জাবি'তে প্রশাসনের অবহেলায় ছাত্রের মৃত্যু, ক্যাম্পাসে উত্তেজনা, ভিসির পদত্যাগ দাবি - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

জাবি’তে প্রশাসনের অবহেলায় ছাত্রের মৃত্যু, ক্যাম্পাসে উত্তেজনা, ভিসির পদত্যাগ দাবি



ঢাকা, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে হৃদরোগ আক্রান্ত এক শিক্ষার্থী প্রশাসনের অবহেলায় মারা যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার, ভিসির বাড়ি, আবাসিক শিক্ষকদের বাসা, রেজিস্ট্রার ভবন ও প্রশাসনিক ভবনে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে। অন্যদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থতা ও মিডিয়ার সামনে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বিভ্রানিন্তকর বক্তব্য প্রদানের অভিযোগ এনেছে বিশ্বিবদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে।

এই অভিযোগে শিক্ষক সমিতি ভিসি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন,  প্রক্টর ড.সোহেল আহমেদ ও প্রক্টরিয়াল বডির সব সদস্যের পদত্যাগ দাবিতে ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে। একই সঙ্গে লাগাতার কর্মবিরতির ঘোষণাও দিয়েছেন শিক্ষকরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার পরিসংখ্যান বিভাগের  ৩৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুল হৃদরোগে আক্রান্ত হন। অর্নাস শেষ বর্ষের শেষ পরীক্ষা দিয়ে হলে আসলে তিনি অসুস্থবোধ করেন। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য এ্যাম্বুলেন্স চেয়ে পেতে দেরি হয়। রাত আটটার দিকে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্য হয়।

আব্দল মালেকের গ্রামের বাড়ী বগুড়া জেলার গাবতলী থানার মিরপুর গ্রামে তার পিতার নাম মমতাজ উদ্দীন । তিনি ৩৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হলেও ক্লাস করতেন ৩৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে।

সূত্র জানায়, আব্দুল মালেকের মৃত্যুর পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এ্যাম্বুলেন্স পেতে দেরী হওয়ার অভিযোগ তুলে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যাম্বুলেন্স এবং মেডিকেল সেন্টারে ব্যাপক ভাঙচুর চালান।

এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা ভিসির বাড়ি, আবাসিক শিক্ষকদের বাসা, রেজিষ্টার ভবন ও প্রশাসনিক ভবনেও হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে।
ভিসি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের জন্য জামায়ত-শিবিরকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর শিবিরের বিরুদ্ধে সব সময় ঐক্যবদ্ধ। সারাদেশ যখন যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে ঐক্যদ্ধ তখন জাহাঙ্গীরনগরের মূল ভবনের সামনে গণজাগরণ মঞ্চে আগুন দেয়া হয়েছে।’

সকাল ৯টায় এক জরুরি সিন্ডিকেট সভায় যথাসময়ে অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহে ব্যর্থতা, চিকিৎসা প্রদানে অবহেলার অভিযোগে মঙ্গলবার রাতে মেডিকেল সেন্টার, ভিসির বাড়িসহ বিভিন্ন ভবন ভাঙচুরের ঘটনায় প্রো-ভিসি অধ্যাপক ফরহাদ হোসেনকে প্রধান করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

এদিকে হামলা-ভাংচুর ও ভিসির বক্তব্যকে কেন্দ্র করে শিক্ষকরাও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। বুধবার দুপুরে শিক্ষক সমিতির জরুরি সাধারণ সভায় ভিসি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, প্রক্টর ড.সোহেল আহমেদ ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের পদত্যাগ দাবিতে ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেয়া হয়।

শিক্ষক সমিতি মঙ্গলবারের ভাঙচুরের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থতা ও মিডিয়ার সামনে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বিভ্রান্তকর বক্তব্য দেয়ার অভিযোগ এনে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পদত্যাগে আল্টিমেটাম দেয়ার পাশাপাশি লাগাতার কর্মবিরতির ঘোষণাও দিয়েছে।

সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক আমির হোসেন  বলেন, ‘মিডিয়ার সামনে আসল ঘটনাকে ভিন্ন খ্যাতে প্রবাহিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি যে বিভ্রান্তকর বক্তব্য দিয়েছেন এ জন্য তাকে পদত্যাগ করতে হবে এবং জাতির সামনে ক্ষমা চাইতে হবে।’

এদিকে পদত্যাগের দাবির মুখে বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনের ডাক দিয়েছেন ভিসি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর

পূর্বের সংবাদ