার পর লুট করা ৩০০ মার্কিন ডলার, রাসেলের কাছ থেকে ২০০ মার্কিন ডলার ও সাড়ে ছয় হাজার টাকা এবং হত্যায় ব্যবহূত একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার মোল্লা নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ কথা জানান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত ৩১ ডিসেম্বর রওশন আক্তারকে হত্যার পর গোয়েন্দা পুলিশের বেশ কয়েকটি দল বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল নারায়ণগঞ্জ ও ময়মনসিংহ জেলায় আলাদা দুটি অভিযান চালিয়ে এ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে সোলায়মানকে ময়মনসিংহ থেকে এবং রাসেলেকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মোল্লা নজরুল জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা তাঁরা স্বীকার করেছেন। দুই নিরাপত্তাকর্মী জানান, ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে তাঁরা এমিকন সিকিরিউরিটি কোম্পানিতে চাকরি নেন। রওশন আক্তাররা যে অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে থাকতেন, এর ফ্ল্যাট মালিক সমিতি কোন রকম যাচাইবাছাই না করে এমিকন থেকে এ দুজনকে ভাড়া করে। গত মাসের ১০ ডিসেম্বর ওই ভবনে তাঁরা নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। এর পর থেকে তাঁরা ওই ভবনের যেকোন একটি ফ্ল্যাটে চুরি করার পরিকল্পনা করেন। হত্যাকাণ্ডের দিন সকালে তাঁরা গার্ডরুম থেকে একটি ফ্যান চুরি করে তা ৫০০ টাকায় বিক্রি করেন। ওই টাকা দিয়ে তাঁরা প্রায় আট ইঞ্চি লম্বা একটি ছুরি কেনেন। এরপর একটি বালিশের কভার ফেরত দেওয়ার বাহানায় ওই দুই নিরাপত্তাকর্মী রওশন আক্তারের ফ্ল্যাটে ঢুকে তাঁর মুখ চেপে ধরেন। এ সময় রওশনকে ভেতরের ঘরে নিয়ে যান তাঁরা। রওশনের সঙ্গে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে ছুরির আঘাতে রাসেলের হাত কেটে যায়। এরপর ওই ঘরের বিছানার চাদর গলায় পেঁচিয়ে রওশন আক্তারকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন সোলায়মান ও রাসেল।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে উপ-কমিশনার জানান, হত্যার পর ওই বাড়ির আলমারি, ওয়্যারড্রোব ভেঙে ২০ হাজার টাকা, আনুমানিক ৫০০ মার্কিন ডলার, কয়েকটি ঘড়ি ও স্বাক্ষর করা কয়েকটি ব্ল্যাংক চেক নিয়ে তাঁরা পালিয়ে যান। এ সময় বাড়ির গ্যারেজে তাঁদের পালিয়ে যেতে দেখেন ওই বাড়ির একজন গাড়ি চালক।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রওশন আক্তারের মেয়ে রেজওয়ানা। তিনি প্রথম আলো ডটকমকে তিনি বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের ১০ দিনের মধ্যে খুনিরা গ্রেপ্তার হয়েছে। এতে আমরা সন্তুষ্ট।’

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।