শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসের পর তিন মাসের জন্য নন-এমপিও শিক্ষকদের আন্দোলন স্থগিত

শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসের পর তিন মাসের জন্য আন্দোলন স্থগিতে প্রতিনিধিদলের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আন্দোলনরত অধিকাংশ নন-এমপিও শিক্ষকরা। শিক্ষকরা জানান, আন্দোলন ফলপ্রসু করার জন্য যখন সর্বাত্মকভাবে অংশ নিয়েছি, ঠিক তখনই দাবি আদায় না করে কয়েকজন শিক্ষক নিজেদের সিদ্ধান্ত সবার ওপর চাপানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের দেয়া আশ্বাস সরকারের সময়ক্ষেপণের একটি কৌশল হতে পারে বলে সন্দেহ করছেন অনেক শিক্ষক।

আন্দোলন স্থগিতের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যকোটের প্রচার সম্পাদক মো. আজাদ। তিনি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্তির দাবিতে আন্দোলন করে আসছি। ঠিক এই মুহূর্তে আন্দোলন স্থগিত করা সমীচীন হয়নি।’

আজাদ বলেন, ‘আমরা ক্ষুব্ধ ও ব্যথিত। এমপিও না হওয়ায় দীর্ঘদিন চরম দুর্দশায় জীবন যাপন করা কয়েকশ’ শিক্ষক নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল। কিন্তু তা সফলতার মুখ দেখেনি।’

তিনি বলেন, আন্দোলন স্থগিত করার সিদ্ধান্তে আন্দোলনরত অধিকাংশ শিক্ষক দ্বিমত পোষণ করেছেন। সবাই চেয়েছিল এমপিও নিয়ে বাড়ি ফিরবেন।

বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েকজন সবার ওপর নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন সংগঠনের প্রচার সম্পাদক।

এদিকে, আন্দোলনরত শিক্ষকদের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি মো. এশারত আলী।
তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের মতামতের ভিত্তিতে আমরা শিক্ষামন্ত্রীর সাথে বৈঠকে অংশ নিয়েছিলাম। বৈঠকের পর আমরা যা ভাল মনে করেছি, তা-ই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আন্দোলনকে ফলপ্রসু করতে হলে একটু সময় দেয়া দরকার। বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী এমপিও করার ব্যপারে বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন, যার ফলে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাস অনুযায়ী আগামী তিন মাসের মধ্যে দাবি আদায় না হলে কঠোর কর্মসূচি নিয়ে মাঠে না হবে বলেও জানান এশারত আলী।

এর আগে বিকেল ৩টায় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের আমন্ত্রণে তার মিন্টো রোডের বাসায় বৈঠকে বসেন নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি এশারত আলীর নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা সচিব চৌধুরী কামাল আবদুল নাসের ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন।

শিক্ষক প্রতিনিধিদলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সহ-সভাপতি মশিউর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আলীম প্রমুখ।

বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এশারত আলী জানান, শিক্ষামন্ত্রী এমপিওভুক্তির জন্য তিন মাসের জন্য সময় চেয়েছেন। এর মধ্যে সরকারের উচ্চ পযার্য়ে আলোচনা করে দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদকিদের জানান, ‘আমরা প্রতিনিধিদলের কাছে তিন মাস সময় চেয়েছি। এ সময়ের মধ্যে অর্থযোগানের ব্যবস্থা করে এমপিওভুক্তির আশ্বাস দিয়েছি। ওনারা আমাদের এ আশ্বাসের পর আন্দোলন প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছেন।’

প্রসঙ্গত, গত ৭ জানুয়ারি থেকে নতুন করে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন নন-এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীরা। দাবি আদায়ে আগামী ২২ জানুয়ারির পর থেকে  সব নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধেরও আল্টিমেটাম দেয় তারা।

এদিকে, আন্দোলনকে ঘিরে এরই মধ্যে পাঁচ শিক্ষক-কর্মচারীর মৃত্যু হয়েছে। আন্দোলন দমাতে পুলিশের ছোড়া ‘পিপার স্প্রে’ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তিন শিক্ষক। তারা হলেন- পটুয়াখালীর সেকান্দার আলী (৪৫), নন-এমপিও কর্মচারী সাইফুল ইসলাম (৪২) ও ঠাকুরগাঁও জেলার শিক্ষক হারুন-উর-রশীদ (৪০)।

এছাড়া, আন্দোলনরত শিক্ষক মো. মেজবাউল হোসেন (৩৫) সড়ক দুর্ঘটনায় যান। আর দিলীপ কুমার রায় আত্মহত্যা করেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।