বিশ্ব মুসলিমের শান্তি-সমৃদ্ধি কামনা : টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শেষ

বিশ্ব মুসলিমের শান্তি-সমৃদ্ধি কামনা করে আখেরি মোনাজাতে শেষ হয়েছে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। রোববার দুপুর ১টা ৫ মিনিটে আখেরি মোনাজাত শুরু হয়। শেষ হয় ১টা ২২ মিনিটে।মোনাজাত পরিচালনা করেন তাবলীগের শীর্ষ মুরব্বি দিল্লির মাওলানা জোবায়েরুল হাসান।এরআগে শেষ সময়ের হেদায়াতি বয়ান করেন তাবলীগের শীর্ষ মুরব্বি ভারতের মাওলানা সা’দ।মোনাজাতে বঙ্গভবন থেকে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি মো.জিল্লুর রহমান। আর গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অংশ নেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর নিকত্মাতীয় ছাড়াও ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনসহ বেশ কয়েকজন নারী সংসদ সদস্য মোনাজাতে অংশ নেন।

টঙ্গীর এটলাস হোন্ডা ভবনের ছাদে বসে বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে শরিক হন। এ সময় মহিলা দলের সভাপতি নূরে আরা সাফা, সাধারণ সম্পাদক শিরিন ছাড়াও স্বজনরা খালেদা জিয়ার সাথে উপস্থিত ছিলেন।

রোববার দিনের আলো ফোটার আগেই তীব্র শীত উপেক্ষা করে ইজতেমা ময়দান পরিপূর্ণ হয়ে সংলগ্ন সড়ক মহাসড়কে ভিড় জমায় জনতা। ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়কের একাংশ বন্ধ করে  হাজার হাজার মুসল্লিকে ফজরের নামাজ এবং জানাজা আদায় করতে দেখা গেছে।

এরআগে শনিবার বিকেল থেকেই মুসল্লিদের ঢল নামে তুরাগ তীরের ইজতেমা ময়দান অভিমুখে। দূর-দূরান্ত থেকে আগত অনেক মুসল্লি ময়দানে অথবা আত্মীয়ের বাসায় আবার বিভিন্ন মার্কেট, পার্শ্ববর্তী মসজিদের ছাদে ও খালি জায়গায় অবস্থান নিয়েছিলেন।

বিগত দুই বছরের মতো এবারো ইজতেমা দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হলো। রোববার প্রথম পর্ব শেষ হয়ে দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে ১৮ জানুয়ারি এবং একইভাবে আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে তা শেষ হবে ২০ জানুয়ারি।

তাবলিগ জামাতের উদ্যোগে প্রতি বছর এ ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয় টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে। ১৬০ একর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত ইজতেমা মাঠে বিশ্বের প্রায় সব মুসলিম দেশ থেকেই তাবলিগ জামাতের অনুসারী ধর্মপ্রাণ মুসলমান অংশ নেন।

তারা এখানে তাবলিগ জামাতের শীর্ষ আলেমদের বয়ান শোনেন এবং ইসলামের দাওয়াতি কাজ বিশ্বব্যাপী পৌঁছে দেয়ার জন্য জামাতবদ্ধ হয়ে এখান থেকেই দ্বীনের দাওয়াতি কাজে বেরিয়ে যান। ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশের তাবলিগ অনুসারীরা মিলিত হন এ ইজতেমায়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।