সমরাস্ত্র কেনা: আইএমএফের ঋণ ছাড় স্থগিত হতে পারে

রাশিয়ার কাছ থেকে ঋণ করে সমরাস্ত্র কেনার সাম্প্রতিক চুক্তির কারণে আবারো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ইন্টারন্যাশনার মানিটরি ফান্ড- আইএমএফের ঋণের দ্বিতীয় কিস্তির ছাড়। আগামী সোমবার সংস্থাটির বোর্ড সভায় এই নিয়ে বিরুপ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে। আইএমএফের এই বর্ধিত ঋণের শর্ত ছিল কঠিন শর্তে ১০০ কোটি ডলারের বেশি ঋণ নেয়া যাবে না। কিন্তু রাশিয়ার কাছ থেকে সমরাস্ত্র কিনতে কঠিন শর্তে দেশটির কাছ থেকেই ১৫০ কোটি ডলার ঋণ নেয়ার চুক্তি করেছে সরকার। চুক্তি অনুসারে ২০১৭ সালের মধ্যে অস্ত্র সরবরাহ শেষ করবে রাশিয়া, আর পরের বছর থেকেই ঋণ পরিশোধ শুরু করবে বাংলাদেশ। গত ১৫ জানুয়ারির ওই চুক্তির পর আইএমএফ এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়কে আপত্তি জানিয়ে চিঠি দেয়। জবাবে সরকার শর্ত শিথিল করার অনুরোধ জানালেও সাড়া দেয়নি সংস্থাটি।

এরইমধ্যে, আগামী সোমবার ওয়াশিংটনে বসছে সংস্থাটির বোর্ড সভা। বাংলাদেশকে মঞ্জুরকৃত বর্ধিত ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি শর্ত ভঙ্গের পরও ছাড় করা হবে কি না- সেই নিয়ে সিদ্ধান্ত আসবে সভা থেকে। সংস্থাটির এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঋণ ছাড় না করার সিদ্ধান্ত আসার আশঙ্কাই বেশি।

এর আগে গত নভেম্বরে এই দ্বিতীয় কিস্তি ছাড় হবার কথা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়েছিল প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক সংস্কার না করার কারণে।

বর্ধিত ঋণসহায়তা (ইসিএফ) কর্মসূচির আওতায় গত এপ্রিলে অনুমোদিত ৯৮ কোটি ৭০ লাখ ডলারের এই ঋণ ৩ বছরে সাত কিস্তিতে বাংলাদেশকে দিচ্ছে আইএমএফ। সুদমুক্ত এই ঋণ পরবর্তী ১০ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

লেনদেন ভারসাম্য নিয়ে সঙ্কটে থাকা বাংলাদেশ সরকার আইএমএফ কাছ থেকে এই ঋণ পেতে এক বছরের বেশি সময় ধরে চেষ্টা করে সফল হয়েছিল। সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, এবং প্রবৃদ্ধির ধারা আরও শক্তিশালী করার কাজে সহযোগিতা দিতেই বাংলাদেশকে এই ঋণ মঞ্জুর করেছিল সংস্থাটি।

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।