পদ্মা সেতু প্রকল্পে ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংকও (আইডিবি) ও থাকছে না

বিশ্ব ব্যাংকের পর বিভিন্ন দাতা সংস্থার মত ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংকও (আইডিবি) পদ্মা সেতু প্রকল্পে থাকছে না। এ প্রকল্পে প্রধান অর্থদাতা ও দাতাদের সমন¦য়ক বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি বাতিল হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে অন্যান্য সংস্থার পাশাপাশি আইডিবি’র চুক্তিও বাতিল হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব আবুল কালাম আজাদ। বিভিন্ন দাতা সংস্থার স্থানীয় কার্যালয়ের প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ তথ্য জানান।

এছাড়া পদ্মা সেতু প্রকল্পে নতুন কনসোর্টিয়াম গঠনের বিষয়ে বলেন, “এ নিয়ে আলোচনা চলছে।”

রোববার রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় পরামর্শক গ্রুপের (এলসিজি) বৈঠক  হয়। এতে কো-চেয়ারের দায়িত্ব পালন করেন ইআরডির সচিব আবুল কালাম আজাদ এবং  জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচীর (ইউএনডিপি) আবাসিক প্রতিনিধি নীল ওয়াকার।

বৈঠক শেষে ইআরডি সচিব বলেন, “প্রধানত তিনটি বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। প্রথমত, ২০১৩ সালে এসে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর কোনো কৌশলগত পরিবর্তন হয়েছে কি না। এক্ষত্রে দেখা গেছে, প্রকল্প বাস্তবায়নে তাদের তেমন কোনো কৌশলের পরিবর্তন নেই। দ্বিতীয়ত, বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে নীতিগত কোনো  সমস্যা হচ্ছে কি না। এক্ষেত্রে কিছু সমস্যার কথা উঠে এসেছে। সেগুলো নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। তৃতীয়ত, এলসিজি প্লানারী গ্রুপ থেকে কিভাবে ওয়ার্কিং গ্রুপ গুলোকে সহায়তা করা যায়। এক্ষেত্রে একটি ওয়েবসাইট তৈরিসহস বিভিন্ন তথ্য সরবরাহ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।”

পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বৈঠকে একক কোনো প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়নি। প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সামগ্রিকভাবে আলোচনা হয়েছে।” অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ ব্যাপারে বিবৃতির মাধ্যমে বিস্তারিত জানাবেন বলেও মন্তব্য করেন ইআরডি সচিব।

তিনি আরো বলেন, “পদ্মা সেতু ইস্যুতে এই মুহূর্তে কোনো কথা বলতে চাই না।” নতুন করে আইডিবি অর্থায়ন করবে কি না এ ব্যাপারে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত হবে বলেও তিনি জানান।

উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে দূরত্ব কমিয়ে আনতে বাংলাদেশে কর্মরত ৪৩ দাতা সংস্থার স্থানীয় কার্যালয়ের প্রধানদের বৈঠকে ডাকা হয়েছিল। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাপানের সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা), কাউন্সিলর ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফর সাউথ এশিয়া, অস্ট্রেলিয়ান এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমন্ট, কানাডা সরকারের সহযোগিতা সংস্থা-সিডা, ডেনমার্ক সরকারের পক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত প্রতিনিধি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জার্মান সরকারের পক্ষে প্রতিনিধি, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, জাপানের সহযোগিতা সংস্থা-জাইকা, দক্ষিণ কোরিয়া, নেদারল্যান্ড, নরওয়ে, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড এবং  যুক্তরাজ্যের সংযোগিতা সংস্থা -ডিএফআইডি, জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সহকারি মিশন পরিচালকসহ অন্যান্য সংস্থা ও দেশের প্রতিনিধিরা ছিলেন।

সূত্র জানায়, পদ্মা সেতু প্রকল্পে প্রায় সাড়ে ১৪ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দেয়ার চুক্তি করেছিল আইডিবি। এ সংস্থার অর্থায়নে সংযোগ সড়ক প্রকল্পের কাজ অনেক এগিয়ে গিয়েছিল। আইডিবি’র ঋণ পাওয়া যাবে- এ আশায় সরকারি তহবিল থেকে এ খাতে অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।