প্রেস কাবের সামনে সংবাদপত্রের ওপর দমন-পীড়নের প্রতিবাদে প্রতিবাদ সমাবেশে

সংবাদপত্রের ওপর দমন-পীড়নের প্রতিবাদে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে আজ বক্তারা বলেছেন, আওয়ামী লীগ ৭৫ সালে যেভাবে গণমাধ্যমের ওপর নির্যাতন চালিয়েছিল তারই ধারাবাহিকতায় তারা এখনো নিপিড়ন চালাচ্ছে। এই দলটি ৯৬ সালেও ক্ষমতায় এসে গণমাধ্যমের দমন নিপীড়ন চালায়। এই সরকারের আমলে কোন পেশাজীবীই নিরাপদ থাকছে না। তাই তাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেস কাবের সামনে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা এ আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ ফেডারেশন সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএফইউজের মহাসচিব শওকত মাহমুদ, মাওলানা ভাসানী প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. খলিলুর রহমান, আইইবির সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী আ. ন. হ. আকতার হোসেন, চিকিৎসক নেতা প্রফেসর ডা. আবদুল মান্নান মিয়া, ডি ইউজের সভাপতি আবদুস শহীদ কৃষিবিদ হাসান জাহিদ তুহিন, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান, এ্যাবের নেতা ‘প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু, ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ বাকের হোসাইন, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব এম. এ. আজিজ, সাংবাদিক আবদুল আউয়াল ঠাকুর, শিক-কর্মচারী নেতা মোঃ জাকির হোসেন, কবি আবদুল হাই শিকদার, সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম কাগজী, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর রফিকুল ইসলাম, ও ডিইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান। সমাবেশটি পরিচালনা করেন সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সদস্য সচিব ড্যাবের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
সভাপতির বক্তব্যে বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী বলেন, আজ প্রতিবাদ নয়, প্রতিরোধের সময় এসেছে। আওয়ামী লীগ ১৯৭৭৫ ও ৯৬ সালে পত্রিকা বন্ধ করে সে সময় পার পায়নি এবারও পাবে না। গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত পেশাজীবীরা ঘরে ফিরে যাবে না।
তিনি বলেন, সারাদেশে সীমাহীন দুর্নীতি, লুটপাট, কেলেংকারী, সাংবাদিক নির্যাতন, হত্যা, নিপীড়ন চলছে- সেসব নিয়ে কোন মাতামাতি নেই। কোন কথা বলা হচ্ছে না, পদ্মা সেতুর দুর্নীতি নিয়ে। আজ শুধু একটাই কথা বিচার, বিচার আর বিচার। রাস্তায় নেমে এ বিচার চাওয়ার উদ্দেশ্য কি? বিচার তো আদালতই করে দিয়েছে, দিচ্ছে। এসব দাবি তুলে দেশের মানুষকে বোকা বানিয়ে সরকারের ব্যর্থতা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা হচ্ছে। কিন্তু তা এ সরকার পারবে না। এ দেশের মানুষ জেগে উঠলে কোন স্বৈরাচারী, ফ্যাসিবাদ রা পাবে না। জনগণ তাদেরকে রুখে দাঁড়াবেই। তিনি বলেন, মিডিয়ার বিরুদ্ধে আজ গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। হামলা, ভাংচুর হচ্ছে। আগুন দেয়ারও ঘটনা ঘটছে। কিন্তু কারা এসব করছে? রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া কি এসব হচ্ছে? অথচ আজ তাদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। মিডিয়ার ওপর আক্রমণ বন্ধ করতে হবে- অন্যথায় দুর্বার আন্দোলন গড়ে এ ফ্যাসিবাদ সরকারের পতন ঘটানো হবে।
বিএফইউজের মহাসচিব শওকত মাহমুদ বলেন, পেশাজীবী বিদ্বেষী হিসেবে এ সরকারের পরিচিতি বিগত দিনের সরকারের চেয়ে একনম্বর স্থানে। এ সরকারের আমলে সকল পেশার মানুষ খুন হচ্ছে, নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। তিনি বলেন, এ দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের আন্দোলনে সাংবাদিক সমাজের অবদান কম নয়। অথচ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে মিডিয়ার বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মকে উস্কে দেয়া হচ্ছে।
শাহবাগের এই তরুণ প্রজন্ম সাংবাদিকদের ইতিহাস জানে না বলেই মিডিয়ার বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে, তথাকথিত দাবির আওয়াজ তুলছে।
তিনি বলেন, এ সরকার যে সকল মিডিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে সাহবাগ থেকেও একই সূরে সেসব বলা হচ্ছে, পেশাজীবীদের সংগ্রামের ইতিহাসকে বদলে দেবার চেষ্টা চলছে। মিডিয়ার বিরুদ্ধে বিষোদগার বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. খলিলুর রহমান বলেন, শাহবাগের পাতানো খেলা চলছে। নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, তাদেরকে নষ্ট করা হচ্ছে।
প্রফেসর ডা. আবদুল মান্নান মিয়া বলেন, এ সরকার যা করছে তা উত্তরাধিকার সূত্রেই করছে। তারা তাইতো ভিন্নমত দমন করে সে ধারাই অব্যাহত রাখছে।
ডিইউজে সভাপতি আবদুস শহিদ বলেন, আজ দেশে এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে এ ফ্যাসিস্ট সরকার। সব পেশার মানুষই আক্রান্ত হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।