আজকের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসলে ঢাকা ছাড়বো না:সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকরা

আজকের (বুধবার) মধ্যে নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভূক্তির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসলে ঢাকা ছাড়বেন না আন্দোলনরত শিক্ষক-কর্মচারীরা।বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নেতারা এ ঘোষণা দেন।
একই সঙ্গে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনশন শেষে জাতীয় সংসদের স্পিকারকে স্মারকলিপি দেওয়ার জন্য মৌন পদযাত্রারও ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষকবৃন্দ।সংবাদ সম্মেলনে নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যক্ষ মো. এশারত আলী বলেন, “আমরা দীর্ঘ দিন থেকে আন্দোলন করে আসছি। কিন্তু দাবি না মেনে উল্টো শিক্ষকদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। পুলিশের মরিচ স্প্রের কারণে এক শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। একজন আত্মহত্যা করেছেন। দাবির বিষয়ে আজকের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা বা আলোচনার জন্য পরিবেশ সৃষ্টি না করা হলে আমরা ঢাকা ছাড়বো না”।

সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে এশারত আলী বলেন, “২২ জানুয়ারি সংসদের শিক্ষা বিষয়ক স্থায়ী কমিটির বৈঠকের জন্য আমরা অপেক্ষা করছি। সেখানে ইতিবাচক কোন সুপারিশ না আসলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া কোন পথ থাকবে না”।

এমপিওভুক্তির দাবিতে নিম্ন মাধ্যমিক-মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ, কারিগরি ও মাদ্রাসার স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা গত বছরের মে মাস থেকে আন্দোলন করে আসছেন। আন্দোলনের মধ্যে ১১ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে শিক্ষকদের একটি চিঠি দেওয়া হলেও পরে বৈঠক স্থগিত করা হয়।

শিক্ষক নেতারা বলেন, গত ৭ জানুয়ারি থেকে তারা লাগাতার কর্মসূচি পালন করছেন। ১০ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনশন চলাকালে পুলিশ শিক্ষকদের উপর হামলা চালায়। পুলিশের পিপার স্প্রেতে অনেক শিক্ষক-কর্মচারী আহত হন। এরমধ্যে পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলার চরবয়রা মডেল বালিকা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক সেকান্দার আলী ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে গেলে ১৪ জানুয়ারি তার মৃত্যু হয়। এছাড়া আহত রাজশাহীর পবা উপজেলার নন এমপিও কর্মচারী সাইফুল ইসলাম স্ট্রোক করেছেন। জাতীয় প্রেস ক্লাব, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে গেলেও পুলিশ আক্রমণ করে। ঢাকা শহরের কোথাও পুলিশ আমাদের বসতে দিচ্ছে না।

সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যজোটের সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, যুগ্ম-সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আলীমসহ শিক্ষক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষক নেতারা জানান, ৭ হাজারের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারী ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে বিনা বেতনে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অচিরেই এমপিওভুক্ত না হলে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান নিম্নগামী ও একে একে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় এর ফলে সুদূরপ্রসারী বিরূপ প্রভাব পড়বে।

উল্লেখ্য, এমপিওভুক্তির দাবিতে বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, কলেজ এবং মাদরাসার শিক্ষকরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

এমপিওভুক্তির দাবিতে গত ৭ জানুয়ারি সকালে শিক্ষাভবন ঘেরাও কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শুরু হয় নন-এমপিও শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের এবারের আন্দোলন। এরপর ৯ জানুয়ারি প্রেসক্লাবের সামনে, ১০ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে, ১২ জানুয়ারি মানবাধিকার কমিশনের সামনে, ১৫ জানুয়ারি ন্যামভবনের সামনে শিক্ষকদের ওপর হামলা করে পুলিশ। কোথাও দাঁড়াতে দিচ্ছে না শিক্ষকদের। সবখানেই আইনি বাধা দেখিয়ে আর বিনা অনুমতির অজুহাতে শিক্ষকদের ধাওয়া করছে পুলিশ। মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে ছিল শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচি। কিন্তু সেখান থেকেও পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।