বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা ডিসি হারুনকে পুরস্কৃত করলেন প্রধানমন্ত্রী - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা ডিসি হারুনকে পুরস্কৃত করলেন প্রধানমন্ত্রী



ঢাকা, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা ডিসি মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদকে প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল (পিপিএম)-সেবা পদক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।মঙ্গলবার সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে বাংলাদেশ পুলিশ সপ্তাহ-২০১৩ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ পদক দেয়া হয়।গত বছর দায়িত্ব পালনে সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ৫৮ জন পুলিশকে পদক দেয়ার সময় ডিসি হারুনকেও পদক দেন প্রধানমন্ত্রী।ডিসি হারুনের ধারাবাহিকভাবে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করে গেলেও একের পর এক পদোন্নতি ও পুরুস্কার পেয়ে যাচ্ছেন। জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের ওপর হামলার পরে তিনি এডিসি থেকে ডিসি হিসেবে পদোন্নতি পান।এছাড়া, রাজধানীর জর্জকোর্ট এলাকায় এক তরুণীকে শ্লীলতাহানি ও আলোচিত বিশ্বজিৎ দাস হত্যার ঘটনায় বিতর্কিত ভূমিকা পালনের পরেও ডিসি হারুন পিপিএম-সেবা পদক পেলেন।57716_fourth57716_third  57716_sec

২০১১ সালের ৬ জুলাই বিরোধী দলের হরতালের সময় ‌‘শুয়োরের বাচ্চা, চড় মেরে দাঁত ফেলে দিব’ বলে ডিসি হারুনের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের ওপর হামলা করে।

এ সময় লাঠি দিয়ে আঘাত করে ফারুকের মাথা ফাটিয়ে দেয় ও বুকের ওপর ওঠে বুট দিয়ে লাথি মারে পুলিশ সদস্যরা। রক্তাক্ত অবস্থায় প্রাণ বাঁচাতে ফারুক এমপি হোস্টেলে গিয়ে আশ্রয় নিলে, সেখানে গিয়েও তার ওপর হামলা চালায় পুলিশ।

ওই হামলার সময় হারুন ছিলেন তেজগাঁও জোনের এডিসি। এ হামলা দেশে-বিদেশে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি করলেও তিনি ডিসি হিসেবে পদোন্নতি পান। এরপর তাকে লালবাগ বিভাগের দায়িত্ব দেয়া হয়।

লালবাগ বিভাগে ডিসি হারুণ দায়িত্ব পালনের সময় গত বছর তার নির্দেশনায় অতি উৎসাহী একদল পুলিশ সদস্য আদালত প্রাঙ্গণেই বিচার প্রার্থী এক তরুণীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। তরুণীকে টেনে-হিঁচড়ে পুলিশ ক্লাবে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন পুলিশ।

তরুণীর কাছ থেকে বিষয়টি জেনে আইনজীবীরা প্রতিবাদ করলে ডিসি হারুনের নির্দেশে তাদের ওপরও নির্বিচারে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। ওই ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা হয়। পাশাপাশি ওই সময় দায়িত্ব পালনকারী পুলিশের বিরুদ্ধে গঠিত হয় তদন্ত কমিটি।

এ ঘটনার পর গত বছরের শেষের দিকে জজকোর্টের সামনে নৃশংসভাবে বিশ্বজিৎ দাস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল ডিসি হারুন-অর রশীদের উপস্থিতিতে। সেদিন নিরপরাধ দর্জি দোকানি বিশ্বজিৎকে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ও রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করলেও ডিসি হারুনের নেতৃত্বাধীন পুলিশ বাঁচাতে এগিয়ে যাননি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজনদের মতে, ওই দিন পুলিশ পেশাদারিত্বের মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালন করলে বিশ্বজিতের প্রাণ বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। বিশ্বজিৎ হত্যাকান্ডের সময় ডিসি হারুনের ভূমিকা নিয়ে দেশ-বিদেশে আবারো সমালোচনার ঝড় ওঠে।

একপর্যায়ে পুলিশের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। ওই কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই ডিসি হারুন পেলেন পিপিএম-সেবা পদক।


পূর্বের সংবাদ