নারায়ণগঞ্জে স্বর্ণের দোকানে স্মরণকালের দুর্ধর্ষ এবং ভয়াবহ ডাকাতি

নারায়ণগঞ্জ শহরের ব্যবসায়িক এলাকা মিনাবাজারে মুহুর্মুহু মুহুর্মুহু ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে একটি স্বর্ণের দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। যাওয়ার সময় ডাকাতদের মুহুর্মুহু ককটেল হামলায় পথচারী ও স্বর্ণ ব্যবসায়ীসহ ২৩ জন আহত হন। আহতদের নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। আজ শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে শহরের জুয়েলারি ব্যবসাকেন্দ্র মিনাবাজারের সেলিম মার্কেটের রিফাদ জুয়েলার্সে ডাকাতির ওই ঘটনা ঘটে।
দোকানের মালিকের দাবি, অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দুর্বৃত্তরা সাড়ে ১২ কোটি টাকা মূল্যের আড়াই হাজার ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে। ঘটনার প্রতিবাদে বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির নারায়ণগঞ্জ শাখা অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট ডেকেছে। স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের দাবি, নারায়ণগঞ্জে স্মরণকালে কোনো স্বর্ণের দোকানে এমন দুর্ধর্ষ এবং ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি। নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা এবং শীতলক্ষ্যা পুলিশ ফাঁড়ির কয়েক শ গজ দূরে মিনা বাজারের অবস্থান।
ডাকাতদের ককটেল হামলায় পুরো মিনাবাজার এলাকায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর পর মিনাবাজারের ব্যবসায়ীরা তাঁদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে রাস্তায় নেমে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়।
রিফাদ জুয়েলার্সের কর্মচারী মামুন, জনি ও বিল্লাল  জানান, সন্ধ্যায় বেচা-কেনার সময় তাঁদের দোকানে চার যুবক প্রবেশ করেন। তাঁদের দুজনের মুখ বাঁধা ছিল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই এক যুবক তাঁর হাতে থাকা একটি বড় ব্যাগ থেকে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র বের করে তাঁদের জিম্মি করে ফেলেন। ওই সময় দোকানে থাকা শিশুসহ এক মহিলা ক্রেতাকেও অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হয়। দুই যুবক চাপাতি ও অস্ত্র দিয়ে শোকেস ভেঙে সাজিয়ে রাখা স্বর্ণালংকার ব্যাগে ভরে ফেলেন। মাত্র কয়েক মিনিটে তাঁরা ডাকাতি শেষে বের হয়ে যান।
রিফাত জুয়েলারির মালিক ফারুক হোসেনের ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে আড়াই হাজার ভরি স্বর্ণালংকার ছিল। এ ছাড়া সারা দিনের বিক্রির টাকাও সিন্দুকে ছিল। সেই টাকাও লুট করা হয়েছে। তবে টাকার পরিমাণ তিনি তাত্ক্ষণিক জানাতে পারেননি।
প্রত্যক্ষদর্শী স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা জানান, ডাকাতি শেষে পালানোর সময় বিপরীত দিকের অলংকার প্লাজার স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা ডাকাতদের ধরতে এগিয়ে যান। এ সময় ডাকাতরা প্রথমে অলংকার প্লাজার তিনটি গেটে তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে প্লাজার নিচতলার ঊষা জুয়েলার্সের শার্টার ভেঙে পড়ে। এরপর আরও ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটাতে ঘটাতে শহরের ১ নম্বর রেলগেটের দিকে পালিয়ে যায় ডাকাতরা। ডাকাতদের ককটেল বিস্ফোরণে ফিরোজ আহমেদ, রমজান আলী, খোরশেদ আলম, আলমগীর হোসেন (১), আলমগীর হোসেন (২), সজীব সরদার, আমির হামজা, গৌর চন্দ্র সাহা, কালা চান, মানিক, মতিউর রহমান, আবদুর রহিম, মজিবুর রহমান, রাকিব হোসেন, সিরাজুল হক, সোলেমান, সাইফুল ইসলাম, গোলাম মাওলা, মো. মিজান, মনির ভূঁইয়া, মালেক, রেশমা বেগম ও সালাউদ্দিন আহত হয়েছেন।
বাংলাদেশ জুয়েলারি মালিক সমিতি নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হানিফ উদ্দিন সেলিম বলেন, ঘটনার প্রতিবাদে তাঁরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট আহ্বান করেছেন। ডাকাতদের গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকার উদ্ধার না হলে ধর্মঘট চলবে বলে তিনি জানান।
সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘কী পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুট হয়েছে, তার হিসাব চলছে। পরে বিস্তারিত জানানো যাবে।’

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।