পিপার স্প্রে ব্যবহার বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবীর

যে কোনো ধরনের সরকারবিরোধী কর্মসূচি ছত্রভঙ্গ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ছিটানো পিপার স্প্রে ব্যবহার বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের হয়েছে।রোববার জনস্বার্থে রিট আবেদনটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ড. মো. ইউনুস আলী আকন্দ।বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদের বেঞ্চে এ আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে।রিটে মানুষের জন্য ক্ষতিকর পিপার স্প্রে বন্ধে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না মর্মে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পিপার স্প্রে বন্ধের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

এরআগে গত বৃহস্পতিবার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পিপার স্প্রে বন্ধে সরকারকে আইনগত বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূইয়া।

তিনি রেজিস্ট্রি ডাকযোগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক এবং র‌্যাবের মহাপরিচালককে এই নোটিস পাঠিয়েছিলেন।

নোটিসে লস অ্যাঞ্জেলস টাইমসের উদ্ধৃতি দিয়ে এখলাস উদ্দিন বলেছেন, ‘এই পিপার স্প্রে’ ব্যবহারের ফলে ১৯৯০ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যকার সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। পিপার স্প্রে ক্যান্সারের কারণ ঘটাতে পারে বলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর এক গবেষণায় বলা হয়েছে।’

তিনি জানান, ‘এছাড়া এটি হৃদযন্ত্র, রক্ত প্রবাহ, ফুসফুস, স্নায়ু ও মস্তিস্কের ক্ষতির পাশাপাশি প্রাণসংহারের কারণ হতে পারে বলেও ওই গবেষণায় উল্লেখ করা হয়।’

নোটিসে বলা হয়, ‘কিছুদিন যাবৎ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, সরকার বিরোধী বিভিন্ন সমাবেশে এমনকি পেশাজীবী শিক্ষকদের উপরও মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক পিপার স্প্রে নামে এক ধরণের অস্ত্র প্রয়োগ করছে। এর ফলে ইতিমধ্যে আক্রান্ত মানুষ চোখের কর্নিয়াসহ বিভিন্ন উপসর্গে আক্রান্ত হচ্ছেন।’

এতে আরো বলা হয়, একজন নাগরিকের সুস্থভাবে বাঁচার এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার বাংলাদেশের সংবিধানে সুনির্দিষ্ট রয়েছে। পিপার স্প্রে নিক্ষেপ সংবিধানের লঙ্ঘন ও মৌলিক অধিকার পরিপন্থী।’

সম্প্রতি বিরোধীদলসহ বিভিন্ন আন্দোলন, বিক্ষোভ ঠেকাতে পুলিশ এই পিপার স্প্রে ব্যবহার করছে। সর্বপ্রথম নন-এমপিও শিক্ষকদের মিছিলে এই পিপার স্প্রে ব্যবহার করে পুলিশ। এতে আহত এক শিক্ষক পরে মারা যান।

সর্বশেষ বামপন্থীদের হরতাল চলাকালে মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে এই পিপার স্প্রে ব্যবহার করে পুলিশ। এজন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দীন খান আলমগীরের পদত্যাগ দাবি করেছেন সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম।

এছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মুখপাত্র তরিকুল ইসলাম একই দাবি করেছেন।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এটি কোনোভাবেই প্রাণসংহারী নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দীন খান দাবি করেছেন, এই ধরনের স্প্রেতে মানুষের জন্য ক্ষতিকারক কিছু নেই।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।