সুন্দরবনে বনদস্যুদের সাথে বন্দুকযুদ্ধে মেজর জিয়াউদ্দিনসহ গুলিবিদ্ধ ১৫ - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

সুন্দরবনে বনদস্যুদের সাথে বন্দুকযুদ্ধে মেজর জিয়াউদ্দিনসহ গুলিবিদ্ধ ১৫



খুলনা, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

সুন্দরবনের গহীনে বনদস্যু মর্তুজা বাহিনীর সঙ্গে দুবলার ফিসারম্যান গ্রুপের মধ্যে বন্দুক যুদ্ধে চার দস্যু নিহত হয়েছে।এ সময় দুবলা ফিসারম্যান গ্রুপের চেয়ারম্যান ও মুক্তিযুদ্ধে ৯নং সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার মেজর (অব.) জিয়াউদ্দিনসহ ১৫ জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।সুন্দরবনের ভদ্রারা ও চরাপুটিয়া এলাকায় গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।দুবলা ফিসারম্যান গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, শুক্রবার সকালে মংলা থেকে ফিসারম্যান গ্রুপের চেয়ারম্যান জিয়াউদ্দিন নিজস্ব লোকজন নিয়ে ট্রলার যোগে দুবলার চরের উদ্দেশে রওনা হন।

পথিমধ্যে চরাপুটিয়া এলাকায় পৌছালে বনদস্যু মর্তুজা বাহিনী তার ট্রলারে অতর্কিত হামলা ও গুলিবর্ষণ শুরু করে। এ সময় দুবলা ফিসারম্যান গ্রুপের লোকজনও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়।

গোলাগুলির একপর্যায় চার দস্যু গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে নিহত হয়। এছাড়া দস্যুদের এলোপাতাড়ি গুলিতে মেজর (অব.) জিয়াউদ্দিন মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে দুবলার চরে নেয়া হয়।

চিকিৎসার জন্য জিয়াউদ্দিনকে হেলিকপ্টার যোগে ঢাকায় নেয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।

জিয়াউদ্দিন আহমেদের নিকটতম আত্মীয় কামাল হোসেন জানান, মাথায় গুলি লাগার কারণে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হয়েছে। তাকে জরুরিভাবে ঢাকায় নেয়ার জন্য হেলিকপ্টার আনা হচ্ছে।

অন্যদিকে, সকাল সাড়ে ৮টায় দুবলার চরাঞ্চাল থেকে লোকালয়ে ফেরার পথে ভদ্ররা এলাকায় জেলেদের একটি বহরে হামলা চালায় দস্যু মর্তুজা বাহিনী। জেলেদের জিম্মি করে লুটপাটকালে ঘটনাস্থলে পৌছায় দস্যু শীর্ষ বাহিনী।

এ সময় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এ দুই দস্যু বাহিনীর মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী বন্দুকযুদ্ধ সংঘটিত হয়। এতে অন্তত ১৪ জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আহত জেলেদের উদ্ধার করে দুবলার আলোরকোল এলাকায় সরিয়ে নিয়েছে অন্য জেলেরা। তাদের মধ্যে সালাম নামের এক জেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

অপর একটি সূত্র জানায়, সুন্দরবন সংলগ্ন মংলা ও দাকোপ এলাকার মাঝামাঝি নদীতে ডাকাত মতুর্জা ও রেজাউল বাহিনীর গুলিতে ১০ জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

এ সময় তারা ১৪টি ট্রলারে থাকা প্রায় সাত কোটি টাকার চিংড়ি ও শুঁটকি লুট করে নিয়ে গেছে বলে মাছ আড়তদার সূত্রে জানা গেছে।

শুক্রবার সকাল ৮টা ও বেলা সাড়ে ১১টায় সুন্দরবনের ভদ্রের চর, মংলা ও দাকোপের মাঝামাঝি এলাকায় দুই দফায় এ গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।

প্রথম দফা সকাল ৮টায় তিনজন এবং দ্বিতীয় দফা বেলা সাড়ে ১১টায় সাতজন গুলিবিদ্ধ হন। গুলিবিদ্ধদের মধ্যে আব্দুস সালাম ও মেম্বর নামে দুই জেলের নাম জানা গেছে। তাদের বর্তমানে নদীর চরে তাদের তুলে রাখা হয়েছে।

কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের অপারেশন কমান্ডার লে. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বন্দুকযুদ্ধ ও হতাহতের খবর পেয়ে বিকেলে কোস্টগার্ডের একটি দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। তবে নিহত ও আহতদের পরিচয় তিনি জানাতে পারেননি।


পূর্বের সংবাদ