ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল কুমার সিন্দে ২ দিনের সফরে বাংলাদেশে - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল কুমার সিন্দে ২ দিনের সফরে বাংলাদেশে



ঢাকা, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

বন্দি প্রত্যর্পণ ও ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে দুটি চুক্তিতে সই করতে দুই দিনের সফরে ঢাকা পৌঁছেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল কুমার সিন্দে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভারতীয় মন্ত্রীকে স্বাগত জানান। পরারাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, দুই মন্ত্রী বিকাল ৩টার দিকে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন। ওই বৈঠকের পরই তারা চুক্তিতে সই করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগেই সকালে মন্ত্রিসভার বৈঠকে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির খসড়া অনুমোদন করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভারত সরকার গত বৃহস্পতিবার ওই খসড়া অনুমোদন করে। এর আগে গত ডিসেম্বেরে দিল্লিতে এক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও ভারতের সুশীল সিন্দে। সে সময় জানানো হয়, ভারত ও বাংলাদেশ আগামী জানুয়ারিতে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি সইয়ে একমত হয়েছে।

এই চুক্তি হলে আসামের বিদ্রোহী সংগঠন উলফার নেতা অনুপ চেটিয়াকে পাওয়ার সুযোগ হবে ভারতের, যিনি এক যুগের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে অন্তরীণ।

দুই দেশের মধ্যে আগে আসামি প্রত্যর্পণ চুক্তি হলেও বন্দি প্রত্যার্পণ চুক্তি না হওয়ায় অনুপ চেটিয়াকে ভারত পাচ্ছিল না। কারণ অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঢোকার জন্য উলফা নেতার সাজার মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে।

এছাড়া সুব্রত বাইন ও সাজ্জাদ হোসেনের মতো ভারতে পালিয়ে থাকা বাংলাদেশি শীর্ষ সন্ত্রাসীদেও ফিরিয়ে আনার সুযোগ হবে এই চুক্তির মাধ্যমে।

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে সুব্রত বাইনকে গ্রেপ্তার করে ভারতীয় পুলিশ, আর ফাঁসির আসামি সাজ্জাদ গ্রেপ্তার হন অমৃতসরে। বাংলাদেশে এই দুই জনের বিরুদ্ধে বহু মামলা রয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, কোন কোন অপরাধে আটক ব্যক্তিদের হস্তান্তর করা যাবে তার একটি তালিকা থাকছে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তিতে। হত্যা, সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগের আসামিদের এই চুক্তির আওতায় হস্তান্তর করা যাবে। তবে এতে হস্তান্তরের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করারও সুযোগ থাকছে।

আর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ভ্রমণ চুক্তি সংশোধন হলে পর্যটকরা এক বছর পর্যন্ত মেয়াদের জন্য ভিসা পাবেন, যার মাধ্যমে একাধিকবার ভ্রমণ করা যাবে। আর চিকিৎসার জন্য ভ্রমণের ক্ষেত্রে রোগীর সঙ্গে যেতে পারবেন তিন জন।

বর্তমানে ভারত সরকার বাংলাদেশি পর্যটকদের সর্বেচ্চ ছয় মাসের টুরিস্ট ভিস দেয়। আর চিকিৎসার জন্য ভ্রমণের ক্ষেত্রে রোগীর সঙ্গে যেতে পারেন একজন।

এ চুক্তি হলে উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও ভিসা লাগবে না। আর শিক্ষার্থীরা তাদের পুরো মেয়াদ এক ভিসায় শেষ করতে পারবেন।

বর্তমানে কেবল কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীরাই ভিসা ছাড়া দুই দেশে ভ্রমণ করতে পারেন।


পূর্বের সংবাদ