সুরঞ্জিতকে সতর্ক করল ট্রাইব্যুনাল:আদালত অবমাননা

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন বিষয়ে মন্তব্য করায় দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে সতর্ক করে দিয়ে ক্ষমা করে দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
বুধবার ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনাল তার আদেশে বলেন, ক্ষমতাসীন দলের একজন বিজ্ঞ নেতার কাছ থেকে বিচারাধীন বিষয়ে এ ধরনের বক্তব্য আশা করা যায় না। তাদের কাছ থেকে এসব কথা গ্রহণযোগ্য নয়।
আদেশে বলা হয়, বাক-স্বাধীনতা মানে এই নয় যে ইচ্ছামত সাবজুডিস বিষয়ে বক্তব্য দেবেন।

ট্রাইব্যুনাল বলেন, একজন ব্যক্তির অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে অপরাধী বলা যায় না। রায় না হওয়া পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে এ ধরনের মন্তব্য কেউ করতে পারেন না।

সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদার আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন। এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি সুরঞ্জিতের পক্ষে তার আইনজীবী বাসেত মজুমদার ক্ষমা প্রার্থনা করে লিখিত জবাব দেন।

গত ২৪ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল-২ সুরঞ্জিতের বিরুদ্ধে স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন এবং বিচারিক বিষয়ে মন্তব্য করার কারণ ব্যখ্যা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

উল্লেখ্য, গত ২২ ডিসেম্বর রাজধানীতে ১৪ দলের গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই গণমিছিল পূর্বসমাবেশে তিনি ট্রাইব্যুনালের বিচারিক বিষয়ে মন্তব্য করেন।

সুরঞ্জিত বলেন, ‘এখন ২০১২ সাল; আগামী বছর ২০১৩ সাল। ১৪ জন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীর রায় চূড়ান্ত হয়ে গেছে। ২০১৩ সালের যে কোনো সময়ে রায়ে এই চিহ্নিত ১৪ যুদ্ধাপরাধীর বিচার শেষ হবে। তাদের ফাঁসির রায়ও কার্যকর করা হবে। কেউ ঠেকাতে পারবে না।’

ট্রাইব্যুনাল তার আদেশে বলেন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের বক্তব্য স্বাধীন ট্রাইাব্যুনালের জন্য অমর্যাদাকর। তিনি কিভাবে, কিসের ওপর ভিত্তি করে এই মন্তব্য করেছেন এই বিষয়ে ব্যাখা করতে হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।