কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে যেকোনো দিন রায় - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে যেকোনো দিন রায়



ঢাকা, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার মামলার রায়ের দিন যেকোনো দিন ঘোষণা করা হতে পারে।বৃহস্পতিবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায়ের দিন ঘোষণায় মামলাটি অপেক্ষমান (সিএভি) রেখেছে।আজ কাদের মোল্লার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন আসামিপক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশে কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউশন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রসিকিউশন যে সব সাক্ষ্য প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন তা কোন অপরাধ প্রমাণ করে না।

এর আগে গতকাল বুধবার ট্রাইব্যুনালে আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুস সোবহান তরফদার যুক্তিতর্ক পেশ করেন। অন্যদিকে, প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলীও তার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন।

প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে যেসব সাক্ষ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে, তাতে ১৯৭৩ অ্যাক্ট অনুযায়ী তার সর্বোচ্চ শাস্তি হবে বলে আমরা আশা করি।’

আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুস সোবহান তরফদার বলেন, প্রসিকিউশনের অনেক সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে এসে যে সাক্ষ্য দিয়েছেন, তার অনেক কথাই এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে বলেননি।

তিনি বলেন, প্রসিকিউশনের প্রথম সাক্ষী মোজাফ্ফার আহমেদ খান বলেছেন- কাদের মোল্লাকে ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদুল্লাহ হলে দেখেছেন। অথচ প্রসিকিউশনের আরেক সাক্ষী বলেছেন- ১৯৭০ সাল পর্যন্ত কাদের মোল্লাকে ফরিদপুরে শিপসুন্দর স্কুলে শিক্ষকতা করতে দেখেন।

আসামিপক্ষের এই আইনজীবী বলেন, কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন যে সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেছে তাতে তার কোনো রূপ শাস্তি হতে পারে না। এ মামলায় তিনি বেকসুর খালাস পাবেন।

গত বছরের ৩ জুলাই কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের প্রথম সাক্ষী মোজাফ্ফর আহমেদ খানের জবানবন্দির মধ্যে দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এরপর শহিদুল হক মামাসহ ১২ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। এর মধ্যে কয়েকজন নারী সাক্ষী ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে তাদের সাক্ষ্য পেশ করেন।

অন্যদিকে, গত ১৫ নভেম্বর কাদের মোল্লার পক্ষে তার নিজের সাক্ষের মধ্যদিয়ে মোট ৯৬৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ট্রাইব্যুনালের বেঁধে দেয়া ৬ জন সাফাই সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

উভয়পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে গত ১৭ ডিসেম্বর থেকে কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী তার যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন। তিনি ২৭ ডিসেম্বর তার যুক্তি উপস্থাপন শেষ করলে ট্রাইব্যুনাল ৭ জানুয়ারি থেকে আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য করে দেন।

গত ২০ জুন কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ৯৬ পৃষ্টার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন শেষে ৩ জুলাই সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়।

কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে গত ৭ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু হয়। এরপর প্রসিকিউশনের আবেদনে গত ১৬ এপ্রিল মামলা ট্রাইব্যুনাল-২ এ স্থানান্তর করা হয়।

কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে মিরপুরের পল্লব হত্যা, কবি মেহেরুন্নেছা হত্যাসহ একাত্তরে হত্যা, গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ ও ধর্মান্তরিতসহ ছয়টি অভিযোগ দায়ের করে প্রসিকিউশন।

এরপর গত ৭ মে কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে আরো একটি অভিযোগ এবং ছয়জন সাক্ষীকে এ মামলায় অর্ন্তভুক্ত করা এবং ফরমাল চার্জে কিছু শব্দের সংশোধনী চেয়ে আনা আবেদনের ওপর শুনানি হয়। এরপর গত ২৮ মে কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ছয়টি অভিযোগ এনে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল-২।

কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ২০১১ সালের ১ নভেম্বর হত্যা, খুন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে প্রসিকিউশন। এরপর ২৮ ডিসেম্বর অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল-১।

অন্য এক মামলায় কাদের মোল্লাকে ২০১০ সালের ১৩ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট এলাকা থেকে করা হয়। পরে তদন্ত সংস্থার এক আবেদনে ২ আগস্ট কাদের মোল্লাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় ট্রাইব্যুনাল।


পূর্বের সংবাদ