অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু পেট্রোল পাম্পে

ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের প্রায় ৯ হাজার পেট্রোল পাম্প স্টেশনে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হয়েছে। রোববার সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া এই ধর্মঘটে সারা দেশেই এক প্রকারের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।ধর্মঘটের কথা জেনে শনিবার দুপুর থেকে বিকালের মধ্যে পেট্রোল পাম্পগুলো থেকে লম্বা লাইনে প্রাইভেট কার, মোটর বাইক ও বাস চালকরা জ্বালানি তেল কেনেন। এজন্য সন্ধ্যার মধ্যেই ঢাকা ও চট্টগ্রামের প্রায় সব পাম্পের তেল ফুরিয়ে যায়।
জ্বালানি তেল মজুদ না করায় রোববার গাড়ি চালকরা ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে প্রাইভেট কার ও মোটর বাইক চালকদের অনেকেই সকাল থেকে পাম্পগুলোতে ধরণা দিয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

রিয়েল টাইম নিউজ ডটকম-এর নিজস্ব প্রতিবেদক শামছুজ্জামান নাঈম ধর্মঘট পরিস্থিতির খবর জানতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার পেট্রোল পাম্পে গিয়েছেন। তিনি জানান, অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের কারণে শহরের প্রায় সব পাম্পই বন্ধ রয়েছে।

যেসব পাম্পে জ্বালানি তেলের পাশাপাশি সিএনজি রিফুয়েলিং করা হয় সেগুলোই খোলা রয়েছে। চানখারপুলের সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশন, এমএস কনফিডেন্স ফিলিং স্টেশন ঘুরে তিনি এ তথ্য দেন।

নিউ মার্কেট এলাকায় পথের বন্ধু ফিলিং স্টেশনে গিয়ে তিনি আরও জানান, এ পাম্পটির শাটারও বন্ধ রয়েছে। প্রাইভেট কার ও মোটর বাইক চালকেরা এসে জ্বালানি তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

এদিকে, ধর্মঘটের কারণে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইলে অবস্থিত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের পদ্মা, মেঘনা এবং ফতুল্লায় অবস্থিত যমুনা ও মেঘনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ডিপো থেকেও তেল উত্তোলন বন্ধ হয়েছে। ডিপোগুলো থেকে কোনো পেট্রোল পাম্পের উদ্দেশ্যেও ট্যাঙ্ক-লরি ছেড়ে যাচ্ছে না।

বিমানের জন্য জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নারায়ণগঞ্জের ডিপোগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার শেখ নাজমুল আলম জানান, প্রয়োজনে পুলিশি নিরাপত্তা দিয়ে বিমানে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হবে।

চট্টগ্রামেও পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ডিপো থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। নগরীর বন্দর, নিমতলা বিশ্বারোডসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি তেল সরবরাহ না করে ট্যাঙ্ক-লরিগুলো দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

এদিকে, পেট্রোলপাম্পে ধর্মঘটের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতির সমাধানের জন্য আগামীকাল সোমবার জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে ধর্মঘট আহ্বানকারীদের সাথে বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে জ্বালানি তেল বিক্রিতে কমিশন বাড়ানোসহ ৯ দাবিতে ধর্মঘট আহ্বানকারী বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ও ট্যাঙ্ক-লরি মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক জানিয়েছেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সাথে এখনো যোগাযোগ করা হয়নি। দাবি পূরণ না হওয়া পযর্ন্ত ধর্মঘট চলবে। কোনো পাম্প থেকে এক লিটার তেলও বিক্রি হবে না। কোনো ট্যাঙ্ক-লরি তেল পরিবহন করবে না।’

তিনি জানান, ‘বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রি করে তারা ২ দশমিক ৪৫ শতাংশ, পেট্রোলে ৩ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং অকটেনে ৩ দশমিক ৩০ শতাংশ হারে কমিশন পান। ঐক্য পরিষদের দাবি ডিজেল বিক্রির কমিশন ৩ দশমিক ৪০ এবং পেট্রোল ও অকটেনের কমিশন ৪ শতাংশ করতে হবে।’

উল্লেখ্য, সরকার গত ৩ জানুয়ারি চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটার প্রতি ৫ থেকে ৭ টাকা বাড়ানোর পর বিতরণ কোম্পানিগুলোর কমিশনও ৩ থেকে ৫ পয়সা বাড়ানো হয়। কিন্তু ঐক্যপরিষদ সরকারের এ সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি।

গত বছর এপ্রিলেও কমিশন বৃদ্ধির দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডাকে পেট্রোল পাম্প ও ট্যাঙ্ক-লরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। তবে সরকারের আশ্বাস পেয়ে পরে তা প্রত্যাহার করা হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।