এমপি গিয়াসউদ্দিন আহমেদকে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করানোর জন্য দাবি জানিয়েছে বিএনপি

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ময়মনসিংহ-১০ আসনের এমপি গিয়াসউদ্দিন আহমেদকে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করানোর জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে বিএনপি। শুক্রবার বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার প্রাঙ্গণে এক শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার উদ্বোধন শেষে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মুখপাত্র তরিকুল ইসলাম এ দাবির কথা জানান।

জিয়াউর রহমানের ৭৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এই প্রতিযোগিতার আয়োজক জাসাস।

তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘গিয়াসউদ্দিন নিজ এলাকায় জিয়ার আত্মস্বীকৃত খুনি বলে দাবি করেছেন। এজন্য আমরা তাকে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।’

সরকার বিচারে ব্যর্থ হলে জনতার আদালতে গিয়াসউদ্দিনের বিচার করা হবে বলেও তিনি জানান।

বিএনপির এই মুখপাত্র আরো বলেন, গিয়াসউদ্দিনের অপকর্ম গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের কর্মকর্তারা প্রথম দেখলেন, এমন নয়। তিনি নির্বাচনী এলাকায় নিজ দলীয় কর্মীদের দিকে আগে গুলি পর্যন্ত করেছেন।

তিনি বলেন, এখানেই গিয়াস থেমে থাকেননি। জনসম্মুখে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে নিজে খুন করেছেন বলে গর্ব করে বক্তৃতা দিয়েছেন। এখন সময় এসেছে তাকে বিচারের মুখোমুখি করার।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যান ময়মনসিংহ-১০ আসনের সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিন আহমেদ। সেখানে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ইউসুফ আলী এবং ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মাইনুদ্দিন ভূইয়াকে তিনি গুলি করার হুমকি দেন।

পরে সাংবাদিকদের ইউসুফ আলী জানান, ‘গিয়াসউদ্দিন তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও অন্য একজনকে সঙ্গে নিয়ে দুপুর ১টার দিকে মন্ত্রণালয়ে আসেন। এসেই কয়েকটি পাতা ফটোকপি চাইলে তা মাইনুদ্দিনকে দেয়া হয়। মেশিনে কালি কম থাকায় ফটোকপি ভালো না হওয়ায় তা সচিবের দপ্তর থেকে ফটোকপি করার জন্য মাইনুদ্দিন একটু অপেক্ষা করছিল। এমন সময় এমপির পিএস এসে ফটোকপি চায়। ফটোকপি না পেয়ে পিএস গিয়ে এমপিকে অভিযোগ করেন।’

তিনি বলেন, ‘এরপরই গিয়াসউদ্দিন এসে উত্তেজিত হয়ে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন, হুমকি দেন। এরপর মাইনুদ্দিনকে মন্ত্রীর কক্ষে ডেকে নিয়ে যান।’

‘সেখানে এমপি গিয়াস মন্ত্রী আফসারুল আমীনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘জানেনই তো আমি জিয়াউর রহমান হত্যার মামলার ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। আমার কাজ আসা মাত্রই ছেড়ে দেবেন। এরপরেও শালারা এমন করে? আপনার কর্মচারীকে বলে দেন…।’

পরে মন্ত্রী মাইনুদ্দিনকে তার কক্ষ থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। তিনি এমপিকে বলেন, ‘বিষয়টি আমি দেখছি।’ অবশ্য এ বিষয়ে মন্ত্রী পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি।

এরআগে গত বছরের মে মাসে নিজের নির্বাচনী এলাকা গফরগাঁওয়ে এলাকাবাসীর বিক্ষোভের মুখে পড়ে নিজের পিস্তল থেকে গুলি ছুড়েছিলেন গিয়াসউদ্দিন।

চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার উদ্বোধনীতে সম্প্রতি বিরোধী দলের আন্দোলন দমাতে পিপার স্প্রে ব্যবহারের কড়া সমালোচনা করেন তরিকুল ইসলাম। বলেন, ‘বাইরে এটা কুকুর দমনে ব্যবহার করা হয়। আর বর্তমান ফ্যাসিবাদী সরকার তা বিরোধী দলের আন্দোলনে ব্যবহার করছে।’

তিনি সম্প্রতি নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আন্দোলনে পুলিশের পিপার স্প্রে হামলায় শিক্ষক খুনের সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করেন। এই বিচার করা না হলে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সরকারের বিচার করারও হুমকি দেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা।

তরিকুল ইসলাম বলেন, সরকারের পতন আসন্ন। এরপরও তারা তেলের দাম না কমালে জনগণই তাদের গদি থেকে নামতে বাধ্য করবে।

এ সময় বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক গীতিকার গাজী মাযহারুল আনোয়ার, জাসাস সভাপতি এমএ মালেক, সাধারণ সম্পাদক শিল্পী মুনির খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।